জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

Myicardial Infarction (MI) মানবদেহের একটি মারাত্মক সমস্যা।

  1. ক)

    সিরাম কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    রক্ত তঞ্চন বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সমস্যা সংশ্লিষ্ট অঙ্গের গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সমস্যাটি সৃষ্টির কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রক্ত জমাট বাঁধার পর রক্তপিণ্ড বা ক্লট থেকে নিঃসরিত হালকা হলুদ বর্ণের স্বচ্ছ তরলকে সিরাম বলে। এতে রক্তকণিকা এবং ফাইব্রিনোজেনসহ কিছু ক্লটিং ফ্যাক্টর অনুপস্থিত থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রক্ত তঞ্চন (Blood clotting/coagulation) হলো এমন এক জটিল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে রক্তনালিকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্ত তরল অবস্থা থেকে জেলির মতো থকথকে পিণ্ডে পরিণত হয়ে রক্তপাত বন্ধ করে। এতে রক্তের অণুচক্রিকা এবং বিভিন্ন প্লাজমা প্রোটিন (ক্লটিং ফ্যাক্টর যেমন— ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রম্বিন ইত্যাদি) ও ক্যালসিয়াম আয়ন ধাপে ধাপে ক্যাসকেড প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে ফাইব্রিন জালক তৈরি করে রক্ত জমাট বাঁধায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (MI বা হার্ট অ্যাটাক) সংশ্লিষ্ট অঙ্গটি হলো হৃৎপিণ্ড (Heart)।

    হৃৎপিণ্ডের গঠন:
    ১. আবরণ: হৃৎপিণ্ড দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত। এর বহিঃস্থ প্যারাইটাল এবং অন্তঃস্থ ভিসেরাল স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল তরল থাকে।
    ২. প্রাচীর: হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক হৃৎপেশি (কার্ডিয়াক পেশি) দিয়ে গঠিত এবং এটি তিনটি স্তরে বিভক্ত— এপিকার্ডিয়াম (বাইরের স্তর), মায়োকার্ডিয়াম (মাঝের পুরু স্তর) এবং এন্ডোকার্ডিয়াম (ভেতরের স্তর)।
    ৩. প্রকোষ্ঠ: মানব হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট— উপরে দুটি অলিন্দ (ডান ও বাম অলিন্দ) এবং নিচে দুটি নিলয় (ডান ও বাম নিলয়)।
    ৪. কপাটিকা: হৃৎপিণ্ডে রক্ত একমুখী প্রবাহের জন্য বিভিন্ন কপাটিকা থাকে, যেমন— ট্রাইকাসপিড, বাইকাসপিড (মাইট্ৰাল) এবং সেমিলুনার কপাটিকা।

    হৃৎপিণ্ডের কাজ:
    ১. এটি একটি স্বয়ংক্রিয় পাম্পের মতো কাজ করে সারা দেহে রক্ত সংবহন নিয়ন্ত্রণ করে।
    ২. ডান অলিন্দ ও নিলয় সারা শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত গ্রহণ করে ফুসফুসে পাঠায় পরিশোধনের জন্য।
    ৩. বাম অলিন্দ ও নিলয় ফুসফুস থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত গ্রহণ করে সিস্টেমিক মহাধমনির মাধ্যমে সমগ্র দেহে সরবরাহ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সমস্যাটি হলো মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (Myocardial Infarction বা হার্ট অ্যাটাক)।

    হার্ট অ্যাটাকের কারণ:
    ১. করোনারি অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস: হৃৎপিণ্ডের রক্ত সরবরাহকারী করোনারি ধমনিতে চর্বি, কোলেস্টেরল ইত্যাদির স্তর জমে রক্তনালির পথ সরু হয়ে যাওয়া।
    ২. করোনারি থ্রম্বোসিস: করোনারি ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধার ফলে রক্তপ্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে মায়োকার্ডিয়ামে তীব্র ইস্কেমিয়া ও অক্সিজেনের অভাবে পেশিকলার মৃত্যু ঘটা।
    ৩. ঝুঁকি সৃষ্টিকারী কারণ: উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত মেদ, কায়িক পরিশ্রমের অভাব, মানসিক চাপ ও বংশগত কারণ।

    হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা:
    ১. তাৎক্ষণিক ও প্রাথমিক চিকিৎসা: রোগীকে দ্রুত আরামদায়ক অবস্থায় শুইয়ে দেওয়া, দ্রুত নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে বা ট্যাবলেট জিহ্বার নিচে প্রয়োগ করা, অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ চিবিয়ে খাওয়ানো এবং অক্সিজেন প্রদান করে দ্রুততম সময়ে কার্ডিয়াক সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা।
    ২. ড্রাগ থেরাপি: রক্ত জমাট ভাঙার জন্য থ্রম্বোলাইটিক ওষুধ (যেমন— স্ট্রেপটোকাইনেজ, tPA), রক্ত জমাট প্রতিরোধী (হেপারিন/অ্যাসপিরিন) এবং ব্যথানাশক ওষুধ প্রয়োগ।
    ৩. সার্জিক্যাল বা ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা:
    ক. করোনারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি (PTCA): ক্যাথেটারের মাধ্যমে সরু ধমনিতে বেলুন ফুলিয়ে সংকুচিত পথ প্রশস্ত করা এবং সাধারণত 'স্টেন্ট' (রিং) বসিয়ে পথ উন্মুক্ত রাখা।
    খ. করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফটিং (CABG): অবরুদ্ধ রক্তনালির বিকল্প হিসেবে দেহের অন্য অংশ থেকে নালি (গ্রাফট) এনে নতুন বাইপাস পথ তৈরি করা।
    ৪. প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন: কম কোলেস্টেরলযুক্ত সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা, ধূমপান বর্জন এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন