বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
2.
আমার প্রিয় কবি
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমার প্রিয় কবি
ভূমিকা:
সাহিত্য মানুষের মনের খোরাক যোগায় আর কবিরা হলেন সেই সাহিত্যের প্রাণ। বাংলা সাহিত্যে বহু কালজয়ী কবির আবির্ভাব ঘটেছে। তবে তাঁদের মধ্যে যাঁর সৃষ্টিশীলতা, বৈচিত্র্যময় জীবন এবং দ্রোহ ও প্রেমের সুর আমাকে সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করে, তিনি হলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর কবিতা ও গানের মধ্য দিয়ে তিনি অন্যায়, অবিচার ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাই তিনি আমার সর্বকালের প্রিয় কবি।
জন্ম ও শৈশব:
কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাকনাম ছিল 'দুখু মিয়া'। শৈশবেই পিতৃহারা হয়ে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে তাঁর জীবন শুরু হয়। মক্তবের পাঠ শেষ করে তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন এবং অল্প বয়সেই গান ও নাট্য রচনার অসাধারণ প্রতিভা প্রদর্শন করেন।
শিক্ষা ও বৈচিত্র্যময় জীবন:
দারিদ্র্যের কারণে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বারবার বিঘ্নিত হয়। আসানসোলের এক রুটির দোকানে কাজের ফাঁকে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রফিজউল্লাহর নজরে পড়েন এবং তাঁর সহযোগিতায় ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর হাই স্কুলে ভর্তি হন। পরে আবার রানীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ হাই স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে (১৯১৭) তিনি বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি চলে যান। সেখানে বসেই তাঁর সাহিত্যচর্চার বিকাশ ঘটে।
প্রিয় কবি হওয়ার কারণ:
নজরুল শুধু কল্পনার জগতে বিচরণ করেননি; তিনি বাস্তব জীবনের শোষণ, বৈষম্য, ধর্মান্ধতা ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। তাঁর 'বিদ্রোহী' কবিতা বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য বিপ্লব সৃষ্টি করে। তিনি একাধারে যেমন সাম্যবাদী ও বিপ্লবী, অন্যদিকে গভীর প্রেমের ও ভক্তির কবি। তাঁর রচনায় নারী-পুরুষের সমমর্যাদা এবং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির আহ্বান আমাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে।
সাহিত্যকর্ম:
নজরুলের সাহিত্যিক ব্যাপ্তি সুবিশাল। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে 'অগ্নি-বীণা', 'বিষের বাঁশী', 'ভাঙার গান', 'দোলন-চাঁপা', 'সর্বহারা' ইত্যাদি। এছাড়া উপন্যাস ('বাঁধনহারা', 'মৃত্যুক্ষুধা'), ছোটগল্প, নাটক ও প্রবন্ধে তিনি নিজস্ব প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি বাংলা সংগীতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন; প্রায় চার হাজার গান রচনা ও সুরারোপ করে 'নজরুলগীতি' সৃষ্টি করেন।
উপসংহার:
১৯৪২ সালে মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কবি নির্বাক হয়ে যান। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন এবং জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানবিক মূল্যবোধের চিরন্তন উৎস হিসেবে তিনি যুগ যুগ ধরে আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও