জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
আমাদের শরীরে বক্ষ গহ্বরের উভয় পাশে অসংখ্য বায়ু প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট দুইটি অঙ্গ আছে, তাতে O₂ এবং CO₂ গ্যাস দুইটির বিনিময় ঘটে।
- ক)(1)
অ্যালভিওলাস কী?
- খ)(2)
সাইনুসাইটিস বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের অঙ্গটির গঠন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় গ্যাসটির রক্তে পরিবহন কৌশল ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যকরী একক, যা পাতলা এপিথেলিয়াম দ্বারা গঠিত এবং যেখানে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে, তাকে অ্যালভিওলাস (Alveolus) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাথার খুলিতে নাসাগহ্বরের চারপাশে অবস্থিত কিছু ফাঁপা বায়ুথলি রয়েছে, যেগুলোকে সাইনাস বা প্যারানাসাল সাইনাস বলা হয়। কোনো কারণে এই সাইনাসগুলোর অভ্যন্তরীণ শ্লেষ্মাঝিল্লি বা মিউকাস পর্দায় ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণের ফলে প্রদাহের সৃষ্টি হলে তাকে সাইনুসাইটিস বলে। এর প্রধান লক্ষণ হলো মাথাব্যথা, নাক বন্ধ থাকা ও জ্বর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত অঙ্গটি হলো মানুষের ফুসফুস। নিচে এর গঠন ব্যাখ্যা করা হলো:
১. অবস্থান ও আবরণ: মানবদেহের বক্ষগহ্বরে হৃদপিণ্ডের দুই পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত। ফুসফুস দ্বিস্তরী প্লুরা (pleura) নামক পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে। বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল এবং ভেতরের স্তরটিকে ভিসেরাল স্তর বলে। উভয় স্তরের মাঝে সেরাস ফ্লুইড থাকে যা ঘর্ষণজনিত আঘাত থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করে।
২. বাহ্যিক গঠন: ফুসফুস নরম, স্পঞ্জের মতো এবং ডান ফুসফুসটি ৩টি লোব বা খণ্ডে এবং বাম ফুসফুসটি ২টি লোবে বিভক্ত। ডান ফুসফুসে দুটি ও বাম ফুসফুসে একটি ফিশার থাকে।
৩. ব্রঙ্কিয়াল ট্রি: ট্রাকিয়া বিভক্ত হয়ে দুটি প্রাথমিক ব্রঙ্কাস সৃষ্টি করে ফুসফুসে প্রবেশ করে। এগুলো ফুসফুসের ভেতরে ক্রমাগত শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে সেকেন্ডারি ব্রঙ্কাস, টারশিয়ারি ব্রঙ্কাস, ব্রঙ্কিওল, রেসপিরেটরি ব্রঙ্কিওল, অ্যালভিওলার নালী, অ্যাট্রিয়াম, অ্যালভিওলার থলি এবং শেষ পর্যন্ত সূক্ষ্ম অ্যালভিওলাসে পরিণত হয়।
৪. অ্যালভিওলাস: প্রতিটি ফুসফুসে অসংখ্য পাতলা স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াম দ্বারা গঠিত অ্যালভিওলাস থাকে, যা রক্তজালিকা পরিবেষ্টিত এবং এখানেই মূলত গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দ্বিতীয় গ্যাসটি হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂)। কোষীয় শ্বসনের ফলে সৃষ্ট CO₂ রক্তরস ও লোহিত রক্তকণিকার মাধ্যমে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। রক্তে CO₂ প্রধানত তিনটি উপায়ে পরিবাহিত হয়:
১. ভৌত দ্রবণ রূপে (প্রায় ৫%): রক্তের পানির সাথে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক এসিড (H₂CO₃) হিসেবে খুব সামান্য পরিমাণ (প্রায় ৫%) CO₂ পরিবাহিত হয়:
CO₂ + H₂O ⇌ H₂CO₃২. কার্বামিনো যৌগ রূপে (প্রায় ১০-২৭%): CO₂ লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বামিনো-হিমোগ্লোবিন এবং রক্তরসের প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বামিনো-প্রোটিন গঠন করে পরিবাহিত হয়:
Hb-NH₂ + CO₂ ⇌ Hb-NHCOOH (কার্বামিনো-হিমোগ্লোবিন)
Protein-NH₂ + CO₂ ⇌ Protein-NHCOOH (কার্বামিনো-প্রোটিন)৩. বাইকার্বনেট যৌগ রূপে (প্রায় ৬৫-৮৫%): CO₂-এর অধিকাংশ অংশ বাইকার্বনেট যৌগ হিসেবে পরিবাহিত হয়।
লোহিত কণিকায় কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ এনজাইমের উপস্থিতিতে CO₂ পানির সাথে বিক্রিয়া করে H₂CO₃ গঠন করে, যা দ্রুত বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) ও বাইকার্বনেট আয়ন (HCO₃⁻) উৎপন্ন করে।- সোডিয়াম বাইকার্বনেট (রক্তরসের মাধ্যমে): HCO₃⁻ রক্তরসে এসে Na⁺-এর সাথে যুক্ত হয়ে NaHCO₃ গঠন করে পরিবাহিত হয়। এ সময় তড়িৎ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে লোহিত কণিকায় Cl⁻ আয়নের প্রবেশ ঘটে, যাকে ক্লোরাইড শিফট বা হ্যামবার্গার শিফট বলে।
- পটাসিয়াম বাইকার্বনেট (লোহিত রক্তকণিকার মাধ্যমে): লোহিত কণিকায় কিছু HCO₃⁻ পটাসিয়াম আয়নের (K⁺) সাথে যুক্ত হয়ে KHCO₃ গঠন করে পরিবাহিত হয়।
ফুসফুসে পৌঁছে এ সকল যৌগ ভেঙে মুক্ত গ্যাসীয় CO₂ উৎপন্ন হয় এবং তা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে বাইরে নির্গত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও