পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
অধ্যদেশ জারি করেন কে?
- খ)(2)
এককেন্দ্রিক সরকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রশ্নচিহ্নিত স্থানে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন বিষয়টিকে ইঙ্গিত করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রশ্নচিহ্নিত ? স্থানের বিষয়টি সরকারের অভঙ্গসমূহের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় কী ভূমিকা পালন করে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসনব্যবস্থায় সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের যাবতীয় শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা একটি মাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলা হয়।
এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় কোনো স্বায়ত্তশাসিত বা স্বাধীন প্রাদেশিক সরকার থাকে না। কেন্দ্র থেকে সমগ্র দেশ পরিচালিত হয় এবং শাসনকার্যের সুবিধার জন্য প্রশাসনিক অঞ্চল গঠিত হলেও সেগুলো কেন্দ্রের অধীন ও নির্দেশ মেনে পরিচালিত হয়। যেমন— বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা এককেন্দ্রিক সরকার।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রশ্নচিহ্নিত স্থানে পাঠ্যপুস্তকের সরকারের অন্যতম অঙ্গ 'বিচার বিভাগ'-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সরকারের তিনটি প্রধান অঙ্গের অন্যতম হলো বিচার বিভাগ। উদ্দীপকে উল্লেখিত কাজগুলো— আইনের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ এবং সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে ভূমিকা পালন করা মূলত বিচার বিভাগেরই প্রধান কাজ ও বৈশিষ্ট্য।
বিচার বিভাগ আইন অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি করে এবং আইনের অস্পষ্টতা দূর করে এর যথার্থ ব্যাখ্যা প্রদান করে। কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে নাগরিক বিচার বিভাগের শরণাপন্ন হতে পারে এবং বিচার বিভাগ রিট বা নির্দেশ জারির মাধ্যমে তা নিশ্চিত করে। এছাড়া আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইন বা শাসন বিভাগের কোনো পদক্ষেপ যদি সংবিধানের পরিপন্থী হয়, তবে বিচার বিভাগ বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার (Judicial Review) মাধ্যমে তা বাতিল করে সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে ভূমিকা রাখে। সুতরাং, উদ্দীপকের প্রশ্নচিহ্নিত বিষয়টি বিচার বিভাগকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রশ্নচিহ্নিত 'বিচার বিভাগ' সরকারের অন্যান্য অঙ্গসমূহের (আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ) মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ক্ষমতার ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণ (Checks and Balances): সরকারের তিনটি অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতা যেন এককেন্দ্রীভূত না হয়ে স্বৈরাচারী রূপ নেয়, সেজন্য বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে কাজ করে। শাসন বিভাগ বা আইন বিভাগ যাতে তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে, বিচার বিভাগ সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখে।
২. বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা (Judicial Review): আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন যদি সংবিধানের মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক হয়, বিচার বিভাগ তা অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করতে পারে। এর ফলে আইন বিভাগ স্বেচ্ছাচারী হয়ে সংবিধানবিরোধী আইন প্রণয়ন করতে পারে না।
৩. শাসন বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ: শাসন বিভাগের কোনো কাজ বা আদেশ বেআইনি হলে বিচার বিভাগ তা অবৈধ ঘোষণা করে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা করে এবং শাসন বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করে।
৪. সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা: বিচার বিভাগ সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যাদাতা। শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার বিরোধ দেখা দিলে বিচার বিভাগ সংবিধান অনুযায়ী তার সমাধান দেয় এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, সরকারের তিনটি অঙ্গের পারস্পরিক ভারসাম্য ও নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও