সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১: জালাল সাহেব টিভিতে একটি ডকুমেন্টারি দেখে জানতে পারেন মানব সভ্যতার অন্যতম একটি যুগ সম্পর্কে। এ যুগে এসে মানুষ কৃষি উৎপাদন করতে শিখে ও যাযাবর জীবনের অবসান ঘটায়। ধারালো ও মসৃণ পাথরের হাতিয়ারের ব্যবহার ছিল তাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ।দৃশ্যপট-২: রহমান সাহেব একজন নির্মাণ ঠিকাদার। সাম্প্রতিক সময়ে নির্মাণ কাজে অপরিহার্য ধাতুর আকাশচুম্বি দামে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে। পড়েন। মানব সভ্যতা বিকাশের সর্বশেষ পর্যায়ে এই ধাতুর আবির্ভাব। এই ধাতুর ব্যাপক ব্যবহারের ফলেই শিল্প বিপ্লব সম্ভব হয়েছে।
- ক)(1)
'নবোপলীয় বিপ্লব' কথাটি কে ব্যবহার করেছেন?
- খ)(2)
"আগুনের আবিষ্কার জীবনকে সহজ করে"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যপট-১-এ কোন যুগের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে দৃশ্যপট-২-এর যুগের অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'নবোপলীয় বিপ্লব' (Neolithic Revolution) কথাটি প্রখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক ভি. গর্ডন চাইল্ড (V. Gordon Childe) সর্বপ্রথম ব্যবহার করেছেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আগুনের আবিষ্কার মানব ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন, যা মানুষের প্রতিকূল জীবনকে সহজ ও নিরাপদ করেছে।
আগুনের ব্যবহারের ফলে আদিম মানুষ শীতের হাত থেকে রক্ষা পায়, অন্ধকার গুহায় আলো পায় এবং হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। এছাড়া কাঁচা মাংসের পরিবর্তে মাংস পুড়িয়ে বা রান্না করে খাওয়ার ফলে তাদের খাদ্যাভ্যাস উন্নত হয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস পায়। ফলে আগুনের আবিষ্কার তাদের জীবনধারণকে আগের চেয়ে অনেক সহজ ও সুরক্ষিত করে তোলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-১-এ মানব সভ্যতার 'নব্যপ্রস্তর যুগ' বা 'নবোপলীয় যুগ' (Neolithic Age)-এর কথা বলা হয়েছে।
নব্যপ্রস্তর যুগ হলো মানব সভ্যতার বিবর্তনে এমন একটি স্তর, যেখানে মানুষ শিকার ও খাদ্য সংগ্রহের স্তর থেকে প্রথমবারের মতো খাদ্য উৎপাদনকারী স্তরে প্রবেশ করে। এ যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল কৃষির সূচনা, যা মানুষকে যাযাবর জীবন ছেড়ে স্থায়ী বসতি বা গ্রাম্য সমাজ গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে। একই সাথে পশু পালন শুরু হয়। এ যুগে মানুষ পুরোনো ভোঁতা পাথরের বদলে মসৃণ, ধারালো এবং উপযোগী পাথরের হাতিয়ার ও মাটির পাত্র তৈরি করতে শেখে।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১-এ দেখা যায়, মানুষ কৃষি উৎপাদন করতে শিখে যাযাবর জীবনের অবসান ঘটায় এবং মসৃণ ও ধারালো পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার শুরু করে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি নব্যপ্রস্তর যুগের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২-এ উল্লিখিত ধাতুটি হলো 'লোহা' এবং এর মাধ্যমে 'লৌহ যুগ' (Iron Age)-কে নির্দেশ করা হয়েছে। মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে লৌহ যুগের অবদান অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বৈপ্লবিক।
লৌহ যুগের অবদানসমূহ নিম্নরূপ:
১. কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: লোহার তৈরি লাঙলের ফলা, কোদাল, কাস্তে ইত্যাদির ব্যবহারের ফলে গভীর চাষাবাদ সম্ভব হয়। শক্ত মাটি চাষযোগ্য করায় কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্যে উদ্বৃত্ত তৈরি হয়।
২. যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন: লোহার চাকা ও যন্ত্রাংশ ব্যবহারের ফলে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বাষ্পীয় ইঞ্জিন, রেললাইন ও জাহাজ তৈরিতে লোহার ব্যাপক ব্যবহারের ফলে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সূচনা হয়।
৩. নগর সভ্যতার বিকাশ ও বাণিজ্য: লোহার বহুমুখী ব্যবহারের ফলে বড় বড় নগর গড়ে ওঠে, শিল্পভিত্তিক পেশার প্রসার ঘটে এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিপুল বিস্তার ঘটে।
৪. শিল্প বিপ্লবের ভিত্তি: অষ্টাদশ শতকের শিল্প বিপ্লব মূলত লোহা ও কয়লার সমন্বিত ব্যবহারের ফলেই সফল হয়েছিল। দৃশ্যপটে যেমন উল্লেখ রয়েছে—নির্মাণ সামগ্রী, কলকারখানা, সেতু এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির মূল ভিত্তিই হলো লোহা ও ইস্পাত।সুতরাং, দৃশ্যপট-২-এ নির্দেশিত লৌহ যুগ আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্প বিপ্লবের পথ সুগম করে মানব সভ্যতাকে বর্তমান আধুনিক অবস্থানে পৌঁছে দিতে সর্বাধিক ভূমিকা পালন করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও