বাংলা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
Question
11.1.
(ক) নারীশিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে বাবা ও মেয়ের সংলাপ রচনা করো।
11.2.
অথবা, (খ) 'এক বিকেল' শিরোনামে একটি খুদেগল্প রচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১১.১. (ক) নারীশিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে বাবা ও মেয়ের সংলাপ:
স্থান: বসার ঘর
চরিত্র: বাবা (আহমদ সাহেব) ও মেয়ে (সাদিয়া)
সাদিয়া: বাবা, একটা বিষয়ে তোমার সাথে কথা বলতে পারি?
বাবা: হ্যাঁ মা, নিশ্চয়ই। বলো, কী বলবে?
সাদিয়া: বাবা, আমাদের ক্লাসের সুমাইয়ার বাবা নাকি ওর পড়ালেখা বন্ধ করে বিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। এটা শুনে খুব খারাপ লাগছে।
বাবা: সত্যিই খুব দুঃখজনক কথা। আমাদের সমাজের অনেকেই এখনও নারীশিক্ষার গুরুত্ব সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন না।
সাদিয়া: সেটাই তো বাবা! দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। নারীদের পিছিয়ে রেখে কি কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে?
বাবা: একদম ঠিক বলেছ মা। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন—"আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।" একজন শিক্ষিত নারী শুধু নিজের ভাগ্যই পরিবর্তন করেন না, পুরো পরিবার ও সমাজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন।
সাদিয়া: ঠিক বলেছ বাবা। একজন শিক্ষিত মা তাঁর সন্তানকে উপযুক্ত শিক্ষায় বড় করতে পারেন এবং পরিবারকে সচেতন রাখতে পারেন।
বাবা: শুধু তা-ই নয়, নারীশিক্ষার মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়, যা পরিবার ও রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখে। পাশাপাশি তাদের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।
সাদিয়া: তাহলে সুমাইয়ার বাবাকে বিষয়টি কে বোঝাবে?
বাবা: চিন্তা কোরো না মা। আমি আজই সুমাইয়ার বাবার সাথে দেখা করব এবং তাঁকে নারীশিক্ষার গুরুত্ব ও এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বুঝিয়ে বলব। সুমাইয়ার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আমি তাঁকে আশ্বস্ত করব।
সাদিয়া: অনেক ধন্যবাদ বাবা! তুমি আসলেই সেরা!
বাবা: তোমাকে ধন্যবাদ মা, এত সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে চিন্তা করার জন্য।
অথবা,
১১.২. (খ) 'এক বিকেল' শিরোনামে একটি খুদেগল্প:
এক বিকেল
আকাশের কোণে রক্তিম আভা ছড়িয়ে সূর্যটা তখন কেবল হেলে পড়েছে। মৃদুমন্দ দখিনা বাতাসে গাছের পাতায় পাতায় এক মৃদু সুরের দোলা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ব্যস্ত দিনগুলোর ফাঁকে বহুদিন পর সেদিন বিকেলে রমনা পার্কের একটা গাছের ছায়ায় বসেছিল আকাশ। চারপাশে মানুষের কোলাহল, শিশুদের ছুটোছুটি আর পাখির ঘরে ফেরার ডাক—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত শান্তিময় পরিবেশ।
হঠাৎ আকাশের নজর পড়ল দূরে কাঠের বেঞ্চে বসে থাকা এক অশীতিপর বৃদ্ধের ওপর। পরনে সাধারণ ফতুয়া, চোখের কোণে জমে থাকা শ্রান্তি। তাঁর সামনে খোলা একটি পুরোনো অ্যালবাম। আকাশ কৌতূহল সংবরণ করতে না পেরে ধীরে ধীরে গিয়ে বৃদ্ধের পাশে বসল। মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করল, "দাদু, কার ছবি দেখছেন?"
বৃদ্ধ চশমার ফাঁক দিয়ে তাকালেন, তারপর মৃদু হেসে বললেন, "আমার ফেলে আসা জীবনের ছবি ভাই। আমার স্ত্রী, সন্তান... একসময় এই বিকেলেই আমরা সবাই একসাথে পার্কে আসতাম। আজ তারা যে যার মতো ব্যস্ত, বিদেশে থাকে। শুধু স্মৃতিগুলোই আমার সাথে বেঁচে আছে।"
বৃদ্ধের ভেজা চোখের কোণে এক অদ্ভুত শূন্যতা আর দীর্ঘশ্বাস দেখতে পেল আকাশ। সে অনুভব করল, জীবনের এই প্রান্তে এসে একজন মানুষ কেবল একটুখানি সঙ্গ ও ভালোবাসার কাঙাল হয়। আকাশ বৃদ্ধের হাতটি আলতো করে ধরে বলল, "দাদু, আজ পুরো বিকেলটা আমি আপনার গল্প শুনব। বলবেন আপনার সেই দিনগুলোর কথা?"
বৃদ্ধের চোখে মুহূর্তেই আলো জ্বলে উঠল। মুখে ফুটে উঠল এক অপার্থিব তৃপ্তির হাসি। গোধূলির রক্তিম আলোয় শুরু হলো জীবনের ফেলে আসা স্মৃতি রোমন্থন। আকাশ মুগ্ধ হয়ে শুনতে লাগল এক জীবনের না-বলা গল্প। বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নেমে এল, কিন্তু আকাশের মনের ভেতর সেই বিকেলটি এক নতুন অনুভূতির জন্ম দিয়ে গেল—ভালোবাসা আর একটুখানি সহমর্মিতাই পারে নিঃসঙ্গ জীবনের বিষাদ ভুলিয়ে দিতে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও