ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
মারিয়াম ফ্যাশন এর উদ্যোক্তা জান্নাতুল তানজিনা। মোট পাঁচজন কর্মী দিয়ে তিনি সেলাই ও বিক্রয়ের কাজ পরিচালনা করেন। কর্মীদের নির্দেশনা প্রদানের সময় তিনি সবাইকে নিয়ে। একটি সাধারণ সভা আয়োজন করেন। সাধারণ সভায় সকলের সাথে তার নির্দেশনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং মত বিনিময় করেন। সকলের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই তিনি সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। আলোচনাকালে তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তাদের সামনে উপস্থাপন করেন।
- ক)(1)
নেতৃত্ব কাকে বলে?
- খ)(2)
একজন আদর্শ নেতার ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা থাকতে হয় কেন? ব্যাখ্যা করো। ২
- গ)(3)
জান্নাতুল তানজিনার নির্দেশনার ধরনটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
এরূপ নির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে? তোমার মতামত তুলে ধরো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য কর্মীদের প্রভাবিত ও পরিচালিত করার প্রক্রিয়া বা কৌশলকে নেতৃত্ব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবসা ও সাংগঠনিক পরিবেশ সবসময় অনিশ্চয়তা এবং পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত থাকে। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত প্রতিকূলতা বা ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। যদি নেতার ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা ও সাহস না থাকে, তবে প্রতিষ্ঠান নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে পারে না এবং প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। এজন্য সম্ভাব্য ক্ষতির ঝুঁকি মেনে নিয়ে দূরদর্শিতার সাথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একজন আদর্শ নেতার ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা থাকা আবশ্যক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জান্নাতুল তানজিনার নির্দেশনার ধরনটি হলো অংশগ্রহণমূলক বা গণতান্ত্রিক নির্দেশনা।
যে নির্দেশনা পদ্ধতিতে নেতা এককভাবে আদেশ জারি না করে অধীনস্তদের সাথে আলাপ-আলোচনা, মতবিনিময় এবং তাদের পরামর্শ গ্রহণ করে নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তাকে অংশগ্রহণমূলক বা গণতান্ত্রিক নির্দেশনা বলা হয়। এতে কর্মীদের মনোবল ও কাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'মারিয়াম ফ্যাশন'-এর উদ্যোক্তা জান্নাতুল তানজিনা পাঁচজন কর্মীকে নির্দেশনা দেওয়ার পূর্বে একটি সাধারণ সভার আয়োজন করেন। সেখানে তিনি নির্দেশনার বিষয়গুলো নিয়ে সবার সাথে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন এবং সবার মতামতের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। অধস্তনদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করায় তানজিনার নির্দেশনার ধরনটি সুস্পষ্টভাবেই গণতান্ত্রিক বা অংশগ্রহণমূলক নির্দেশনা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এরূপ অংশগ্রহণমূলক বা গণতান্ত্রিক নির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধানত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব, মতবিরোধ এবং গোপনীয়তা ভঙ্গের মতো সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
গণতান্ত্রিক নির্দেশনার অনেক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এর কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিচে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো তুলে ধরা হলো:
১. সিদ্ধান্ত গ্রহণে অযথা বিলম্ব: সবার সাথে আলোচনা ও মতবিনিময় করতে প্রচুর সময় ব্যয় হয়। জরুরি বা তাৎক্ষণিক পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হলে এই পদ্ধতি কার্যকর হয় না।
২. শৃঙ্খলা ও মতবিরোধের সৃষ্টি: সবার মতামত সবসময় একরকম হয় না। ভিন্ন মতামতের কারণে কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি, তর্ক-বিতর্ক ও অনৈক্য সৃষ্টি হতে পারে।
৩. অদক্ষ কর্মীদের অসংগত মতামত: কর্মীরা যদি পর্যাপ্ত অভিজ্ঞ বা দূরদর্শী না হন, তবে তাদের মতামত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
৪. গোপনীয়তা বজায় রাখার সমস্যা: উন্মুক্ত সভায় আলোচনা করায় প্রতিষ্ঠানের অনেক সংবেদনশীল ও কৌশলগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৫. নেতার কর্তৃত্ব দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা: বারবার কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে নেতা নিজের নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হতে পারেন।সুতরাং, মারিয়াম ফ্যাশনের মতো ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের পরামর্শমূলক নির্দেশনায় সিদ্ধান্তহীনতা ও সময়ের অপচয়জনিত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও