ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মহনপুর গ্রামের ২৫ জন যুবক মিলে আইনসম্মতভাবে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানটির ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাইক্রোক্রেডিট প্রোগ্রাম, গরুর খামার প্রকল্প এবং বিভিন্ন মৌসুমের পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের কার্যক্রমে যুক্ত হন। মহনপুরের এই প্রতিষ্ঠানটি ১০ টাকা মূল্যের ২০,০০০ শেয়ারে বিভক্ত। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠান লাভজনক হবে মনে করে জনাব জামাল নামক একজন সদস্য ৫০,০০০ টাকার শেয়ার ক্রয় করার আগ্রহ পোষণ করেন।
- ক)(1)
জাতীয় সমবায় সমিতি কী?
- খ)(2)
সমবায়ের শেয়ার ক্রয় সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের সমবায় সংগঠন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে জনাব জামালের শেয়ার ক্রয়ের সিদ্ধান্তের যুক্তি দাও
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সমবায় সমিতির কার্যক্ষেত্র সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে বিস্তৃত এবং যার সদস্য কেবল বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি, তাকে জাতীয় সমবায় সমিতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমবায় আইন অনুযায়ী কোনো একক সদস্য একটি সমবায় সমিতির সর্বমোট শেয়ার মূলধনের সর্বোচ্চ এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশের বেশি শেয়ার ক্রয় করতে পারে না।
সমবায় সমিতির মূল উদ্দেশ্য সদস্যদের পারস্পরিক কল্যাণ ও সমতা নিশ্চিত করা, মুনাফা অর্জন বা পুঁজিবাদী একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নয়। যদি কোনো একক সদস্যকে ইচ্ছেমতো শেয়ার কেনার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে প্রতিষ্ঠানে তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তাই সমবায়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রাধান্য বা একচেটিয়া প্রভাব খর্ব করার উদ্দেশ্যে আইনগতভাবেই শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই ২০% বা এক-পঞ্চমাংশের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি একটি 'বহুমুখী সমবায় সমিতি' (Multipurpose Co-operative Society)।
যে সমবায় সমিতি সদস্যদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণে একক কোনো উদ্দেশ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একাধিক উদ্দেশ্য ও বহুমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড (যেমন—ঋণদান, উৎপাদন, খামার পরিচালনা, বিপণন ইত্যাদি) একসাথে পরিচালনা করে, তাকে বহুমুখী সমবায় সমিতি বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মহনপুর গ্রামের ২৫ জন যুবক মিলে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটির কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা একক কোনো কাজে সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিষ্ঠানটি একই সাথে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম (মাইক্রোক্রেডিট প্রোগ্রাম), গরুর খামার প্রকল্প এবং বিভিন্ন মৌসুমী পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের মতো একাধিক অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। যেহেতু প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম বহুমুখী, তাই উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে এটি একটি বহুমুখী সমবায় সমিতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে জনাব জামালের ৫০,০০০ টাকার শেয়ার ক্রয়ের সিদ্ধান্তটি প্রচলিত সমবায় আইনের বিধান অনুযায়ী আইনসম্মত নয়, তাই তা গ্রহণযোগ্য বা যৌক্তিক হতে পারে না।
বাংলাদেশ সমবায় সমিতি আইন অনুযায়ী, কোনো সমবায় সমিতির একজন একক সদস্য মোট পরিশোধিত বা অনুমোদিত শেয়ার মূলধনের সর্বোচ্চ এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশের বেশি শেয়ার ক্রয় করতে পারেন না। সমিতির মূলনীতি 'সকলের তরে সকলে আমরা' এবং গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এই আইনি সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
উদ্দীপকে মহনপুরের প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ার সংখ্যা ২০,০০০টি এবং প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১০ টাকা। ফলে প্রতিষ্ঠানটির সর্বমোট শেয়ার মূলধন হলো (২০,০০০ × ১০) = ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা।
আইন অনুযায়ী জনাব জামাল সর্বোচ্চ ক্রয় করতে পারবেন মোট মূলধনের এক-পঞ্চমাংশ বা ২০%, যা হলো (২,০০,০০০ × ১/৫) = ৪০,০০০ টাকা সমমূল্যের শেয়ার (বা ৪,০০০টি শেয়ার)। কিন্তু জনাব জামাল ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক হবে ভেবে ৫০,০০০ টাকার শেয়ার ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা মোট মূলধনের ২৫% [ (৫০,০০০ ÷ ২,০০,০০০) × ১০০ = ২৫%]।যেহেতু তার কাঙ্ক্ষিত শেয়ারের পরিমাণ আইন নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা (২০% বা ৪০,০০০ টাকা) অতিক্রম করেছে, সেহেতু সমবায় সমিতি আইন অনুসারে তিনি কোনোভাবেই ৫০,০০০ টাকার শেয়ার ক্রয় করতে পারবেন না। সুতরাং, তার অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ৫০,০০০ টাকার শেয়ার কেনার সিদ্ধান্তটি আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে অযৌক্তিক ও বাতিলযোগ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও