অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
দেশের উন্নয়নকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে ঘূপকল্প ২০২১' নামে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকার ২০১১-২০১৫ সময়সীমার আরো একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরিকল্পনার উদ্দেশ্যের মধ্যে দারিদ্র্যবিমোচনসহ সকল সেক্টরের উন্নতি সাধনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করে।
- ক)(1)
উন্নয়ন পরিকল্পনা কী?
- খ)(2)
'পরিকল্পনা ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত রূপকল্পটি কোন ধরনের পরিকল্পনাকে নির্দেশ করে? এ ধরনের পরিকল্পনার প্রয়োজন হয় কেন ?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত পরিকল্পনা দুটি দেশের দারিদ্র্যবিমোচনে কতটুকু অগ্রগতি অর্জন করেছে? মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের সুনির্দিষ্ট কিছু আর্থ-সামাজিক লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ে অর্থনৈতিক সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের পূর্বপরিকল্পিত কর্মসূচিকে উন্নয়ন পরিকল্পনা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, দিকনির্দেশনা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ প্রয়োজন। পরিকল্পনাহীনভাবে সম্পদ ব্যয় করলে অপচয় বৃদ্ধি পায় এবং সুষম উন্নয়ন ব্যাহত হয়। তাই সম্পদ বণ্টন, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সঠিক বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'রূপকল্প ২০২১' একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনাকে (Perspective Plan) নির্দেশ করে।
এ ধরনের পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা:
১. দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প ও লক্ষ্য নির্ধারণ: দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় লক্ষ্য (যেমন: স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর) স্থির করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অপরিহার্য।
২. মধ্য ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার পথনির্দেশনা: পঞ্চবার্ষিক বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসমূহ যাতে একটি সমন্বিত লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত হতে পারে, তার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোর প্রয়োজন হয়।
৩. টেকসই আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্যবিমোচন ও বৃহৎ অবকাঠামোগত পরিবর্তনের ফলাফল স্বল্প সময়ে দৃশ্যমান হয় না, এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত পরিকল্পনা দুটি হলো দীর্ঘমেয়াদি 'রূপকল্প ২০২১' এবং মধ্যমেয়াদি 'ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-২০১৫)'। দেশের দারিদ্র্যবিমোচনে এ পরিকল্পনা দুটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ও ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
মূল্যায়ন:
১. দারিদ্র্যের হার হ্রাস: এ পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। ২০১০ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল যেখানে ৩১.৫%, সেখানে ২০১৬ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী তা ২৪.৩%-এ নেমে আসে এবং অতিদারিদ্র্যের হার কমে প্রায় ১২.৯% হয়।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধি: কৃষি ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, যা নিম্নবিত্ত মানুষের আয় বাড়াতে সাহায্য করেছে।
৩. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: দারিদ্র্যপীড়িত গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ওএমএস এবং খাদ্য সহায়তার মতো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা অনেক বাড়ানো হয়।সুতরাং, উল্লিখিত পরিকল্পনা দুটির সমন্বিত প্রয়োগের ফলে দারিদ্র্যবিমোচনে দেশ লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয় এবং মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার ভিত্তি সুদৃঢ় করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও