ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. শহীদ তার কারখানায় পাঁচটি মেশিনের সাহায্যে মাসে ৯,০০০ পিস বৈদ্যুতিক পাখা উৎপাদন করেন। কারখানাটিতে প্রতিটি মেশিনের উৎপাদন ক্ষমতা একই রকম। তিনি কারখানাটিতে মাসে ৩০ দিন উৎপাদন করেন। প্রতিটি মেশিনের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১০ ঘন্টা। মি. শহীদ প্রতিদিন উৎপাদন কার্যক্রম দেখেন ও হিসাব রাখেন এবং কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
- ক)(1)
ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়ার সর্বশেষ কাজ কোনটি?
- খ)(2)
"নিয়ন্ত্রণ একটি অবিরাম প্রক্রিয়া"- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সময়ের ভিত্তিতে প্রতিটি মেশিনের উৎপাদনের আদর্শ মান কত?
- ঘ)(4)
"নিয়ন্ত্রণ কার্যপরিকল্পনার উপর নির্ভরশীল"- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার সর্বশেষ কাজ হলো নিয়ন্ত্রণ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিয়ন্ত্রণ হলো একটি চলমান বা নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া, কারণ এটি কোনো নির্দিষ্ট সময় পর শেষ হয়ে যায় না।
প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রণয়নের পর থেকে তা বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, আদর্শ মানের সাথে তুলনা এবং বিচ্যুতি চিহ্নিত করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। একটি সংশোধনমূলক ব্যবস্থা পরবর্তী নতুন পরিকল্পনার ভিত্তি রচনা করে, যার ফলে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু হয়। ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলমান থাকা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের কাজও চক্রাকারে চলতে থাকে বলে নিয়ন্ত্রণকে একটি অবিরাম বা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী, সময়ের ভিত্তিতে প্রতিটি মেশিনের উৎপাদনের আদর্শ মান হলো ঘণ্টায় ৬ পিস বৈদ্যুতিক পাখা।
নিচে এর গাণিতিক হিসাব তুলে ধরা হলো:
- মোট মেশিনের সংখ্যা = ৫টি
- মাসে মোট কার্যদিবস = ৩০ দিন
- দৈনিক একটি মেশিনের কর্মঘণ্টা = ১০ ঘণ্টা
- অতএব, ১ মাসে ১টি মেশিনের মোট কর্মঘণ্টা = (৩০ × ১০) = ৩০০ ঘণ্টা
- তাহলে, ১ মাসে ৫টি মেশিনের মোট কর্মঘণ্টা = (৩০০ × ৫) = ১,৫০০ ঘণ্টা
- ৫টি মেশিনের ১ মাসের মোট উৎপাদন = ৯,০০০ পিস
সুতরাং, ঘণ্টাপ্রতি উৎপাদন (আদর্শ মান) = মোট উৎপাদন ÷ মোট কর্মঘণ্টা
= ৯,০০০ ÷ ১,৫০০
= ৬ পিস/ঘণ্টা।অতএব, প্রতিটি মেশিনের সময়ের ভিত্তিতে উৎপাদনের আদর্শ মান হলো প্রতি ঘণ্টায় ৬ পিস বৈদ্যুতিক পাখা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"নিয়ন্ত্রণ কার্যপরিকল্পনার উপর নির্ভরশীল"—উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যতের একটি নীল নকশা বা অগ্রিম সিদ্ধান্ত, আর নিয়ন্ত্রণ হলো গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্য সম্পাদিত হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ, বিচ্যুতি নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কোনো আদর্শ মান বা পরিকল্পনা না থাকলে কর্মক্ষমতা পরিমাপ বা মূল্যায়ন অসম্ভব, তাই পরিকল্পনাকে নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি বা নিয়ন্ত্রণের চোখ বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. শহীদ ৫টি মেশিন দিয়ে ৩০ দিনে ৯,০০০ পিস বৈদ্যুতিক পাখা উৎপাদনের একটি পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য বা পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছেন, যার ভিত্তিতে প্রতিটি মেশিনের ঘণ্টাপ্রতি উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারিত হয়েছে। তিনি প্রতিদিন কর্মীদের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন, হিসাব রাখেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এই পর্যবেক্ষণ ও হিসাব রাখা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যের (পরিকল্পনার) সাথে তুলনা করা সম্ভব হয়।
পরিকল্পিত লক্ষ্যমাত্রা না থাকলে মি. শহীদ বুঝতে পারতেন না যে প্রতিদিনের উৎপাদন কম না বেশি হচ্ছে। সুতরাং, নিয়ন্ত্রণের প্রতিটি পদক্ষেপ পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে। অতএব, উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটেও উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও