সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
সহপাঠ প্রশ্ন
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের 'বীতংস' গল্পে আসামের চা-বাগানে যেখানে দলে দলে লোক কালাজ্বরে মরে, মজুর খাটতেও লোক সেখানে যেতে চায় না; সেখানে কুলি যোগান সমস্যা নিরসনে সাঁওতাল পরগনার অশিক্ষিত, অসহায়, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষকে সুন্দরলাল তার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য শিংবোঙার দৈববাণীকে কাজে লাগায়।
- ক)(1)
সাত ছেলের বাপের নাম কী?
- খ)(2)
'দুনিয়াটা বড় বিচিত্র জায়গা'- কথাটি কখন এবং কোন প্রসঙ্গে করা হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের দৈববাণীর সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের কীসের সাদৃশ্য রয়েছে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাঁওতাল পরগনার মানুষগুলো যেন 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামবাসীর প্রতিনিধিত্ব করে। মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লালসালু' উপন্যাসে সাত ছেলের বাপের নাম দুদু মিয়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'দুনিয়াটা বড় বিচিত্র জায়গা'—কথাটি মজিদ জমিলা সম্পর্কে নিজের মনে চিন্তা করতে গিয়ে বলেছিল।
দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে জমিলাকে ঘরে তোলার পর মজিদ ভেবেছিল সে অনুগত ও শান্ত হবে। কিন্তু জমিলার অবাধ্যতা, চঞ্চলতা এবং মজিদের ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতি উদাসীনতা মজিদকে বিস্মিত ও হতবাক করে দেয়। জমিলার এমন অপ্রত্যাশিত আচরণ দেখে মজিদ বিচলিত হয়ে এই উক্তিটি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শিংবোঙার দৈববাণীর সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের ভণ্ড ধর্মীয় ভীতি ও মোদাচ্ছের পীরের মাজার কেন্দ্রিক প্রতারণার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উপন্যাসে দেখা যায়, স্বার্থান্ধ মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে নিজের প্রভাব বিস্তার ও জীবিকা নিশ্চিত করার জন্য একটি অজ্ঞাত কবরকে 'মোদাচ্ছের পীরের মাজার' বলে প্রচার করে। সে গ্রামবাসীকে খোদার গজবের ভয় দেখিয়ে এবং ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, সুন্দরলাল তার অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য নিরীহ সাঁওতালদের ধর্মবিশ্বাস ও তাদের দেবতা শিংবোঙার নাম ভাঙিয়ে মিথ্যা দৈববাণীর অপব্যবহার করেছে। উভয়েই সাধারণ ও সরল মানুষদের ধর্মের নাম দিয়ে শোষণ করেছে। সুতরাং, মানুষকে কুসংস্কারের ফাঁদে ফেলতে যে মিথ্যা আধ্যাত্মিক ছলনার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, সেদিক থেকে উদ্দীপকের দৈববাণী 'লালসালু' উপন্যাসের মাজার ও মজিদের ভণ্ডামির অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাঁওতাল পরগনার মানুষগুলো যেন 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামবাসীর প্রতিনিধিত্ব করে—মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ ধর্মভীরু হলেও চরম অশিক্ষিত, কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং অন্ধবিশ্বাসী। ধর্মের প্রকৃত মর্ম না জানায় তারা মজিদের মতো এক ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ীর মিথ্যা দাবি ও মোদাচ্ছের পীরের মাজারকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে এবং শোষিত হতে থাকে।
উদ্দীপকের সাঁওতাল পরগনার মানুষগুলোও একইভাবে অশিক্ষিত, অসহায় ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত। সুন্দরলাল তাদের এই অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেবতা শিংবোঙার দৈববাণীর কথা বলে তাদের আসামের মৃত্যুপুরী তুল্য চা-বাগানে মজুর হিসেবে পাঠায়। সাঁওতালরা তাদের সরল বিশ্বাসে এই প্রতারণা ধরতে পারেনি, ঠিক যেমন মহব্বতনগরের অধিবাসীরা মজিদের ধর্মীয় মুখোশের পেছনের শোষক চরিত্রটি চিনতে পারেনি। উভয় শ্রেণির মানুষই কুসংস্কার ও অজ্ঞতার কারণে প্রতারকদের হাতে ব্যবহৃত ও নির্যাতিত হয়েছে। অতএব, সাঁওতালরা সার্বিক দিক দিয়ে মহব্বতনগর গ্রামবাসীরই প্রতিফলন ঘটায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও