অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প উৎপাদনে নানা রকম কারণে মানুষ নদীর বাঁধ এবং পাকা সড়কের উপরে আশ্রয় নেয়। রাসায়নিকের ব্যবহার বেড়েই চলছে। সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে।
- ক)(1)
নিরাপদ খাদ্য কী?
- খ)(2)
মজুদের উপর খাদ্য নিরাপত্তা নির্ভর করে, ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী করা উচিৎ বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিরাপদ খাদ্য বলতে এমন খাদ্যকে বোঝায় যা ক্ষতিকর রাসায়নিক, রোগজীবাণু বা ভেজালমুক্ত এবং মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের জন্য সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত ও পুষ্টিকর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্যের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা ও সংকটকালে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে খাদ্যশস্যের সরকারি ও বেসরকারি মজুদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খরা বা বন্যার কারণে ফসলের ক্ষতি হলে অথবা বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখা দিলে মজুতকৃত খাদ্য দ্রুত বাজারে সরবরাহ করে মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। ফলে পর্যাপ্ত মজুদের উপর দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভর করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক ও বাস্তব অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষিজমির হ্রাস, পরিবেশ দূষণ এবং অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিকের ব্যবহার।
উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে যে, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মানুষ বাঁধ ও সড়কে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগের ফলে ফসলহানি ঘটে এবং খাদ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি কৃষি ও শিল্পোৎপাদনে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার জমির উর্বরতা নষ্ট করে এবং খাদ্যকে বিষাক্ত ও অনিরাপদ করে তোলে। এছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মজুদদারি ও সিন্ডিকেটের কারণেও খাদ্যের লভ্যতা ও ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে খাদ্যের তিনটি দিক—প্রাপ্যতা, ক্রয়ক্ষমতা এবং পুষ্টিমান বা সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আবশ্যক। আমার মতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা উচিত:
১. কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন: প্রতিকূল পরিবেশসহিষ্ণু (বন্যা ও লবণাক্ততাসহিষ্ণু) উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন এবং চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়াতে হবে।
২. নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন: ফসলে ক্ষতিকর কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং জৈব কৃষিকে উৎসাহিত করতে হবে।
৩. মজুত ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন: প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন সংকট মোকাবিলার জন্য আধুনিক শস্য গুদাম ও সাইলো নির্মাণ করে সরকারি বাফার স্টক বৃদ্ধি করতে হবে।
৪. বাজার তদারকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ: মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস করে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছাতে বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে হবে।
৫. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: দুর্যোগপীড়িত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ওএমএস কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।সুতরাং, সমন্বিত নীতি গ্রহণ ও উদ্দীপকে উল্লেখিত দুর্যোগ ও রাসায়নিক ব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলা করলেই টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও