অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    অভিবাসন কী?

    (1)
  2. খ)

    "জনসংখ্যা বৃদ্ধি খাদ্য সমস্যা সৃষ্টি করে" - ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে সংগতিপূর্ণ জনসংখ্যা তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকে উল্লিখিত তত্ত্বটি কতটুকু কার্যকর? মূলায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক এলাকা বা দেশ ছেড়ে অন্য কোনো এলাকা বা দেশে গমন ও বসবাসকে অভিবাসন (Migration) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য বাড়তি খাদ্যের চাহিদা সৃষ্টি হয়। কিন্তু ভূমির পরিমাণ সীমিত এবং কৃষিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর হওয়ায় জনসংখ্যা যে হারে বাড়ে, খাদ্য উৎপাদন সে হারে বাড়ানো সম্ভব হয় না। ফলে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাহিদার তুলনায় খাদ্য সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয় এবং দেশে তীব্র খাদ্য সমস্যার সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত জনসংখ্যা তত্ত্বটি হলো ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ থমাস রবার্ট ম্যালথাসের 'জনসংখ্যা তত্ত্ব'।

    ১৭৯৮ সালে প্রকাশিত 'An Essay on the Principle of Population' গ্রন্থে তিনি এ তত্ত্বটি প্রদান করেন। তত্ত্বটির মূল বক্তব্য নিম্নরূপ:
    ১. জনসংখ্যা বৃদ্ধি: কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা না থাকলে জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২...) বৃদ্ধি পায় এবং প্রতি ২৫ বছরে দ্বিগুণ হয়। উদ্দীপকের বাম পাশের ছকে এই ধারাটি দেখানো হয়েছে।
    ২. খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি: জমিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর থাকায় খাদ্য উৎপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫...)। উদ্দীপকের ডান পাশের ছকে এটি প্রদর্শিত হয়েছে।
    ৩. ভারসাম্যহীনতা ও জনাধিক্য: খাদ্য উৎপাদনের তুলনায় জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির ফলে দেশে খাদ্য ঘাটতি ও জনাধিক্য দেখা দেয়।
    ৪. ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা: ম্যালথাসের মতে, এই অতিরিক্ত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মানুষ যদি সচেতনভাবে 'প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা' (দেরিতে বিবাহ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি) গ্রহণ না করে, তবে 'প্রাকৃতিক নিরোধ' (মহামারি, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ ইত্যাদি)-এর মাধ্যমে প্রকৃতি স্বয়ং জনসংখ্যার সাথে খাদ্যের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি আংশিক কার্যকর হলেও পুরোপুরি কার্যকর নয়। নিচে এর মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হলো:

    তত্ত্বটির কার্যকারিতার দিক:
    ১. উচ্চ জনসংখ্যা ও সীমিত জমি: বাংলাদেশে সীমিত আয়তনের ভূমির তুলনায় জনসংখ্যা অত্যধিক। কৃষিযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।
    ২. প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও মহামারির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়ই ফসলহানি ও প্রাণহানি ঘটে, যা ম্যালথাসের প্রাকৃতিক নিরোধ ধারণার সাথে কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    তত্ত্বটির অকার্যকারিতার দিক:
    ১. খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লব: আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উচ্চফলনশীল (উফশী ও হাইব্রিড) বীজ, রাসায়নিক সার ও সেচ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন গাণিতিক হারের চেয়ে বহু গুণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে।
    ২. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস: শিক্ষা, সচেতনতা এবং পরিবার পরিকল্পনার প্রসারের ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার পূর্বের তুলনায় অনেক কমেছে (বর্তমানে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১.২২%)। ফলে জনসংখ্যা ম্যালথাসের বর্ণিত জ্যামিতিক হারে দ্বিগুণ হচ্ছে না।
    ৩. মানবসম্পদ উন্নয়ন: বর্ধিত জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে রেমিট্যান্স ও শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে, যাকে ম্যালথাস কেবল 'বোঝা' মনে করেছিলেন।

    পরিশেষে বলা যায়, ম্যালথাসের তত্ত্বটি জনাধিক্যের যে সতর্কবার্তা প্রদান করে, তা বাংলাদেশের প্রাথমিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হলেও আধুনিক বিজ্ঞান, কৃষি প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ফলে এর চরম পূর্বাভাসগুলো বর্তমান বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন