যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

মিঃ পাটোয়ারী ক্লাসে যৌক্তিক সংজ্ঞা পড়াতে গিয়ে হাত্র মিঠুকে "বিড়াল" পদের সংজ্ঞা দিতে বললেন। উত্তরে মিঠু বলল, "বিড়াল হয় প্রাণী"। পরে মামুনকে জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দেয়, স্যার "বিড়াল হয় চতুষ্পদী ইতর প্রাণী"। তখন মিঃ পাটোয়ারী বললেন, তোমাদের দুজনেরই উত্তর ভুল।

  1. ক)

    যৌক্তিক সংজ্ঞা কী?

    (1)
  2. খ)

    নেতিবাচক সংজ্ঞা বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মিঠুর বক্তব্যে যৌক্তিক সংজ্ঞার কোন নিয়মটি লংঘন করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে মামুনের বক্তব্যে যে ভুল রয়েছে তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো পদের সম্পূর্ণ যাত্যর্থের সুস্পষ্ট ও যথাযথ প্রকাশকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে সংজ্ঞায় কোনো পদের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য সদর্থক বা ইতিবাচক শব্দ ব্যবহার না করে নঞর্থক বা নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার করা হয়, তাকে নেতিবাচক সংজ্ঞা বলে। যুক্তিবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী কোনো পদের সংজ্ঞা যদি ইতিবাচক ভাষায় দেওয়া সম্ভব হয়, তবে তাকে নেতিবাচক ভাষায় দেওয়া উচিত নয়। যেমন— "অন্ধকার হয় আলোর অভাব"। নেতিবাচক সংজ্ঞা কোনো পদের মূল পরিচয় স্পষ্ট করতে পারে না, কেবল তা কী নয় তা প্রকাশ করে। ফলে এতে নঞর্থক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মিঠুর বক্তব্যে যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়মটি লঙ্ঘন করা হয়েছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম অনুযায়ী, "কোনো পদের সংজ্ঞায় তার সমগ্র যাত্যর্থ প্রকাশ করতে হবে; যাত্যর্থের চেয়ে বেশি বা কম যাত্যর্থ উল্লেখ করা চলবে না।" অর্থাৎ সংজ্ঞেয় পদে আসন্নতম জাতি ও লক্ষণ উভয়েরই উল্লেখ থাকতে হবে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে সংজ্ঞায় যাত্যর্থের পরিমাণ কম উল্লেখ করলে 'অতিব্যাপ্তিমূলক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' ঘটে।

    উদ্দীপকে মিঠু 'বিড়াল' পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছে, "বিড়াল হয় প্রাণী"। এখানে সে বিড়াল পদের সমগ্র যাত্যর্থ প্রকাশ করেনি; বিড়ালের আসন্নতম জাতি 'জীব/প্রাণী' উল্লেখ করলেও এর বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করেনি। ফলে বিড়াল পদের যাত্যর্থের চেয়ে কম গুণ প্রকাশিত হয়ে সংজ্ঞাটি গরু, ছাগল, কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও প্রসারিত হয়ে গেছে। সুতরাং, প্রথম নিয়ম লঙ্ঘন করায় মিঠুর বক্তব্যে 'অতিব্যাপ্তিমূলক অনুপপত্তি' ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মামুনের বক্তব্যে যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম লঙ্ঘিত হয়ে অবান্তর লক্ষণজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী, "কোনো পদের সংজ্ঞায় সংজ্ঞেয় পদটির আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হবে; কোনো অবান্তর লক্ষণ বা উপলক্ষণ উল্লেখ করা চলবে না।" সংজ্ঞায় যদি এমন কোনো গুণ উল্লেখ করা হয় যা যাত্যর্থের অংশ নয় বা যাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত নয়, তবে সেখানে অবান্তর লক্ষণজনিত অনুপপত্তি সৃষ্টি হয়। আবার যাত্যর্থের অতিরিক্ত কোনো গুণ উল্লেখ করলে সংজ্ঞেয় পদের ব্যক্ত্যর্থ সংকুচিত হতে পারে, যা 'অব্যাপ্তিমূলক অনুপপত্তি' সৃষ্টি করে।

    উদ্দীপকে মামুন 'বিড়াল' পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছে, "বিড়াল হয় চতুষ্পদী ইতর প্রাণী"। এখানে 'ইতর প্রাণী' হলো সাধারণ জাতিগত পরিচয় এবং 'চতুষ্পদী' (চার পা বিশিষ্ট) একটি অবান্তর লক্ষণ। কারণ চতুষ্পদ হওয়া কেবল বিড়ালের একার কোনো মৌলিক বিভেদক লক্ষণ নয়, বরং তা গরু, ঘোড়া, বাঘ ইত্যাদি অনেক প্রাণীর মধ্যেই বিদ্যমান এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ নির্দেশ করে না। এছাড়া, যদি কোনো দুর্ঘটনার কারণে কোনো বিড়ালের একটি পা নষ্ট হয়ে যায়, তবুও সে বিড়াল হিসেবেই গণ্য হয়। তাই 'চতুষ্পদী' গুণটি বিড়াল পদের কোনো মৌলিক যাত্যর্থ নয়, বরং একটি অবান্তর লক্ষণ।

    সুতরাং, পাঠ্যবইয়ের যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়মানুসারে মৌলিক যাত্যর্থের পরিবর্তে অবান্তর লক্ষণ উল্লেখ করার কারণে মামুনের সংজ্ঞাটি ত্রুটিপূর্ণ হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন