অর্থনীতি ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি রপ্তানিমুখী কারখানার একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ও শ্রমের যোগান সম্পর্কিত তথ্য নিম্নের তালিকায় দেয়া হলো:-

- ক)(1)
প্রকৃত মজুরি কাকে বলে?
- খ)(2)
মজুরি ও আয় এক নয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে কারখানার শ্রমিকের যোগান রেখা অঙ্কন করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক থেকে প্রাপ্ত শ্রমের যোগান রেখার আকৃতির কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো শ্রমিক তার আর্থিক মজুরি দিয়ে প্রকৃতপক্ষে যে পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা ক্রয় করতে পারে এবং সাথে অন্যান্য প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধাকে প্রকৃত মজুরি বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজুরি হলো উৎপাদনের উপাদান হিসেবে শ্রম ব্যবহারের বিনিময়ে শ্রমিককে প্রদত্ত পারিশ্রমিক। অন্যদিকে, আয় হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তার যাবতীয় উৎস (যেমন—মজুরি, খাজনা, সুদ, মুনাফা, উপহার, স্থানান্তর পাওনা ইত্যাদি) থেকে উপার্জিত মোট আর্থিক বা বাস্তব প্রাপ্তি। অর্থাৎ মজুরি কেবল শ্রমিকের শ্রমের প্রতিদান, যা আয়ের একটি বিশেষ অংশ মাত্র; সকল মজুরিই আয়, কিন্তু সকল আয় মজুরি নয়। এ কারণে মজুরি ও আয় এক নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সূচি থেকে শ্রমিকের যোগান রেখা নিচে অঙ্কন ও ব্যাখ্যা করা হলো:
অঙ্কন বিবরণ:
চিত্রে ভূমি অক্ষে শ্রমের যোগান (শ্রম-ঘণ্টা) এবং লম্ব অক্ষে দৈনিক মজুরির পরিমাণ (প্রতি ঘণ্টা টাকা) নির্দেশ করা হলো।- মজুরি যখন ২০ টাকা, তখন শ্রমের যোগান ৫ ঘণ্টা; প্রাপ্ত বিন্দু a।
- মজুরি বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ টাকা হলে শ্রমের যোগান বেড়ে হয় ৬ ঘণ্টা; প্রাপ্ত বিন্দু b।
- মজুরি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ টাকা হলে শ্রমের যোগান বেড়ে হয় ৭ ঘণ্টা; প্রাপ্ত বিন্দু c।
- মজুরি আরও বেড়ে ৮০ টাকা হলে শ্রমের যোগান হ্রাস পেয়ে ৬ ঘণ্টা হয়; প্রাপ্ত বিন্দু d।
এখন a, b, c এবং d বিন্দুগুলো যোগ করে SS' শ্রমের যোগান রেখা পাওয়া যায়। রেখাটি বিন্দু c পর্যন্ত ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী হলেও c বিন্দুর পর (মজুরি ৬০ টাকার ওপরে) পেছনের দিকে অর্থাৎ বাম দিকে বেঁকে গেছে। এটিই উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে অঙ্কিত পশ্চাৎমুখী শ্রমের যোগান রেখা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক থেকে প্রাপ্ত শ্রমের যোগান রেখাটি একটি নির্দিষ্ট মজুরির পর পেছনের দিকে বেঁকে যাওয়া (Backward-bending supply curve of labor) প্রকৃতির। এ রূপ আকৃতির কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. আয় প্রভাব ও পরিবর্তক প্রভাবের পারস্পরিক ক্রিয়া: মজুরি বৃদ্ধির দুটি প্রভাব রয়েছে—পরিবর্তক প্রভাব (Substitution effect) এবং আয় প্রভাব (Income effect)। প্রথম দিকে মজুরি ২০ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির সময় অবসর বা বিশ্রামের চেয়ে কাজ বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়, ফলে পরিবর্তক প্রভাব আয় প্রভাবের চেয়ে শক্তিশালী হওয়ায় শ্রমের যোগান বাড়ে (৫ থেকে ৭ ঘণ্টা)। কিন্তু মজুরি ৬০ টাকার ঊর্ধ্বে (যেমন ৮০ টাকা) পৌঁছালে শ্রমিকের প্রাথমিক প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ হয়ে যায় এবং তার আয়ের স্তর যথেষ্ট বৃদ্ধি পায়। ফলে শ্রমিক অতিরিক্ত কাজের বদলে বিশ্রাম ও অবসরকে অধিক প্রাধান্য দেয়। এ পর্যায়ে আয় প্রভাব পরিবর্তক প্রভাবের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, ফলে মজুরি বাড়লেও শ্রমের যোগান হ্রাস পায়।
২. অবসর বা আরাম-আয়েশের চাহিদা বৃদ্ধি: মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কাজের পাশাপাশি বিশ্রাম ও বিনোদনের প্রয়োজন। উচ্চ মজুরি স্তরে শ্রমিক অল্প সময় কাজ করেই তার কাঙ্ক্ষিত জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে পারে। তাই ৮০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক কাজ কমিয়ে দিয়ে (৬ ঘণ্টা) অবসর উপভোগ করতে পছন্দ করে।
৩. শ্রমিকের শারীরিক সীমাবদ্ধতা: মানুষের দৈনিক কাজের একটি নির্দিষ্ট শারীরিক ও মানসিক সীমা রয়েছে। দিনরাত একটানা কাজ করা সম্ভব নয়। ফলে মজুরি ক্রমাগত বাড়লেও অনির্দিষ্টকাল শ্রমের যোগান বাড়ানো সম্ভব হয় না।
অতএব, পরিবর্তক প্রভাবের চেয়ে আয় প্রভাব প্রবল হওয়া এবং অবসরের গুরুত্ব বৃদ্ধির কারণেই উদ্দীপকের শ্রমের যোগান রেখাটি প্রাথমিক বৃদ্ধির পর বামে বা পেছনের দিকে বেঁকে গেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও