গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • নারায়নগঞ্জ কলেজ • নারায়নগঞ্জ কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
শিহাব দশম শ্রেণির ছাত্র। সে পরীক্ষায় বার বার অকৃতকার্য হয়। ইদানীং পড়ায় তার কোনো মনোযোগ নেই। এ অবস্থায় তার বাবা-মা, শিক্ষক উপদেশ দিলে সে বিদ্রোহ করে। এমনকি বেশ কয়েকবার সে ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
- ক)(1)
তারুণ্যের বয়সসীমা কত বছর?
- খ)(2)
সামাজিক পরিবেশ কীভাবে যুবকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে প্রভাব বিস্তার করে?
- গ)(3)
শিহাবের বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
শিহাবের সমস্যা সমাধানে শুধুমাত্র পরিবারই ভূমিকা রাখতে পারে- উক্তিটির যথার্থতা যাচাই করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণত ১৮ বছর থেকে ২৪/২৫ বছর বয়সসীমাকে তারুণ্য বা যুব বয়স বলা হয় (জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী যুব বা তরুণ বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছর)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক পরিবেশ একজন তরুণের চিন্তা, মূল্যবোধ ও আচরণ গঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। পরিবার, সমবয়সী দল, বিদ্যালয় ও সমাজ থেকে প্রাপ্ত অনুশাসন, সহমর্মিতা ও সুযোগের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা যুবকের মাঝে আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলে; পক্ষান্তরে নেতিবাচক বা অবক্ষয়পূর্ণ সামাজিক পরিবেশ হতাশা, অপরাধপ্রবণতা ও ব্যক্তিত্বের বিশৃঙ্খলা তৈরি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিহাবের বিপর্যয়ের মূল কারণ হলো বয়ঃসন্ধিকালীন মানসিক চাপ, লেখাপড়ায় ব্যর্থতাজনিত হতাশা এবং পরিবার ও শিক্ষকদের সাথে উপযুক্ত যোগাযোগের অভাব।
কৈশোর ও তারুণ্যের সন্ধিক্ষণে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের কারণে আবেগিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। এ সময়ে পড়াশোনার চাপ ও পরীক্ষায় বারবার অকৃতকার্য হওয়ার ফলে শিহাবের মধ্যে চরম হতাশা, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং হীনম্মন্যতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছে।
পাশাপাশি, পরিবার ও শিক্ষক তার মানসিক অবস্থা ও হতাশার পেছনের মূল কারণ না বুঝে শুধু উপদেশ দেওয়ায় সে নিজেকে একাকী ও অবহেলিত মনে করে। ফলে তার মধ্যে রক্ষণাত্মক আচরণ ও বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়েছে এবং সে বাস্তবতাকে অস্বীকার করে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“শিহাবের সমস্যা সমাধানে শুধুমাত্র পরিবারই ভূমিকা রাখতে পারে”—উক্তিটি যথার্থ নয়; বরং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পেশাদার কাউন্সেলরের যৌথ সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পরিবার সন্তানের প্রাথমিক আশ্রয়স্থল। শিহাবের প্রতি পরিবারের সদস্যদের সহমর্মী হওয়া, বকাঝকা বা অনবরত উপদেশ না দিয়ে তার মানসিক অবস্থা বোঝা এবং তাকে নিরাপদ পরিবেশ দেওয়া অবশ্যই জরুরি। তবে সমস্যাটি কেবল পারিবারিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিহাব দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তার মূল সংকট শুরু হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় ব্যর্থতা ও মনোযোগহীনতা থেকে।
এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শিক্ষকদের উচিত শিহাবকে ভর্ৎসনা না করে স্নেহ ও ধৈর্যের সাথে তার পড়াশোনার দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং তাকে পাঠে মনোযোগী হতে উৎসাহ দেওয়া। পাশাপাশি, সহপাঠী ও বন্ধুদের ইতিবাচক সমর্থনও তার মানসিক মনোবল বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। উপরন্তু, শিহাবের সমস্যাটি গভীর মানসিক অবসাদ ও আচরণগত বিদ্রোহে রূপ নেওয়ায় একজন অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সিলরের পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
সুতরাং, শিহাবের মানসিক বিপর্যয় কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কেবল পরিবার নয়, শিক্ষক, বিদ্যালয় ও সমাজের সম্মিলিত সহানুভূতিশীল ভূমিকা অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও