বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন, মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গিয়াছে, কিন্তু আর কিছুদিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গেছে বটে, কিন্তু পণ্যের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তাহার চেয়ে কিঞ্চিত উপরে আছে, সেই জন্যই তাড়া।
- ক)(1)
কোন গল্প রচনার মাধ্যমে ছোটোগল্প লেখক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মপ্রকাশ ঘটে?
- খ)(2)
বরযাত্রীর দল দক্ষযজ্ঞের পালা সারিয়া বাহির হইয়া গেল।'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বরের বাপ তোমার পঠিত গল্পের কোন চরিত্রকে ইঙ্গিত করে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে যে সামাজিক প্রথা বর্ণিত হয়েছে তা 'অপরিচিতা' গল্পের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ভিখারিনী' গল্প রচনার মাধ্যমে ছোটোগল্প লেখক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চরণটি দিয়ে কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেনের আপসহীন আচরণে বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় অপমানিত বরযাত্রী দলের অপ্রস্তুতভাবে ও অসন্তোষ নিয়ে প্রস্থানকে বোঝানো হয়েছে।
অনুপমের বিয়েতে পণ নিয়ে দেনদরবার এবং কল্যাণীর গহনা পরীক্ষা করার মাধ্যমে মামা শম্ভুনাথ বাবুকে চরম অপমান করেন। শম্ভুনাথ সেন কন্যাকে এমন হীনমন্য পরিবারে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বরযাত্রীদের তৃপ্তিসহকারে খাইয়ে বিদায় করে দেন। যে বিয়েতে বরপক্ষের অহংকার ও প্রতাপ প্রদর্শনের আয়োজন ছিল, তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ায় বরযাত্রীর দল চরম ক্ষোভ ও অপমানে বিশৃঙ্খলভাবে প্রস্থান করতে বাধ্য হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বরের বাপ 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের অভিভাবক 'মামা' চরিত্রকে ইঙ্গিত করে।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের পিতা জীবিত না থাকায় তার বিয়ের সমস্ত কর্তৃত্ব ছিল তার মামার হাতে। মামা ছিলেন অত্যন্ত লোভী, বিষয়ী এবং অর্থলিপ্সু ব্যক্তি। তিনি কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার অসহায়ত্বের পূর্ণ সুযোগ নিয়ে মোটা অঙ্কের যৌতুক ও খাঁটি সোনার গহনা আদায় করতে চেয়েছিলেন।
উদ্দীপকের বরের বাপের মধ্যেও কন্যার বয়স বেড়ে যাওয়া এবং সামাজিক উদ্বেগের সুযোগ নিয়ে পণ্যের টাকার গুরুত্ব বাড়িয়ে তাড়াহুড়ো করে সুযোগ নেওয়ার যে মানসিকতা দেখা যায়, তা 'অপরিচিতা' গল্পের মামার স্বার্থপর ও অর্থলোভী মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। মামাও যৌতুকের লোভে শম্ভুনাথ সেনের সংবেদনশীলতাকে তোয়াক্কা না করে সোনা পরখ করার মতো নির্লজ্জ আচরণ করেছিলেন। সুতরাং উদ্দীপকের বরের বাপ চরিত্রটি অনুপমের মামা চরিত্রকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তৎকালীন হিন্দু সমাজের এক নিষ্ঠুর ও অমানবিক সামাজিক প্রথা—'যৌতুক প্রথা' বা পণপ্রথার দিকটি বর্ণিত হয়েছে, যা 'অপরিচিতা' গল্পের অন্যতম প্রধান উপজীব্য।
তৎকালীন সমাজে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে যৌতুকের যাতাকলে পিষ্ট হতে হতো। মেয়ের বয়স বাড়লে সমাজ যেমন নিন্দা করত, তেমনি পাত্রপক্ষ সেই সুযোগে কনের পিতার কাছ থেকে অতিরিক্ত পণ দাবি করত। উদ্দীপকে কনের বয়স বাড়ার চেয়েও বরের বাপের কাছে 'পণ্যের টাকা' অর্থাৎ যৌতুকের টাকার লোভ প্রধান হয়ে ওঠার দিকটি এই কুপ্রথাকেই তুলে ধরে।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের মামা অনুপমের বিয়েতে কেবল মেয়ের গুণ বা সৌন্দর্য নয়, বরং শম্ভুনাথ সেনের ধনদৌলত ও পণ হিসেবে প্রাপ্ত সোনা-দানার দিকেই দৃষ্টি রেখেছিলেন। এমনকি বিয়ের আসরে সেকরা বসিয়ে কনের গায়ের গহনা যাচাই করে এক চূড়ান্ত অপমানজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। যৌতুকের এই সর্বগ্রাসী লালসার বিরুদ্ধেই কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন রুখে দাঁড়ান এবং বিয়ে ভেঙে দেন।
অতএব, উদ্দীপক ও 'অপরিচিতা' উভয় স্থানেই যৌতুক প্রথার নির্মমতা এবং পাত্রপক্ষের অর্থলোভী মানসিকতাকে অত্যন্ত স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও