‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

ইতালির নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেন। আমেরিকা আবিষ্কারের পথে জিনি কিউবা, বাহামা, জ্যামাইকা আবিষ্কার করেন। তার এই আবিষ্কারে পৃথিবীতে এক নব দিগন্তের পথ উন্মোচিত হয়।

  1. ক)

    আলীবর্দী খানের প্রকৃত নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    অন্ধকূপ হত্যা কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের সাথে পর্তুগীজ কোন নাবিকের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত নাবিকের উপমহাদেশে আগমনের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় যে শক্তির উত্থান ঘটে তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব আলীবর্দী খানের প্রকৃত নাম ছিল মির্জা মুহম্মদ আলী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অন্ধকূপ হত্যা (Black Hole Tragedy) হলো ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জে. জেড. হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত একটি বহুল বিতর্কিত ও অতিরঞ্জিত ঘটনা। ১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণ করে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ দখল করার পর হলওয়েলের দাবি অনুযায়ী, নবাব ১৪৬ জন ইংরেজ যুদ্ধবন্দীকে একটি ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ১০ ইঞ্চি প্রস্থের ক্ষুদ্র ও সংকীর্ণ কক্ষে আটকে রাখেন, যার ফলে তীব্র গরমে ও শ্বাসকষ্টে ১২৩ জনের মৃত্যু ঘটে। তবে আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে এই সংখ্যাটি সম্পূর্ণ মনগড়া ও অসত্য, যা নবাবকে নিষ্ঠুর প্রমাণ করার জন্য প্রচার করা হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের সাথে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামার সাদৃশ্য রয়েছে।

    ইউরোপীয় ভৌগোলিক আবিষ্কারের যুগে ক্রিস্টোফার কলম্বাস জলপথে প্রাচ্যে আসার চেষ্টা করে নতুন মহাদেশ আমেরিকা আবিষ্কার করেন। একইভাবে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা ইউরোপ থেকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে সমুদ্রপথে ভারতবর্ষে পৌঁছানোর নতুন জলপথ আবিষ্কার করেন। তিনি ১৪৯৮ সালে ভারতের কালিকট বন্দরে অবতরণ করেন। কলম্বাস যেমন পশ্চিম গোলার্ধে জলপথ উন্মোচন করে নতুন বিশ্বের সন্ধান দেন, তেমনি ভাস্কো দা গামা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যকে সমুদ্রপথে যুক্ত করে ইতিহাসের এক নবদিগন্তের সূচনা করেন। তাই ভৌগোলিক আবিষ্কার ও দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রার দিক থেকে কলম্বাসের সাথে ভাস্কো দা গামার গভীর মিল বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভাস্কো দা গামার ভারতবর্ষে আগমনের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তির উত্থান ঘটে, যার ধারাবাহিকতায় উপমহাদেশে পর্তুগিজসহ সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১৪৯৮ সালে ভাস্কো দা গামা ভারতে পৌঁছানোর পর পর্তুগিজরা দ্রুত বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং পরবর্তীতে আলবুকার্কের মতো দক্ষ শাসকের অধীনে গোয়া দখল করে তাদের উপনিবেশ গড়ে তোলে। তাদের পথ অনুসরণ করে একে একে ওলন্দাজ (ডাচ), দিনেমার (ডেনিশ), ফরাসি এবং সবশেষে ইংরেজরা ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্য করতে আসে।

    প্রথমদিকে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মসলা ও অর্থকরী বাণিজ্য করা হলেও, পরবর্তীতে তারা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দুর্বলতা ও অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের খেলায় মেতে ওঠে। এদের মধ্যে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সর্বোচ্চ সাফল্য দেখায়। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলায় এবং পরবর্তীতে সমগ্র ভারতে ব্রিটিশরা প্রায় দুইশত বছরের ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করে।

    সুতরাং, ভাস্কো দা গামার জলপথ আবিষ্কার শুধুমাত্র ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটায়নি, বরং ভারতীয় উপমহাদেশে দীর্ঘমেয়াদী ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন