ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ঐ দেশে একটি সরকার গঠন করা হয়। এই সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল। উক্ত সরকারের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করে স্বাধীনতা অর্জন করা।
- ক)(1)
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস কবে?
- খ)(2)
স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রবাসীদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের পঠিত বিষয়ে যে সরকারের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, এ সরকার গঠনের মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছিল? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। তারা আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন দেশে তারা তহবিল গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ ও ত্রাণ সংগ্রহ করে মুজিবনগর সরকারের কাছে প্রেরণ করেন। এছাড়া তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর গণহত্যা বন্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ব্যাপক আন্দোলন ও প্রচার চালান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত এবং ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণকারী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বা মুজিবনগর সরকারের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার ভবেরপাড়া গ্রামে (মুজিবনগর) এই অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। ১৭ই এপ্রিল এই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। এই সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন) এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য এ সরকারের অধীনে ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ গঠন করা হয়, যা উদ্দীপকের তথ্যের সাথে হুবহু মিলে যায়। এ সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে মূল ভূমিকা পালন করেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি মুজিবনগর সরকার গঠনের মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছিল।
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর মুক্তিযুদ্ধকে নিয়মতান্ত্রিক পথে পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের আইনি সত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সাংবিধানিক সরকারের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য ছিল। ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ প্রণয়ন করা হয়, যা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সাংবিধানিক দলিল।
এই সরকারের অধীনেই সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে সুশৃঙ্খলভাবে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। এছাড়া এ সরকারই বিশ্বব্যাপী প্রতিনিধি পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টি, কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং শরণার্থী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে। ফলে বিশ্বের দরবারে পাকিস্তান বাহিনীর নৃশংসতা উন্মোচিত হয় এবং ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর সমর্থন লাভ সহজ হয়।
সুতরাং, মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধ বিচ্ছিন্ন বিদ্রোহের রূপ কাটিয়ে একটি বৈধ ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মুক্তির লড়াইয়ে রূপ নেয় এবং ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিশ্চিত হয়। অতএব, এ সরকার গঠনই ছিল বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের চূড়ান্ত রূপরেখা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও