যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১ : রিপন তার বন্ধুকে বললো, ময়না হয় দ্বিপদ পাখি, দোয়েল হয়। দ্বিপদ পাখি, কোকিল হয় দ্বিপদ পাখি। সুতরাং সকল পাখি হয় দ্বিপদ।
দৃশ্যকল্প-২ : মফিজ সাহেব তার মেয়েকে প্রমাণ করে দেখালেন, একটি ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি দুই সমকোণ। এর ওপর ভিত্তি করে তিনি আরও বললেন যেকোনো আয়তনের যেকোনো ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি দুই সমকোণ ।

  1. ক)

    আরোহ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ধরনের আরোহ নির্দেশিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত আরোহের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে অনুমান প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে আরোহ অনুমান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি হলো আরোহের একটি মৌলিক বস্তুগত ভিত্তি, যার অর্থ হলো—প্রকৃতি সবসময় একই পরিস্থিতিতে একই রূপ আচরণ করে।
    অর্থাৎ, প্রকৃতিতে অতীত পরিস্থিতিতে যা ঘটেছে, বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও যদি অনুরূপ পরিস্থিতি থাকে তবে অবিকল একই ঘটনা ঘটবে। প্রকৃতিতে কোনো আকস্মিক বিশৃঙ্খলা বা ব্যতিক্রম নেই, বরং প্রকৃতি সুশৃঙ্খল নিয়মের অধীন—এটিই এই নীতির মূল কথা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকৃত আরোহের অন্তর্গত 'অপূর্ণাঙ্গ আরোহ' (বা বৈজ্ঞানিক/লৌকিক আরোহের অনুরূপ অপূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ) নির্দেশিত হয়েছে।
    যে আরোহ অনুমানে একটি শ্রেণির অন্তর্গত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করে সমগ্র শ্রেণির উদ্দেশ্যে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত স্থাপন করা হয়, তাকে অপূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে।
    উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ রিপন ময়না, দোয়েল ও কোকিল—এই কয়েকটি বিশেষ পাখির ক্ষেত্রে 'দ্বিপদ' গুণটি প্রত্যক্ষ করেছে। বিশ্বের প্রতিটি পাখি প্রত্যক্ষ না করেই সে সমস্ত পাখির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গঠন করেছে: "সকল পাখি হয় দ্বিপদ"। এখানে আরোহমূলক লম্ফের মাধ্যমে জানা থেকে অজানায় উত্তরণ ঘটেছে, যা অপূর্ণাঙ্গ আরোহের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত আরোহের রূপ দুটি ভিন্ন; দৃশ্যকল্প-১ হলো 'অপূর্ণাঙ্গ আরোহ' এবং দৃশ্যকল্প-২ হলো অপ্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত 'যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ' (Induction by Parity of Reasoning)।

    এদের মধ্যকার মূল পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
    ১. আরোহের প্রকৃতি: দৃশ্যকল্প-১ হলো প্রকৃত আরোহ, কারণ এতে বাস্তব দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-২ হলো অপ্রকৃত আরোহ, কারণ এটি জ্যামিতিক প্রমাণের সমরূপতার ওপর ভিত্তি করে সার্বিক সত্যে উপনীত হয়।
    ২. আরোহমূলক লম্ফ: দৃশ্যকল্প-১ এ বিশেষ থেকে সার্বিকে পৌঁছানোর জন্য 'লম্ফ' রয়েছে (কিছু পাখি থেকে সব পাখি)। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এর ক্ষেত্রে ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি দুই সমকোণ হওয়ার সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক প্রমাণনির্ভর; এখানে কোনো পর্যবেক্ষণমূলক ঝুঁকি বা লম্ফ নেই।
    ৩. বস্তুগত বনাম আকারগত সত্যতা: দৃশ্যকল্প-১ প্রধানত বস্তুগত সত্যতার ওপর জোর দেয় এবং বাস্তব অভিজ্ঞতানির্ভর। দৃশ্যকল্প-২ বিশুদ্ধ আকারগত ও নিয়মবদ্ধ যুক্তির ওপর নির্ভর করে কাজ করে।
    ৪. সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা: দৃশ্যকল্প-১ এর সিদ্ধান্ত কেবল সম্ভাব্য, কারণ ভবিষ্যতে কোনো বিপরীত দৃষ্টান্ত দেখা যাওয়ার তাত্ত্বিক সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ জ্যামিতিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অকাট্য ও নিশ্চিত।

    সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এর আরোহ পদ্ধতির মধ্যে মৌলিক প্রকৃতিগত পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন