পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
তানভীর ও রাশেদ দুই বন্ধু। তারা দু'জনে ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়ছে। রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান, নাগরিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সব বিষয়ের প্রতি তানভীরের আগ্রহ বেশি। অন্যদিকে, রাশেদ সব সময় মুদ্রাব্যবস্থা, আয়-ব্যয়, বাজেট তৈরি, সম্পদের সুষম বণ্টন ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। তাই কলেজে তারা পছন্দমত বিষয় নির্বাচন্ করে। তানভীর ও রাশেদ পাঠ্যবিষয়ে নিয়ে আলোচনা করে লক্ষ করল বিষয় দুটি ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য এক।
- ক)(1)
রাষ্ট্র কী?
- খ)(2)
পৌরনীতি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
তানভীর ও রাশেদ কোন দুটি বিষয়ের প্রতি আগ্রহী? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
তানভীর ও রাশেদের মত তুমিও কি মনে কর বিষয় দুইটি ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য অভিন্ন? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্র হলো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনসংখ্যা, সরকার এবং সার্বভৌমত্ববিশিষ্ট এমন একটি রাজনৈতিক সংগঠন, যা তার ভৌগোলিক সীমানার অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের অধিকারী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৌরনীতি হলো নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। যা নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য, কার্যাবলি এবং নাগরিক জীবনের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে, তাকে পৌরনীতি বলে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ই. এম. হোয়াইটের মতে, নাগরিকতার সাথে জড়িত সকল প্রশ্ন নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে, তা-ই পৌরনীতি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তানভীর 'পৌরনীতি ও সুশাসন' এবং রাশেদ 'অর্থনীতি' বিষয়ের প্রতি আগ্রহী।
পৌরনীতি রাষ্ট্রের উৎপত্তি, প্রকৃতি, নাগরিকের অধিকার-কর্তব্য, সরকার, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক সংগঠনসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। উদ্দীপকে তানভীরের আগ্রহের ক্ষেত্রগুলো হলো রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান, নাগরিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা—যা সরাসরি পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, অর্থনীতি মূলত মানুষের দৈনন্দিন আয়-ব্যয়, উৎপাদন, বণ্টন, বাজেট তৈরি, মুদ্রা ব্যবস্থা এবং সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করে। উদ্দীপকের রাশেদ আয়-ব্যয়, মুদ্রাব্যবস্থা, বাজেট প্রণয়ন ও সম্পদের সুষম বণ্টনে আকৃষ্ট। সুতরাং, তানভীর পৌরনীতি এবং রাশেদ অর্থনীতি বিষয়ের প্রতি আগ্রহী।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, তানভীর ও রাশেদের মতো আমিও মনে করি পৌরনীতি ও অর্থনীতি বিষয় দুটি ভিন্ন হলেও এদের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য অভিন্ন, তা হলো মানবকল্যাণ সাধন।
পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি সামাজিক বিজ্ঞানের দুটি ঘনিষ্ঠ শাখা। পৌরনীতি মূলত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক নিয়ে কাজ করে, যেখানে নাগরিকের সুনাগরিকত্ব অর্জন, অধিকার ভোগ, কর্তব্য পালন এবং একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, অর্থনীতি সমাজের বৈষয়িক এবং অর্থনৈতিক দিক নিয়ে কাজ করে। এটি সীমিত সম্পদের সাহায্যে নাগরিকের সীমাহীন অভাব পূরণ এবং অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের উপায় নির্দেশ করে।
উদ্দেশ্যের দিক থেকে উভয় শাস্ত্রই পরস্পরের পরিপূরক। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া কোনো রাষ্ট্রে সুশাসন ও নাগরিক কল্যাণ নিশ্চিত করা অসম্ভব। আবার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সম্পদের সুষম বণ্টন সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক মুক্তি ও রাজনৈতিক অধিকার—উভয়ের সম্মিলনেই একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের নাগরিকদের সামগ্রিক কল্যাণ বাস্তবায়িত হয়।
অতএব, বিষয়বস্তু এবং আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও উভয় বিষয়ের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নাগরিকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সার্বিক মানবকল্যাণ সাধন করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও