বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
পাড়ার সকলের প্রিয় পল্টু। অদ্ভুত তার চরিত্র। এখনই কারও গাছের ফল চুরি করে খেল, তো পরক্ষণেই শীতার্তকে নিজের গায়ের জামা খুলে দিয়ে দিল। কখনো গৃহস্থের গরুর গলার রশি খুলে দিয়ে মজা করছে, কখনও মহিলাদের আড্ডায় রাবারের সাপ ছেড়ে দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, কখনো পথচারীর গায়ে সাইকেল তুলে দিয়ে খিলখিল করে হাসছে। সেই পল্টুই আবার প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলা করা ডাকাত দলকে একাই রুখে দিতে লড়াই করছে। কারও বাচ্চাটাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, কারও অসুস্থ আত্মীয়কে হাসপাতালে নিতে হবে, কোনো কন্যাদায় গ্রস্থ পিতার বিয়ের সব ব্যবস্থাপনা করে দিতে হবে, কারও অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করতে হবে- এ সবে পল্টুর সর্বাগ্রে।
- ক)(1)
সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থটির নাম কী?
- খ)(2)
“এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা!”- লাইনটিতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- গ)(3)
পল্টুর পরোপকারের বিষয়টি ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার কোন দিকটির ইঙ্গিতবাহী?- বুঝিয়ে দাও।
- ঘ)(4)
“তবুও আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি”- পঙ্ক্তিটির আলোকে উদ্দীপকটিকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থটির নাম 'আকাল' (১৯৪৪)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আঠারো বছর বয়সে তরুণদের মনে নানা রকমের ভালো-মন্দ ও ইতিবাচক-নেতিবাচক উপদেশ বা পরামর্শের প্রভাব পড়ে—চরণটির মাধ্যমে কবি এ কথাই বুঝিয়েছেন।
কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্যে পদার্পণের এ সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উত্তাল। এই বয়সে তরুণরা আত্মপ্রত্যয়ী হতে গিয়ে নানা প্রকার গোপন ও বিপজ্জনক প্ররোচনার মুখোমুখি হয়। কেউ কেউ অসৎ সঙ্গ ও ভুল ভাবাদর্শের বিভ্রান্তিকর মন্ত্রণায় পথভ্রষ্টও হতে পারে। কবি বয়সের এই ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল দিকটি প্রকাশ করতে গিয়ে উল্লিখিত চরণটি প্রয়োগ করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের পল্টুর পরোপকারের বিষয়টি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার তারুণ্যের আত্মত্যাগ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের দিকটির ইঙ্গিতবাহী।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তারুণ্যের অপরাজেয় শক্তি, মানবপ্রেম এবং কল্যাণকামী রূপটিকে তুলে ধরেছেন। এ বয়সের তরুণেরাই সব বাধা-বিপত্তি অগ্রাহ্য করে অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে, দেশ ও দশের সেবায় নিঃস্বার্থভাবে জীবন বাজি রাখতে দ্বিধা করে না।
উদ্দীপকের পল্টু স্বভাবসুলভ কিছু চপলতা ও দুষ্টুমি দেখালেও বিপদে-আপদে সে সবার আগে এগিয়ে আসে। শীতার্তকে নিজের গায়ের জামা দেওয়া, অসহায়কে হাসপাতালে নেওয়া, অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করা কিংবা ডাকাত দলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মতো মানবকল্যাণমূলক কাজে সে সর্বদা নিবেদিতপ্রাণ। পল্টুর এই নিঃস্বার্থ পরোপকারী ও সাহসী ভূমিকা 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার তারুণ্যের পরার্থপরতা ও আত্মত্যাগী বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“তবুও আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি”—পঙ্ক্তিটি আঠারো বছর বয়সের যাবতীয় ভুলত্রুটি ও চঞ্চলতা ছাপিয়ে তার দেশপ্রেম, সাহস ও মানবকল্যাণী ভূমিকারই চূড়ান্ত স্বীকৃতি নির্দেশ করে, যা উদ্দীপকের পল্টু চরিত্রের সামগ্রিক তাৎপর্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি এই বয়সের নানা ঝুঁকি, দুর্বার আবেগ, ভুল পথে যাওয়ার আশঙ্কা ও বেদনার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সব নেতিবাচকতা ও সংশয় পেছনে ফেলে তারুণ্যের মূল শক্তি হিসেবে প্রকাশ পায় মানবকল্যাণ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সৃষ্টিশীল জাগরণ। তাই কবি আঠারোর জয়গান গেয়েছেন এবং এই বয়সকে দেশের বুকে বারবার নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
উদ্দীপকের পল্টু চরিত্রের মধ্যেও কিছু চপলতা, ভুল আচরণ ও দুষ্টুমি লক্ষ করা যায়—যেমন গৃহস্থের গরুর রশি খুলে দেওয়া, মহিলাদের মাঝে নকল সাপ ফেলা কিংবা পথচারীর দিকে সাইকেল চালিয়ে দেওয়া। তবে তার এই চপলতা ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে তার অসাধারণ দেশসেবা ও মানবসেবার মনোভাব। ডাকাত মোকাবিলায় পল্টুর অসম সাহস, শীতার্তের পাশে দাঁড়ানো ও পীড়িত মানুষের সেবায় তার অগ্রণী ভূমিকা আঠারোর সেই ইতিবাচক প্রাণশক্তিরই বহিঃপ্রকাশ।
অতএব, সাময়িক চপলতা বা ত্রুটি সত্ত্বেও আঠারোর ভেতরের সুমহান মানবিকতা ও সাহস যেভাবে জয়যুক্ত হয়, পল্টুর জীবনেও তার দুষ্টুমিকে ছাপিয়ে তার নিঃস্বার্থ মানবসেবা সমাজকে রক্ষা করে। এ দিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটির আলোকে উদ্দীপকের পল্টু চরিত্রের মূল্যায়ন যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও