ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী করিমশাহ তার দেশের জন্য একটি নতুন শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করেন। সকল শ্রেণি, পেশা, দল ও সম্প্রদায়ের। সমান অধিকার উক্ত শাসনতন্ত্রে নিশ্চিত করা হয়। সকলের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় 'ক' রাষ্ট্রটিকে একটি আদর্শ, শক্তিশালী ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রত্যয় উক্ত শাসনতন্ত্রে ফুটিয়ে তোলা। হয়। ঐ শাসনতন্ত্রের চেতনায় কালক্রমে 'ক' একটি কার্যকর ও পরাক্রমশালী। রাষ্ট্রে পরিণত হয়। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলো উত্ত শাসনতন্ত্রটিকে তাদের জন্য। আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে এবং একে অনুসরণ করে।
- ক)(1)
কত খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স) মদিনায় হিজরত করেন?
- খ)(2)
নাখলার খণ্ডযুদ্ধকে বদরের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শাসনতন্ত্রটি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর কোন কর্মের আদর্শিক প্রতিফলন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'ক' রাষ্ট্রের মতো মহানবির (স) উক্ত পদক্ষেপটিই ছিল শক্তিশালী। মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবি (স) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাখলার খণ্ডযুদ্ধে কুরাইশদের সাথে মুসলমানদের প্রথম প্রত্যক্ষ সংঘর্ষ ঘটে এবং সেখানে আমর ইবনুল হাদরামি নামের এক কুরাইশ নেতা নিহত হয়। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ গ্রহণ এবং মুসলমানদের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি ধ্বংস করার জন্য কুরাইশরা আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হয়, যার প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ কারণে নাখলার খণ্ডযুদ্ধকে বদরের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শাসনতন্ত্রটি মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) কর্তৃক প্রণীত ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ'-এর আদর্শিক প্রতিফলন।
৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরতের পর মহানবি (স) আনসার, মুহাজির, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৪৭টি (মতান্তরে ৫৩টি) ধারাবিশিষ্ট একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল প্রণয়ন করেন, যা 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত। এটি ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান।
উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী করিমশাহ সকল শ্রেণি, পেশা ও সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করে যে কল্যাণমূলক ও আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংবিধান প্রণয়ন করেন, তা মহানবি (স)-এর মদিনা সনদের মূল চেতনারই অনুরূপ। মদিনা সনদেও সকল ধর্ম ও গোত্রের স্বাধীনতা এবং সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল। অতএব, উদ্দীপকের শাসনতন্ত্রটি মহানবি (স)-এর মদিনা সনদেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের মতো মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মদিনা সনদ প্রণয়নই ছিল একটি শক্তিশালী ও কল্যাণমূলক মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি।
হিজরতের পূর্বে মদিনা (তৎকালীন ইয়াসরিব) গৃহযুদ্ধ, গোত্রীয় কলহ (যেমন আওস ও খাজরাজ গোত্রের দ্বন্দ্ব) এবং অরাজকতায় নিমজ্জিত ছিল। মহানবি (স) মদিনায় এসে মদিনা সনদের মাধ্যমে সব গোত্র ও ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে একটি অখণ্ড 'উম্মাহ' বা জাতি গঠন করেন। এ সনদের মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের ধর্মীয় স্বাধীনতা, রক্তপাত নিষিদ্ধকরণ, মদিনার ওপর বহিরাগত আক্রমণ হলে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে মহানবি (স)-কে সর্বোচ্চ বিচারক ও নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এর ফলেই মদিনায় অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসে এবং মুসলিম উম্মাহ একটি কার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত করিমশাহের শাসনতন্ত্র যেমন 'ক' রাষ্ট্রকে পরাক্রমশালী করেছিল, তেমনি মহানবি (স)-এর মদিনা সনদই মদিনাকে একটি ক্ষুদ্র নগররাষ্ট্র থেকে পরবর্তীতে বিশাল ইসলামি সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার পথ সুগম করেছিল। সুতরাং, মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে মদিনা সনদ ছিল অনন্য ও অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও