‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব 'ক' বিশাল অঞ্চলের শাসক ছিলেন। তাঁর একার পক্ষে এই বিশাল অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করা কঠিন ছিল। ফলে জনাব 'ক' এর কর্তৃপক্ষ এ বিশাল আয়তনের অঞ্চলটিকে 'X' ও 'Y' নামক অখালে বিভক্ত করেন। এ বিভক্তির ফলে 'X' অঞ্চলের জনগণ খুশি হলেও 'Y' অঞ্চলের জনগণ এ বিভক্তির তীব্র বিরোধিতা করে। ফলে 'Y' অঞ্চলের জনগণের প্রচণ্ড বিক্ষোভ, অসন্তোয ও চাপের মুখে কর্তৃপক্ষ দুই অঞ্চলকে পুনরায় একত্রীকরণ করতে বাধ্য হয়। এ সিদ্ধান্তেরকারণে 'X' অঞ্চলের জনগণ কর্তৃপক্ষের উপর অসন্তুষ্ট হয়।

  1. ক)

    স্বদেশি আন্দোলন কী?

    (1)
  2. খ)

    লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তিকরণ 'X' অঞ্চলের জনজীবনে যে প্রভাব ফেলেছিল তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে বিদেশি পণ্য বর্জন করে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলায় গড়ে ওঠা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে স্বদেশি আন্দোলন বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর 'দ্বিজাতি তত্ত্বের' ওপর ভিত্তি করেই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বে বলা হয়েছিল যে, হিন্দু ও মুসলমান দুটি ভিন্ন জাতি এবং তাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও জীবনাদর্শ সম্পূর্ণ পৃথক। এই মতবাদের ওপর ভিত্তি করে এ কে ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাবে উল্লেখ করেন যে, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী সংলগ্ন এককগুলোকে এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হবে যেন ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে 'স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠন করা যায়। সুতরাং, লাহোর প্রস্তাবের মূল তাত্ত্বিক ভিত্তিই ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ ঘটনার স্পষ্ট মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, শাসক 'ক' এর সুবিশাল অঞ্চল পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ সেটিকে 'X' ও 'Y' নামে দুটি অঞ্চলে বিভক্ত করেন। এর ফলে 'X' অঞ্চল খুশি হলেও 'Y' অঞ্চল তীব্র বিরোধিতা করে এবং শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ পুনরায় অঞ্চল দুটিকে একত্রীকরণ করতে বাধ্য হয়।

    ঐতিহাসিকভাবে, ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন সুবিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সির শাসনকার্যের সুবিধার্থে বাংলাকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি আলাদা প্রদেশ গঠন করেন। এই বিভক্তির ফলে পিছিয়ে থাকা পূর্ববঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নতির আশায় খুশি হয়েছিল। কিন্তু কলকাতার সুবিধাভোগী জমিদার, ব্যবসায়ী ও কংগ্রেস নেতারা একে 'বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ' আখ্যা দিয়ে তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। তাঁদের প্রবল আন্দোলন ও স্বদেশি-বয়কট আন্দোলনের চাপে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে রাজা পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ বা একত্রীকরণের ঘোষণা দেয়। ফলে উদ্দীপকের ঘটনাটি বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদেরই প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তিকরণ (১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ) 'X' অঞ্চল তথা তৎকালীন পূর্ববঙ্গ ও আসামের জনজীবনে ব্যাপক ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. প্রশাসনিক সুবিধা ও মর্যাদা বৃদ্ধি: বঙ্গভঙ্গের ফলে ঢাকা নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় এখানকার প্রশাসনিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। হাইকোর্ট, সেক্রেটারিয়েট, নতুন সরকারি দপ্তর ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার ফলে এই অঞ্চলের মানুষ হাতের কাছেই প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা পেতে শুরু করে।

    ২. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: নতুন প্রদেশের প্রধান বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের দ্রুত আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ ঘটে। ফলে পূর্ববঙ্গের পাট ও কৃষিপণ্য সহজে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয় এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে শুরু করেন।

    ৩. শিক্ষার প্রসার: ঢাকায় নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলেজ ও ছাত্রাবাস স্থাপিত হয়। পিছিয়ে পড়া মুসলিম ও সাধারণ জনগণের মধ্যে শিক্ষার প্রতি তীব্র আগ্রহ সৃষ্টি হয়, যা এই অঞ্চলের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশে সহায়তা করে।

    ৪. রাজনৈতিক সচেতনতা ও মুসলিম লীগের জন্ম: বঙ্গভঙ্গের ফলেই পূর্ববঙ্গের মুসলিম জনগোষ্ঠী তাঁদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অধিকার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯০৬ সালে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীকালে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

    পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের বিভক্তিকরণ বা বঙ্গভঙ্গ 'X' অঞ্চল অর্থাৎ পূর্ববঙ্গের সামগ্রিক জনজীবনে শিক্ষা, অর্থনীতি, যোগাযোগ এবং রাজনীতিতে নবজাগরণ ও বিপুল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন