ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

আমাদের এই মাতৃভূমিকে ভালোবাসে না এমন একটি মানুষও পাওয়া যাবে না। তবে কেউ কেউ মাতৃভূমিকে অনেক বেশি ভালোবেসেছেন। শহীদ তিতুমীর তেমন একজন ব্যক্তিত্ব। দেশমাতৃকার জন্য তাদের অবদান চিরস্মরণীয়। তাদের আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তিনি নিজের জীবন দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

  1. ক)

    ভারত কখন বাংলাদেশকে স্বাধীন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে?

    (1)
  2. খ)

    বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ বাংলার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    তিতুমীরের জীবনের ঘটনাবলির সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোন ঘটনাবলী সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তিতুমীরের মতো বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছেন - উক্তিটির সপক্ষে তোমার পাঠ্য বইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারত ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাংলার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় কারণ এটি ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা। এই ভাষণে তিনি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের শোষণ, নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে অসহযোগ আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করেন। একই সাথে তিনি বাঙালিদের ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে যার যা কিছু আছে তা নিয়ে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার ঐতিহাসিক ডাক দেন, যা মুক্তিকামী বাঙালিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তিতুমীরের জীবনের ঘটনাবলির সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন নেতৃত্ব, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    তিতুমীর ব্রিটিশ শাসন এবং স্থানীয় অত্যাচারী জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে বাংলার সাধারণ কৃষক ও মুসলমানদের সংগঠিত করে বাঁশের কেল্লা তৈরি করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তিনি দেশকে পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত করতে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বীরের মতো নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।

    অনুরূপভাবে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি শোষক ও সামরিক জান্তার অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় জেল-জুলুম সহ্য করে বাঙালিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন এবং দেশকে মুক্ত করেন। এভাবে শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ঘটনায় উভয়ের জীবন সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তিতুমীরের মতো বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছেন—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    শহীদ তিতুমীর ১৮৩১ সালে বাঁশের কেল্লায় ব্রিটিশ বাহিনীর আধুনিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে সামান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লড়াই করে শাহাদাতবরণ করেন। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার রক্ষার জন্য কোনো আপস করেননি এবং নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে বীরত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ইতিহাসে অমর স্থান লাভ করেন।

    অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে তিনি একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণ এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর শত হুমকি ও মৃত্যুদণ্ডের মুখেও তিনি দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে অবিচল ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে সপরিবারে শহীদ হন।

    তিতুমীর যেমন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে শহীদ হয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন, তেমনি বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টি ও দেশপ্রেমের কারণে ইতিহাসের পাতায় চিরভাস্বর ও অমর হয়ে থাকবেন। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন