যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: রাফসান সত্যের আদর্শকে ধারণ করে জীবনযাপন করেন।দৃশ্যকল্প-২: সৌম্য কৃষিবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি গ্রামে গিয়ে একটি সমন্বিত কৃষিখামার গড়ে তুলেন।
- ক)(1)
যুক্তিবিদ্যার জনক কে?
- খ)(2)
যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ রাফসানের কর্মকাণ্ডে কোন বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এর আলোকে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যার জনক হলেন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে বিজ্ঞান কোনো একটি আদর্শকে সামনে রেখে বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে, তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যা সত্যতার আদর্শকে সামনে রেখে বৈধ চিন্তার নিয়মাবলি প্রণয়ন করে এবং ভ্রান্তি দূর করে সত্য অর্জনের পথ নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ্যা কেবল চিন্তার বাস্তব প্রক্রিয়া আলোচনা করে না, বরং সঠিক চিন্তার আদর্শ নির্ধারণ করে বলেই একে একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ রাফসানের কর্মকাণ্ডে যুক্তিবিদ্যার মূল লক্ষ্য বা আদর্শ অর্থাৎ 'সত্যের আদর্শ'-এর প্রতিফলন ঘটেছে।
যুক্তিবিদ্যা হলো চিন্তার নিয়ম সংক্রান্ত এমন একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান, যার পরম লক্ষ্য হলো সত্যকে অর্জন করা এবং মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকে পরিহার করা। রাফসান সত্যের আদর্শকে ধারণ করে জীবনযাপন করেন, যা যুক্তিবিদ্যার মূল লক্ষ্যের সাথে সরাসরি সঙ্গতিপূর্ণ।
যুক্তিবিদ্যায় সত্যতা দুই প্রকার— আকারগত সত্যতা এবং বস্তুগত সত্যতা। রাফসান সত্যনিষ্ঠ জীবন পরিচালনার মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ ও পরম সত্যকে ধারণ করেছেন। সত্যকে অনুসন্ধান ও ধারণ করাই যেহেতু যুক্তিবিদ্যার মূল ভিত্তি, তাই রাফসানের এই আচরণে যুক্তিবিদ্যার আদর্শনিষ্ঠ রূপ ও সত্যের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন স্পষ্ট।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এর আলোকে যুক্তিবিদ্যার 'ব্যবহারিক বিজ্ঞান ও কলা' হিসেবে স্বরূপটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
যুক্তিবিদ্যা একই সাথে বিজ্ঞান ও কলা। বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিবিদ্যা বৈধ যুক্তিপদ্ধতির নিয়মাবলি প্রণয়ন ও বিশ্লেষণ করে এবং কলা হিসেবে এটি সেসব নিয়মাবলিকে বাস্তব চিন্তায় প্রয়োগের কৌশল শিক্ষা দেয়।
দৃশ্যকল্প-২ এ দেখা যায়, সৌম্য কৃষিবিজ্ঞানে অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে নিছক ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে প্রয়োগ করে সমন্বিত কৃষিখামার গড়ে তুলেছেন। এটি বিজ্ঞানের ব্যবহারিক রূপ বা কলার প্রকাশ। যুক্তিবিদ্যার স্বরূপও ঠিক একই রকম— এটি কেবল যুক্তিপদ্ধতির তাত্ত্বিক নিয়মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বাস্তব জীবনে মানুষকে সঠিকভাবে ও কার্যকরভাবে যুক্তি প্রয়োগ করতে শেখায়।
যুক্তিবিদ্যাকে তাই বিজ্ঞানী যেভন্স এবং অলড্রিচ কলা হিসেবেও অভিহিত করেছেন, কারণ এটি বাস্তব চিন্তাকে সুশৃঙ্খল ও নির্ভুল করতে সাহায্য করে। পরিশেষে বলা যায়, তাত্ত্বিক জ্ঞানের বাস্তবমুখী প্রয়োগ যেমন কৃষিখামারের মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়েছে, তেমনি যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক জ্ঞান বাস্তব জীবনে কার্যকর চিন্তার কলাকৌশল হিসেবে প্রয়োগ লাভ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও