অর্থনীতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
সাজ্জাদ সাহেব মাসিক ৪০,০০০ টাকা মজুরিতে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরিতে যোগদান করেন। এর বাইরে তিনি আর কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। কিত্টু তাঁর বন্ধু আগীম সাহেব মাসিক ৩০,০০০ টাকা মজুরিতেত অপর একটি প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। বেতনের পাশাপাশি আলীম সাহেব প্রতি মাসে বাড়ি ভাড়া বাবদ b,,০০০ টাকা, চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ৪,০০০ টাকা এবং টেলিফোন বিল বাবদ ১,৫০০ টাকার অতিবিক্ত সুবিধা পান। ঐ সময়ে দেশের দামত্তর ১০০ টাকা।
- ক)(1)
শ্রমের চাহিদা বলতে কী বোঝায়?
- খ)(2)
শ্রমের ব্যক্তিগত যোগান রেখা পশ্চাৎমুখী হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
আলীম সাহেবের প্রকৃত মজুরি নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
আওতা, হিসাব করা নীতি নির্ধারণ ও অর্থনৈতিক তাৎপর্যের প্রেষিতে সাজ্জাদ সাহেব ৪ আলীম সাহেবের মজুরির মধ্যে তুলনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদন কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মজুরিতে নিয়োগকারীগণ যে পরিমাণ শ্রম বা শ্রমিক নিয়োগ করতে প্রস্তুত থাকে, তাকে শ্রমের চাহিদা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজুরি বৃদ্ধির একটি নির্দিষ্ট সীমার পর শ্রমিক কাজ অপেক্ষা বিশ্রামকে অধিক পছন্দ করায় শ্রমের ব্যক্তিগত যোগান রেখা পশ্চাৎমুখী (backward bending) হয়।
মজুরি বৃদ্ধি পেলে প্রাথমিকভাবে আয় প্রভাবের চেয়ে বিকল্পায়ন প্রভাব শক্তিশালী থাকে, ফলে শ্রমিক কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু মজুরি আরও বৃদ্ধি পেয়ে শ্রমিকের আয়ের প্রত্যাশিত স্তর অর্জিত হলে আয়ের প্রভাব বিকল্পায়ন প্রভাবের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়। তখন অতিরিক্ত মজুরিতেও শ্রমিক অতিরিক্ত কাজ না করে বিশ্রাম ও অবসর উপভোগ করতে চায়, যার ফলে শ্রমের যোগান কমে যায়। এ কারণে শ্রমের ব্যক্তিগত যোগান রেখা ঊর্ধ্বগামী হওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর পর বাম দিকে বা পশ্চাৎমুখী হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুসারে, আলীম সাহেবের প্রকৃত মজুরি নির্ণয় করা হলো:
আমরা জানি, প্রকৃত মজুরি (RW) = (আর্থিক মজুরি + অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা) / দামস্তর = (W + R) / P
উদ্দীপক থেকে প্রাপ্ত তথ্য:
আলীম সাহেবের মাসিক আর্থিক মজুরি (W) = ৩০,০০০ টাকা
অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা (R):- বাড়ি ভাড়া = ৮,০০০ টাকা (প্রশ্নে মুদ্রণপ্রমাদ হিসেবে 'b,,০০০' উল্লেখ থাকলেও তা ৮,০০০ টাকা)
- চিকিৎসা ব্যয় = ৪,০০০ টাকা
- টেলিফোন বিল = ১,৫০০ টাকা
মোট অতিরিক্ত সুবিধা (R) = ৮,০০০ + ৪,০০০ + ১,৫০০ = ১৩,৫০০ টাকা
মোট আর্থিক সুবিধা বা আয় = W + R = ৩০,০০০ + ১৩,৫০০ = ৪৩,৫০০ টাকা
দেশের দামস্তর (P) = ১০০ টাকা
অতএব, আলীম সাহেবের প্রকৃত মজুরি (RW) = (W + R) / P
= ৪৩,৫০০ / ১০০
= ৪৩৫ একক দ্রব্যসামগ্রী (বা ৪৩৫ টাকা সমমূল্যের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা)। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সাজ্জাদ সাহেব শুধুমাত্র নগদ অর্থ পান, যা তাঁর আর্থিক মজুরিকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে আলীম সাহেব নগদ বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পান, যা প্রকৃত মজুরির মূল উপাদান নির্দেশ করে। নিম্নে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের প্রেক্ষিতে তাঁদের মজুরির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আওতা: আর্থিক মজুরির পরিধি তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ; কারণ এতে শুধু শ্রমিক কর্তৃক প্রাপ্ত নগদ অর্থের হিসাব করা হয়, যা সাজ্জাদ সাহেবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (৪০,০০০ টাকা)। পক্ষান্তরে প্রকৃত মজুরির আওতা অনেক ব্যাপক; কারণ এতে নগদ অর্থের পাশাপাশি আবাসন, চিকিৎসা, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও দামস্তর অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা আলীম সাহেবের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
২. হিসাব করার পদ্ধতি: সাজ্জাদ সাহেবের মজুরি কেবল নির্ধারিত চুক্তিমূল্যে প্রাপ্ত নগদ অর্থের ভিত্তিতে সহজে সরাসরি হিসাব করা যায়। অপরদিকে আলীম সাহেবের মজুরি হিসাব করতে আর্থিক বেতনের সাথে অন্যান্য নগদ বা অনগদ সুযোগ-সুবিধার আর্থিক মূল্য যোগ করে দামস্তর দিয়ে ভাগ করতে হয়, যা তুলনামূলক জটিল।
৩. নীতি নির্ধারণ: কোনো প্রতিষ্ঠানের মজুরি কাঠামো বা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল আর্থিক মজুরির ওপর নির্ভর করলে শ্রমিকের প্রকৃত জীবনযাত্রার মান বোঝা যায় না। আলীম সাহেবের ক্ষেত্রে প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদে শ্রমিকের কল্যাণমূলক নীতি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
৪. অর্থনৈতিক তাৎপর্য: সাজ্জাদ সাহেবের আর্থিক মজুরি (৪০,০০০ টাকা) আপাতদৃষ্টিতে আলীম সাহেবের নগদ বেতনের (৩০,০০০ টাকা) চেয়ে বেশি মনে হলেও, প্রকৃত অর্থে আলীম সাহেবের মোট আর্থিক প্রাপ্তি (৪৩,৫০০ টাকা) বেশি এবং দামস্তর বিবেচনায় তাঁর ক্রয়ক্ষমতা ও প্রকৃত জীবনযাত্রার মান সাজ্জাদ সাহেবের চেয়ে উন্নত।
অতএব বলা যায়, অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাজ্জাদ সাহেবের আর্থিক মজুরির চেয়ে আলীম সাহেবের প্রকৃত মজুরিই শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান নির্দেশক হিসেবে অধিক অর্থবহ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও