‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি রাষ্ট্র পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বিভক্ত। পূর্ব অংশের জনগণ পশ্চিম অংশের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, শোষিত ও বঞ্চিত হচ্ছিল। পূর্ব অংশের জনগণ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের নেতা শাসকদের নিকট দায়িত্বশীল সরকার ব্যবস্থা, পৃথক মুদ্রা এবং আরও কিছু দাবি সম্বলিত এক কর্মসূচি উত্থাপন করে।

  1. ক)

    ফরায়েজী আন্দোলন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'ঋণ সালিশি বোর্ড' কেন গঠন করা হয়েছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার কর্মসূচির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন কর্মসূচির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উক্ত কর্মসূচির ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক ইসলাম ধর্মের মৌলিক ফরজসমূহ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলায় যে ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তাকে ফরায়েজী আন্দোলন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলার দরিদ্র কৃষকদের মহাজনি ঋণের করাল গ্রাস থেকে মুক্তি দেওয়া এবং ঋণভার লাঘব করার উদ্দেশ্যে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক 'ঋণ সালিশি বোর্ড' গঠন করেছিলেন। ১৯৩০-এর দশকের অর্থনৈতিক মন্দার ফলে কৃষকরা চড়া সুদের ঋণে জর্জরিত হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছিল; এ বোর্ডের মাধ্যমে কৃষক ও মহাজনের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে ঋণ হ্রাস ও পরিশোধের সহজ কিস্তি নির্ধারণ করা হতো।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার কর্মসূচির সাথে পাঠ্যবইয়ের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি'র সুস্পষ্ট মিল রয়েছে।

    ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ হিসেবে ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচিতে পাকিস্তানের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠা, প্রদেশগুলোর জন্য পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা ব্যবস্থা প্রবর্তন, রাজস্ব ও কর আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্তকরণ এবং আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি রাষ্ট্রের পূর্ব অংশের জনগণ পশ্চিম অংশের দ্বারা শোষিত ও বঞ্চিত হয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং তাদের নেতা দায়িত্বশীল সরকার ব্যবস্থা ও পৃথক মুদ্রাসহ একাধিক দাবি সম্বলিত কর্মসূচি পেশ করেন। এটি সরাসরি ১৯৬৬ সালের বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা দাবির প্রতিচ্ছবি, যা পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের মূল দলিল ছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ছয় দফা কর্মসূচির ভূমিকা ছিল অপরিসীম ও ভিত্তিস্বরূপ। একে বাঙালি জাতির 'ম্যাগনা কার্টা' বা মুক্তির সনদ বলা হয়।

    ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত জাগরণ ঘটে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের শোষণ, বৈষম্য এবং বঞ্চনার স্বরূপ স্পষ্টভাবে উন্মোচন করেন। ফলে পুরো পূর্ব পাকিস্তানের আপামর জনগণ তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির দিশা খুঁজে পায়।

    ছয় দফার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং আইয়ুব খানের পতন ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬ দফার ভিত্তিতেই জনগণের ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। নির্বাচনী রায় মেনে না নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করলে এই ৬ দফার চেতনা থেকেই একদফার রূপ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। অতএব, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ৬ দফা কর্মসূচির অবদান ছিল অনন্য ও দিকনির্দেশনামূলক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন