মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: ডঃ শাহীন দুর্ভিক্ষ ও বিবাহবিচ্ছেদের উপর। একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। অপরদিকে তার সহকর্মী ডঃ রায়হান শিশুর আবেগ নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেনে।. এজন্য তিনি টেপরেকর্ডার ও ক্যামেরার সাহায্য নেন।
- ক)(1)
বাহ্যিক চল নিয়ন্ত্রণের কৌশল কয়টি?
- খ)(2)
পরস্পর বিরোধী ফলাফলকে সমস্যার উৎস বলা হয় কেন?
- গ)(3)
'খ' চলটির বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
ডঃ শাহীন ও ডঃ রায়হানের গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতি দুটির তুলনামূলক মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় বাহ্যিক চল নিয়ন্ত্রণের প্রধান কৌশল হলো ৪টি (অপসারণ, স্থিতিশীল রাখা, ভারসাম্য স্থাপন বা ব্যালেন্সিং এবং পক্ষপাতহীন দৈবচয়ন বা র্যান্ডমাইজেশন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই বিষয়ে বিভিন্ন গবেষকের পরিচালিত গবেষণার ফলাফলে যখন অসঙ্গতি বা বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন তাকে পরস্পর বিরোধী ফলাফল বলা হয়।
পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহের ফলাফল পরস্পর বিরোধী হলে গবেষক প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য নতুন অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ফলাফলের এই বৈপরীত্য দূর করার জন্য কোন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোন ফলাফলটি সত্য তা যাচাই করতে নতুন গবেষণার সূত্রপাত ঘটে। এজন্য পরস্পর বিরোধী ফলাফলকে নতুন সমস্যা চিহ্নিতকরণ তথা সমস্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এর ছকে নির্দেশিত 'খ' চলটি হলো 'নির্ভরশীল চল' (Dependent Variable)।
পরীক্ষণে অনির্ভরশীল চলের প্রভাব যার উপর পড়ে এবং যার প্রতিক্রিয়া বা পরিবর্তন গবেষক পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণ করেন, তাকে নির্ভরশীল চল বলে। এটি মূলত অনির্ভরশীল চলের ফলাফল বা প্রতিক্রিয়া। পরীক্ষণ পাত্রের আচরণই সাধারণত নির্ভরশীল চল হিসেবে বিবেচিত হয়।
নির্ভরশীল চলের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. অনির্ভরশীল চলের ওপর নির্ভরশীল: এই চলের পরিবর্তন সম্পূর্ণরূপে অনির্ভরশীল চলের প্রয়োগ বা অপসারণের ওপর নির্ভর করে।
২. পরিমাপযোগ্যতা: নির্ভরশীল চলটিকে সংখ্যাগত বা গুণগতভাবে সুস্পষ্ট ও নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা যায় (যেমন: কাজের গতি, ভুলের সংখ্যা, প্রতিক্রিয়া সময় ইত্যাদি)।
৩. আচরণগত প্রকাশ: পরীক্ষণ পাত্র যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, তা-ই নির্ভরশীল চল হিসেবে রেকর্ড করা হয়। যেমন— দৃশ্যকল্প-১ এ শিশুর আবেগ নিয়ে গবেষণায় শিশুর কান্না, হাসি বা ভীতি প্রদর্শন হলো নির্ভরশীল চল। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ ডঃ শাহীন দুর্ভিক্ষ ও বিবাহবিচ্ছেদের সম্পর্ক নির্ণয়ে 'সহসম্বন্ধীয় বা পরিসংখ্যান পদ্ধতি' (বা সমীক্ষা পদ্ধতি) ব্যবহার করেছেন এবং ডঃ রায়হান টেপরেকর্ডার ও ক্যামেরার সাহায্যে শিশুর আবেগ অধ্যয়নে 'পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি' ব্যবহার করেছেন। নিচে এ দুটি পদ্ধতির তুলনামূলক মূল্যায়ন করা হলো:
১. বাস্তবসম্মত প্রয়োগ: দুর্ভিক্ষ ও বিবাহবিচ্ছেদের মতো সামাজিক চলগুলোকে পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা অনৈতিক ও অসম্ভব। তাই এ ধরনের ক্ষেত্রে ডঃ শাহীনের ব্যবহৃত সহসম্বন্ধীয় পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। অন্যদিকে শিশুর স্বাভাবিক আচরণ ও আবেগের তাৎক্ষণিক প্রকাশের ক্ষেত্রে ডঃ রায়হানের ব্যবহৃত পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি (ক্যামেরা ও টেপরেকর্ডার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত) অত্যন্ত উপযোগী।
২. কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়: ডঃ শাহীনের সহসম্বন্ধীয় পদ্ধতিতে দুটি ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক বা সংযোগের মাত্রা (সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক) জানা যায়, কিন্তু একটি অন্যটির কারণ কি না (কার্যকারণ সম্পর্ক) তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। পক্ষান্তরে, ডঃ রায়হানের পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে শিশুর উদ্দীপক ও প্রতিক্রিয়ার প্রত্যক্ষ বিবরণ পাওয়া গেলেও পরীক্ষণের মতো নিয়ন্ত্রিত কার্যকারণ প্রমাণ করা কঠিন।
৩. তথ্য সংগ্রহের বস্তুনিষ্ঠতা: ডঃ রায়হান ক্যামেরা ও টেপরেকর্ডার ব্যবহার করায় পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় গবেষকের ব্যক্তিগত পক্ষপাতিত্ব বা আত্মনিষ্ঠতা হ্রাস পেয়েছে এবং তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়েছে। অপরদিকে ডঃ শাহীনকে বিদ্যমান ঐতিহাসিক বা সংগৃহীত তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা ক্ষেত্রবিশেষে নির্ভুল নাও হতে পারে।
৪. কৃত্রিমতামুক্ত স্বাভাবিকতা: পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে শিশুর স্বাভাবিক পরিবেশে তার আচরণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়, ফলে আচরণের কৃত্রিমতা থাকে না। সহসম্বন্ধীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক বাস্তব ঘটনার উপাত্ত ব্যবহার করায় তাতেও কৃত্রিমতা থাকে না।
সারসংক্ষেপে, উভয় পদ্ধতিই স্ব-স্ব গবেষণার উদ্দেশ্য ও পরিস্থিতির জন্য বিজ্ঞানসম্মত ও যথোপযুক্ত। সামাজিক ও বৃহৎ পরিসরের চল বিশ্লেষণে সহসম্বন্ধ পদ্ধতি এবং প্রত্যক্ষ ও সূক্ষ্ম আচরণ অনুধ্যানে যান্ত্রিক সাহায্যযুক্ত পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি বিশেষ উপযোগী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও