বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

3.1.

গঠনগত দিক থেকে বাক্য কত প্রকার? উদাহরণসহ বাক্যের প্রকারভেদ আলোচনা করো।

3.2.

নিচের বাক্যগুলো শুদ্ধ করে লেখো: (যেকোনো পাঁচটি)
i. স্যারের কথা প্রমাণ
ii. একের লাঠি দশের বোঝা।
iii. সকাল সকাল চারাগুলো বপন করা হলে গেল।
iv. অপরাহ্ণ লিখতে কেউ কেউ ভুল করে।
v. সকল ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ।
vi. প্রাণীবিজ্ঞানের তিনজন শিক্ষকই গুণীসমাবেশে যাবেন।
vii. বেপরোয়া গাড়ি চালাবেন না
viii. সকাল হইতে বৃষ্টি হচ্ছে।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

স্পষ্ট অনুমান: ৩.১ ও ৩.২ এর মধ্যে পরীক্ষা পদ্ধতিতে সাধারণত যেকোনো একটির উত্তর করতে হয়, তবে সম্পূর্ণ সমাধানের স্বার্থে উভয় অংশেরই নির্ভুল উত্তর উপস্থাপন করা হয়েছে। | ৩.২ (iv) এ মূল প্রশ্নপত্রে 'অপরাহ্ন' (হ+ন) ছিল যা অশুদ্ধ, শুদ্ধ রূপ 'অপরাহ্ণ' (হ+ণ)।

(পরীক্ষায় ৩.১ অথবা ৩.২—যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। নিচে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে দুটি অংশেরই পূর্ণাঙ্গ সমাধান দেওয়া হলো)

৩.১ এর উত্তর:

গঠনগত দিক থেকে বাক্যের প্রকারভেদ:
গঠনগত বা রূপগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে বাংলা বাক্যকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
১. সরল বাক্য
২. মিশ্র বা জটিল বাক্য
৩. যৌগিক বাক্য

১. সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
উদাহরণ:

  • মেঘ ডাকলে বৃষ্টি হয়।
  • আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি।

২. মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য থাকে এবং তার ওপর নির্ভরশীল এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম বা যোজক (যেমন: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যদি-তবে, যত-তত ইত্যাদি) দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
উদাহরণ:

  • যদি মেঘ ডাকে, তবে বৃষ্টি হয়।
  • যিনি সত্যবাদী, তিনি সর্বত্র সম্মানিত হন।

৩. যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য যখন কোনো সংযোজক, বিয়োজক বা সংকোচনমূলক অব্যয় (যেমন: এবং, ও, কিন্তু, অথচ, বা, অথবা, সুতরাং ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
উদাহরণ:

  • মেঘ ডাকল এবং বৃষ্টি হলো।
  • লোকটি ধনী, কিন্তু তিনি কৃপণ।

অথবা, ৩.২ এর উত্তর:

বাক্য শুদ্ধিকরণ (যেকোনো পাঁচটি):

i. অশুদ্ধ: স্যারের কথা প্রমাণ
শুদ্ধ: স্যারের কথা প্রমাণিত। (বাক্যটিতে পদের অপপ্রয়োগ ঘটেছে এবং যতিচিহ্ন অনুপস্থিত)

ii. অশুদ্ধ: একের লাঠি দশের বোঝা।
শুদ্ধ: দশের লাঠি একের বোঝা। (প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতি সংশোধন)

iii. অশুদ্ধ: সকাল সকাল চারাগুলো বপন করা হলে গেল।
শুদ্ধ: সকাল সকাল চারাগুলো রোপণ করা হয়ে গেল। (বীজ বপন করা হয়, কিন্তু চারা রোপণ করা হয়)

iv. অশুদ্ধ: অপরাহ্ন লিখতে কেউ কেউ ভুল করে।
শুদ্ধ: অপরাহ্ণ লিখতে কেউ কেউ ভুল করে। (ন-ত্ব বিধান অনুসারে 'অহ্ন' শব্দের পূর্বে 'অপর' থাকায় দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয়; হ+ণ = হ্ণ)

v. অশুদ্ধ: সকল ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ।
শুদ্ধ: সকল ছাত্রই দেশের ভবিষ্যৎ। / ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ। (দ্বিরুক্ত বা বাহুল্য দোষ বর্জন)

vi. অশুদ্ধ: প্রাণীবিজ্ঞানের তিনজন শিক্ষকই গুণীসমাবেশে যাবেন।
শুদ্ধ: প্রাণিবিজ্ঞানের তিনজন শিক্ষকই গুণিসমাবেশে যাবেন। (সমাসবদ্ধ হলে 'প্রাণী' ও 'গুণী' শব্দের দীর্ঘ-ঈ-কার হ্রস্ব-ই-কারে পরিবর্তিত হয়)

vii. অশুদ্ধ: বেপরোয়া গাড়ি চালাবেন না
শুদ্ধ: বেপরোয়া গাড়ি চালাবেন না। (আধুনিক বানানরীতি অনুযায়ী 'য়', 'গাড়ি' এবং বাক্যের শেষে দাঁড়ি)

viii. অশুদ্ধ: সকাল হইতে বৃষ্টি হচ্ছে।
শুদ্ধ: সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। (অথবা সাধুরীতিতে: সকাল হইতে বৃষ্টি হইতেছে।)

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন