বাংলা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
সংলাপ/ক্ষুদে গল্প
11.1.
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলার সফলতা ও ব্যর্থতা জানিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
11.2.
নিচের অনুচ্ছেদটি অবলম্বনে একটি ক্ষুদে গল্প লেখ :সবুজ শ্যামল বাংলা মায়ের সোনালি ফসলের মাঠ আজ কনকীর্ণের চাপায় পিষ্ট ......
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১১.১. সংলাপরচনা:
বিষয়: বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলার সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে দুই বন্ধু রবিন ও সাকিবের মধ্যে সংলাপ।
রবিন: শুভ অপরাহ্ন সাকিব! কেমন আছিস?
সাকিব: ভালো আছি রবিন। কিন্তু ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর মনটা একটু খারাপ।
রবিন: বুঝতে পারছি, তুই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সের কথাই বলছিস। পুরো দেশই তো এবার অনেক বড় আশা করেছিল।
সাকিব: ঠিক তাই। বিশেষ করে ব্যাটিং বিপর্যয় ছিল সবচেয়ে হতাশাজনক। শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিতে চরম ব্যর্থ হয়েছে।
রবিন: একদম ঠিক। তবে কিছু ব্যক্তিগত সাফল্যও কিন্তু ছিল। যেমন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং শান্ত-মিরাজের কিছু সময়োপযোগী ইনিংস।
সাকিব: হ্যাঁ, তবে দলগত খেলা হিসেবে ধারাবাহিকতার অভাব ছিল স্পষ্ট। ফিল্ডিংয়েও অসংখ্য ক্যাচ মিস এবং অতিরিক্ত রান দেওয়ার ঘটনা আমাদের ভোগাল।
রবিন: তবে বোলারদের অবদান একেবারে ফেলে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে পেসাররা কিছু ম্যাচে শুরুতেই ভালো ব্রেক-থ্রু এনে দিয়েছিল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের মুহূর্তটি সত্যিই আনন্দদায়ক ছিল।
সাকিব: মানছি, কিন্তু বড় দলগুলোর বিপক্ষে আমরা কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারিনি। অধিনায়কত্ব ও টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা নিয়েও অনেক প্রশ্ন থেকে গেল।
রবিন: সঠিক বলেছিস। আধুনিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তির বিকাশ ঘটানো জরুরি।
সাকিব: সহমত। আশা করি অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে।
রবিন: অবশ্যই, দেশের ক্রিকেটের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও শুভকামনা সবসময় থাকবে। ভালো থাকিস।
সাকিব: তুইও ভালো থাকিস, ধন্যবাদ।
অথবা,
১১.২. ক্ষুদে গল্প:
শিরোনাম: মাটির ডাক
সবুজ শ্যামল বাংলা মায়ের সোনালি ফসলের মাঠ আজ কংক্রিটের চাপায় পিষ্ট। দিগন্তজোড়া ধানক্ষেত, যেখানে একসময় বাতাসে ঢেউ খেলত কৃষকের সোনালি স্বপ্ন, সেখানে আজ মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে ইট-পাথরের ধূসর কারখানা ও বহুতল অট্টালিকা।
গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক রহিম মল্লিক দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর পৈতৃক ভিটার সীমানায়। তাঁর চোখের সামনেই চলে গেছে জীবনের ষাটটি বছর। এই উর্বর মাটি তাঁর পরিবারের অন্ন জুগিয়েছে, সন্তানদের বড় করেছে। কিন্তু তথাকথিত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের লোভী থাবা ধীরে ধীরে গিলে খাচ্ছে আবাদি জমি। দালাল ও আবাসন ব্যবসায়ীদের প্রলোভন ও চাপে একে একে প্রতিবেশীরা জমি বিক্রি করে শহরে পাড়ি জমিয়েছে।
রহিম চাচার শেষ সম্বল দুই বিঘা ধানি জমি। বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি এসে তাকে লাখ লাখ টাকার লোভ দেখিয়েছে। বলেছে, “চাচা, জমি বেচে দিয়ে শহরে ফ্ল্যাট কেনেন, আরাম-আয়েশে দিন কাটান।” কিন্তু মাটির ঘ্রাণ যার রক্তে মিশে আছে, সে কি কখনো নিজের মাকে বিক্রি করতে পারে? রহিম চাচা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমার জমি আমার মা। মায়ের গায়ে আমি ইট-পাথর চাপাতে দেব না।”
একদিন রহিম চাচার নাতি আসিফ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে গ্রামে ফিরে এলো। আসিফ দাদাকে আশ্বস্ত করে বলল, “দাদু, তোমাকে কোনো জমি বিক্রি করতে হবে না। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে এই জমিতেই আমরা বহুমুখী ফসল ফলাব।” আসিফের উদ্যোগ দেখে এলাকার অন্যান্য তরুণরাও উৎসাহিত হলো। তারা বুঝতে পারল, কংক্রিটের বিস্তার নয়, মাটির উর্বরতা রক্ষা করাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খাদ্যসংকট ও পরিবেশ বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে পারে। রহিম চাচার চোখে তখন আনন্দাশ্রু—ফসলের মাঠ আবার প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও