পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব 'ক' একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দরিদ্র কৃষককুলের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড, কৃষক -শ্রমিক পার্টি গঠন করেন।জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করেন। অপরদিকে, জনাব 'খ' একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন অভিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। সামরিক শাসনের বিরোধিতা করে জেলা খেটেছেন।
- ক)(1)
দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
- খ)(2)
ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
জনাব 'খ'- এর সাথে তোমার পঠিত কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
জনাব 'ক'- এর কর্মকাণ্ড কেবলই কৃষক স্বার্থে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং তা আরও বিস্তৃত ছিল - মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা হলেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম সফল বহিঃপ্রকাশ। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালি জাতি তাদের মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করে এবং এর মধ্য দিয়ে স্বাধিকার ও স্বাধীনতার বীজ অঙ্কুরিত হয়। ভাষা আন্দোলনের সাফল্যই পরবর্তীতে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬ দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা জোগায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব 'খ'-এর সাথে আমার পঠিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাদৃশ্য রয়েছে।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন পদবি মুখ্যমন্ত্রী)। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের মানসপুত্র। তিনি পাকিস্তান সৃষ্টির পর বিরোধী দলীয় রাজনীতি গড়ে তোলেন, আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আজীবন সংগ্রাম করেন। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের তীব্র বিরোধিতা করায় তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। উদ্দীপকের জনাব 'খ'-ও অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেছেন এবং সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জেল খেটেছেন। তাই তাঁর সাথে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পূর্ণ সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জনাব 'ক' দ্বারা শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হককে নির্দেশ করা হয়েছে। তাঁর কর্মকাণ্ড কেবল কৃষকদের স্বার্থেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং শিক্ষা, রাজনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ছিল—উক্তিটি যথার্থ।
শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার দরিদ্র কৃষকদের মুক্তির জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড প্রতিষ্ঠা, প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন এবং পরবর্তীতে জমিদারী প্রথা উচ্ছেদে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখেন। তবে তাঁর অবদান কেবল কৃষিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি পিছিয়ে পড়া বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াতে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ, ইডেন কলেজ, ফজলুল হক মুসলিম হল, মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ এবং চাখারে ফজলুল হক কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।
রাজনীতিতেও তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস—উভয় দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক ছিলেন তিনি। এছাড়া ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অতএব, বলা যায় তাঁর কর্মকাণ্ড কেবল কৃষককুলের স্বার্থেই নয়, পুরো বাঙালি জাতির সামাজিক, শিক্ষাগত ও রাজনৈতিক মুক্তির ক্ষেত্রেও বিস্তৃত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও