অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নাহিদা আফরোজ সরকারি স্কুলের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা । তিনি সাধারণ ভবিষ্যৎ তাহবিল ফান্ড থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। তার মধ্যে ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনেছেন। অবশিষ্ট ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে তিনি আই পি ও এর মাধ্যমে কিছু শেয়ার এবং শেয়ারবাজার থেকে কিছু শেয়ার কিনেছেন ।
- ক)(1)
শেয়ারবাজার কীঢ ?
- খ)(2)
বন্ড থেকে শেয়ার কীভাবে পৃথক ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত নাহিদা আফরোজ কর্তৃক ক্রীত দু’ধরনের শেয়ারের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
- ঘ)(4)
‘নাহিদা আফরোজের শৌষক্ত বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অধিক মুনাফা পাওয়ার সম্ভবনা আছে ‘ -বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শেয়ারবাজার হলো এমন একটি সুসংগঠিত বাজার বা আর্থিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে যৌথ মূলধনী কোম্পানির শেয়ার, ডিবেঞ্চার ও অন্যান্য আর্থিক সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেন করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শেয়ার ও বন্ডের মূল পার্থক্য তাদের মালিকানা ও আয়ের ধরনে বিদ্যমান। শেয়ার হলো কোম্পানির মালিকানার ক্ষুদ্র একক, যা ক্রয় করলে বিনিয়োগকারী কোম্পানির আংশিক মালিকানা এবং লভ্যাংশ (মুনাফার অংশ) ভোগ করেন, যা ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতির ওপর নির্ভরশীল। পক্ষান্তরে, বন্ড হলো দীর্ঘমেয়াদি ঋণের দলিল; বন্ডহোল্ডার কোম্পানির ঋণদাতা হিসেবে গণ্য হন এবং কোম্পানির লাভ-ক্ষতি নির্বিশেষে একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ পেয়ে থাকেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নাহিদা আফরোজ দুই ধরনের শেয়ার ক্রয় করেছেন: ১. আইপিও (IPO)-এর মাধ্যমে শেয়ার এবং ২. শেয়ারবাজার (সেকেন্ডারি মার্কেট) থেকে শেয়ার। এদের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বাজারের ধরন: আইপিও-এর মাধ্যমে সরাসরি কোম্পানি থেকে প্রাথমিক বাজারে (Primary Market) নতুন শেয়ার ক্রয় করা হয়। অন্যদিকে শেয়ারবাজার থেকে কেনা শেয়ার সেকেন্ডারি বাজারে (Secondary Market) বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের মধ্য থেকে লেনদেন হয়।
২. মূল্য নির্ধারণ: আইপিও শেয়ার সাধারণত কোম্পানি কর্তৃক নির্ধারিত অভিহিত মূল্যে (Face Value) বা প্রিমিয়ামসহ নির্দিষ্ট স্থির মূল্যে কেনা হয়। কিন্তু সেকেন্ডারি শেয়ারে চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে।
৩. তহবিলের প্রাপক: আইপিও-এর শেয়ার ক্রয়ের টাকা সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি তাদের মূলধনের অংশ হিসেবে পায়। অন্যদিকে সেকেন্ডারি বাজারের শেয়ার ক্রয়ের টাকা সরাসরি অন্য বিক্রেতা বিনিয়োগকারী পেয়ে থাকেন, কোম্পানি পায় না। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নাহিদা আফরোজের শেষোক্ত বিনিয়োগ অর্থাৎ 'শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ' সঞ্চয়পত্রের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সেখানে অধিক মুনাফা পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে—উক্তিটি যথার্থ।
নাহিদা আফরোজ তাঁর মোট ৩০ লক্ষ টাকার মধ্যে ২০ লক্ষ টাকা সরকারি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন, যা সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত এবং নির্দিষ্ট হারে মুনাফা নিশ্চিত করে। কিন্তু অবশিষ্ট ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে তিনি শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন। শেয়ারবাজার একটি পরিবর্তনশীল ও অনিশ্চিত বাজার, যেখানে শেয়ারের দাম বিভিন্ন অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণে হ্রাস-বৃদ্ধি পায়। ফলে কোম্পানির লোকসান বা বাজারে দরপতনের কারণে বিনিয়োগকৃত মূলধন ক্ষতিগ্রস্ত বা হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তবে এই ঝুঁকির বিপরীতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মুনাফার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে একদিকে যেমন ভালো পরিমাণ নগদ বা স্টক লভ্যাংশ পাওয়া যায়, অন্যদিকে কোম্পানির প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে মূলধনী মুনাফা বা ক্যাপিটাল গেইন (কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি) অর্জনের ব্যাপক সুযোগ থাকে। অর্থাৎ 'High Risk, High Return' নীতির কারণে শেয়ারবাজারে ঝুঁকি যেমন বিদ্যমান, তেমনি বুদ্ধিমত্তা ও সঠিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে সরকারি সঞ্চয়পত্রের নির্দিষ্ট আয়ের চেয়ে বহু গুণ বেশি মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। অতএব, বক্তব্যটি অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ সঠিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও