বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সাহসী কৃষক নেতা নূরলদীনের সংগ্রামের কথা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নূরলদীনের সাহস আর ক্ষোভকে মুক্তিপাগল বাঙালি জাতি আজও ভোলেনি।
- ক)(1)
'ভগবানের দিব্যি কর্নেল সাহেব তোমরা বড় বেহায়া।'—উক্তিটি কার?
- খ)(2)
'পাবলিকের মনে টেরর জাগিয়ে রাখতে পারাটাই শাসন ক্ষমতার গ্রানাইট ফাউন্ডেশন।'সংলাপটি দিয়ে নাট্যকার কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নূরলদীনের চেতনার সঙ্গে সিরাজউদ্দৌলার চেতনাগত সাদৃশ্য তুলে ধর।
- ঘ)(4)
''নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেখানো পথই নূরলদীনের সংগ্রামের পথ।'' -মন্তব্যটির পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ভগবানের দিব্যি কর্নেল সাহেব তোমরা বড় বেহায়া।'—উক্তিটি উমিচাঁদের।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংলাপটি দিয়ে ইংরেজদের দমন-পীড়ন ও ভয় দেখিয়ে শাসনক্ষমতা টিকিয়ে রাখার সাম্রাজ্যবাদী নীতিকে বোঝানো হয়েছে।
ইংরেজ সেনাপতি ক্লেটন এ কথাটির মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শক্তির শোষণের মূল কৌশলটি প্রকাশ করেছেন। জনগণের মনে যদি শাস্তির ভয় ও ত্রাস সৃষ্টি করে না রাখা যায়, তবে তারা বিদ্রোহ করতে পারে। তাই ভয় বা আতঙ্ক ছড়িয়ে প্রজাদের বশীভূত রাখাই হলো শাসনের মজবুত ভিত্তি (গ্রানাইট ফাউন্ডেশন)—এটাই সংলাপটির মূল ভাব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নূরলদীনের চেতনার সঙ্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও দেশপ্রেমিক চেতনার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন স্বাধীনতাকামী এবং ইংরেজ ঔপনিবেশিক শক্তির আগ্রাসনবিরোধী এক আপসহীন শাসক। তিনি বাংলার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে ইংরেজদের অন্যায় আবদার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বীরদর্পে লড়াই করেছেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন।
উদ্দীপকের নূরলদীনও একইভাবে ১৭৮৩ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও দেশীয় সামন্তবাদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করে লড়াইয়ে নামেন। বিদেশি দখলদার ও শোষকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে জন্মভূমি ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষা করাই ছিল উভয়ের অভিন্ন লক্ষ্য। এই সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও স্বদেশপ্রেমের চেতনাতেই নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও নূরলদীন এক সূত্রে গাঁথা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
''নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেখানো পথই নূরলদীনের সংগ্রামের পথ''—মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য ও যুক্তিযুক্ত।
১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশরা বাংলার শাসনক্ষমতা কুক্ষিগত করে। কিন্তু নবাব ইংরেজদের চাতুর্য ও শোষণের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধের সূচনা করেছিলেন, তা পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী মুক্তি আন্দোলনের দিশারি হয়ে দাঁড়ায়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও পরাশক্তির বিরুদ্ধে মাথা নত না করার যে আদর্শ সিরাজ স্থাপন করেছিলেন, তা ছিল অবিস্মরণীয়।
পলাশীর ঘটনার কয়েক দশক পর ১৭৮৩ সালে নূরলদীন সেই একই ব্রিটিশ বেনিয়া ও তাদের দোসর সামন্ত প্রভুদের বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গে কৃষক বিদ্রোহের ডাক দেন। নবাবের মতোই নূরলদীন সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে শোষণ ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। সিরাজের অসম্পূর্ণ সংগ্রামই যেন প্রজ্বলিত হয়েছিল নূরলদীনের সাহসী নেতৃত্বে।
অতএব, সিরাজউদ্দৌলা যে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের পথ দেখিয়েছিলেন, নূরলদীন সেই পথেই হেঁটেছেন এবং তাঁর দেখানো সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়েছেন। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও