রসায়ন ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
রাইডার ধ্রুবক কী?
- খ)(2)
সেমি-মাইক্রো পদ্ধতি পরিবেশ বান্ধব কেন?
- গ)(3)
দ্রবণটির জন্য প্রযোজ্য হ্যাজার্ড প্রতীকটি অঙ্কন কর এবং ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে দ্রবণ থেকে উপযুক্ত কাচ পাত্র ব্যবহার করে। M ঘনমাত্রার দ্রবণ তৈরি করার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যালেন্সের বিমের এক দাগ অতিক্রম করতে রাইডারকে সরালে যে ভরের পার্থক্য ঘটে, তাকে রাইডার ধ্রুবক (Rider Constant) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সেমি-মাইক্রো পদ্ধতিতে রাসায়নিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে স্বল্প পরিমাণ নমুনাবস্তু (০.০৫ গ্রাম থেকে ০.১ গ্রাম) এবং দ্রাবক/বিকারক (২ থেকে ৪ মিলি) ব্যবহৃত হয়। ফলে এ পদ্ধতিতে বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ অনেক কম উৎপন্ন হয় এবং বিষাক্ত গ্যাস (যেমন H₂S, SO₂ ইত্যাদি) নির্গমনের পরিমাণ নগণ্য থাকে। বর্জ্য কম হওয়ায় পরিবেশ দূষণ মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। এজন্য সেমি-মাইক্রো পদ্ধতিকে পরিবেশ-বান্ধব (Green approach) পদ্ধতি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দ্রবণটি হলো গাঢ় H₂SO₄ (১০ M ঘনমাত্রা)। এটি একটি অত্যন্ত ক্ষয়কারী (Corrosive) পদার্থ।
প্রযোজ্য হ্যাজার্ড প্রতীক: ক্ষয়কারী প্রতীক (Corrosive Symbol - বর্গাকৃতির লাল সীমানার মধ্যে একটি পৃষ্ঠ বা ত্বকের ওপর এবং কোনো ধাতুর ওপর অ্যাসিড ফোঁটা ফোঁটা পড়ার ফলে ক্ষয় হওয়ার চিত্র অঙ্কন করতে হবে)।
ব্যাখ্যা:
১. গাঢ় H₂SO₄ তীব্র নিরুদক ও ক্ষয়কারী রাসায়নিক পদার্থ। এটি ত্বক বা চোখের সংস্পর্শে এলে মারাত্মক ক্ষত বা রাসায়নিক দহন সৃষ্টি করে।
২. এটি বিভিন্ন ধাতব ও জৈব বস্তুর সংস্পর্শে এলে সেগুলোকে দ্রুত ক্ষয় করে বা নষ্ট করে দেয়।
৩. তাই এই দ্রবণ ব্যবহারের সময় নিরাপত্তা চশমা (গগলস), মাস্ক এবং উপযুক্ত গ্লাভস (যেমন নাইট্রাইল গ্লাভস) ও অ্যাপ্রন পরিধান করা আবশ্যক। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রক্ষিত দ্রবণটি হলো ১০ M ঘনমাত্রার H₂SO₄ দ্রবণ। প্রশ্নানুসারে উপযুক্ত কাচপাত্র ব্যবহার করে ১০০ mL আয়তনের ১ M (M ঘনমাত্রার) লঘু দ্রবণ তৈরির প্রক্রিয়া নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. প্রয়োজনীয় মূল দ্রবণের আয়তন নির্ণয়:
আমরা জানি, লঘুকরণ সূত্রানুসারে:
V₁S₁ = V₂S₂
এখানে,
মূল দ্রবণের ঘনমাত্রা, S₁ = 10 M
প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা, S₂ = 1 M
প্রস্তুতকৃত দ্রবণের আয়তন (পাত্র-ক এর ধারণক্ষমতা), V₂ = 100 mL
প্রয়োজনীয় মূল দ্রবণের আয়তন = V₁অতএব, V₁ = (V₂ × S₂) / S₁
= (100 × 1) / 10 mL = 10 mL।২. কাচপাত্র নির্বাচন ও দ্রবণ তৈরির প্রক্রিয়া:
- উদ্দীপকের 'পাত্র-গ' হলো পিপেট। একটি পিপেট ও সাকশন বাল্ব ব্যবহার করে মূল দ্রবণ থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মেপে ঠিক ১০ mL গাঢ় H₂SO₄ দ্রবণ মেপে নেওয়া হয়।
- ১০০ mL এর একটি পরিষ্কার ও শুষ্ক ভলিউমেট্রিক ফ্লাস্ক (উদ্দীপকের 'পাত্র-ক') নেওয়া হয়। ফ্লাস্কে প্রথমে প্রায় ৫০ mL পাতিত পানি নেওয়া হয় (উল্লেখ্য, কখনোই সরাসরি গাঢ় অ্যাসিডে পানি ঢালা যাবে না; পানির ভেতর ধীরে ধীরে অ্যাসিড যোগ করতে হয়)।
- এরপর পিপেট থেকে ১০ mL গাঢ় অ্যাসিড ফ্লাস্কের ভেতরের গা বেয়ে ধীরে ধীরে পাতিত পানিতে যোগ করা হয় এবং মৃদুভাবে ঝাঁকিয়ে মিশ্রিত করা হয়। অ্যাসিড পানিতে যোগ করার ফলে তাপ উৎপন্ন হয়, তাই ফ্লাস্কটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠাণ্ডা হতে দেওয়া হয়।
- দ্রবণটি ঠাণ্ডা হওয়ার পর পাতিত পানি যোগ করে দ্রবণের মেনিসকাসকে ১০০ mL দাগ পর্যন্ত আনা হয়।
- এরপর ছিপি লাগিয়ে ফ্লাস্কটি ভালোভাবে উল্টিয়ে ঝাঁকিয়ে মিশ্রিত করলেই কাঙ্ক্ষিত ১ M ঘনমাত্রার H₂SO₄ দ্রবণ প্রস্তুত হয়ে যাবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও