বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মোবারক নিঃসন্তান দরিদ্র কৃষক। সে শীতের কোনো এক সন্ধ্যায় কাজ শেষে ব্যস্তভাবে বাড়ি ফিরছিলো। হঠাৎ বড় আম বাগানের ভিতর থেকে এক শিশুর কান্নার শব্দ তার কানে এলো। সে একটু এগিয়ে দেখলো, এক রুগ্ন শিশু শুকনো পাতার ভিতর নড়ছে। শিশুটিকে মোবারক বাড়ি নিয়ে এলো এবং স্ত্রী ফরিদাকে ডেকে বললো, "এই নাও, আমাদের শূন্য ঘরের আনন্দ।" দুজনে মিলে শিশুটির নাম রাখল রহমত।শিশুটিকে মোবারক ও ফরিদা সন্তান স্নেহে লালন-পালন করতে লাগলো।
- ক)(1)
আহ্বান' গল্পে লেখক বুড়িকে প্রথম কোথায় দেখেছিলেন?
- খ)(2)
ওর স্নেহাতুর আত্মা বহুদূর থেকে আমায় আহ্বান করে এনেছে।"- এ উক্তির তাৎপর্য কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মোবারক দম্পতির মাধ্যমে 'আহ্বান' গল্পের কোন দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও 'আহ্বান' গল্পের মূল বক্তব্য একই সূত্রে গাঁথা।"- মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আহ্বান' গল্পে লেখক বুড়িকে প্রথম দেখেছিলেন দেশের আমবাগানের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জীর্ণ কুটিরের উঠোনে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটির মাধ্যমে বুড়ির অকৃত্রিম, নিঃস্বার্থ ও গভীর বাৎসল্য স্নেহের আন্তরিক টান লেখক অনুভব করতে পেরেছিলেন—তা প্রকাশ পেয়েছে।
লেখক দীর্ঘদিন পর গ্রামে ফিরে জানতে পারেন বুড়ি মারা গেছে এবং মারা যাওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত বুড়ি লেখকের পথ চেয়ে ছিল। রক্তের কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও বুড়ির এই নিবিড় ভালোবাসা লেখককে অন্তর থেকে নাড়া দেয়। তাই লেখকের মনে হয়েছিল, দূর থেকে বুড়ির সেই অপার্থিব ভালোবাসার আত্মিক টানেই যেন তিনি সঠিক সময়ে গ্রামে এসে উপস্থিত হয়েছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মোবারক দম্পতির মাধ্যমে 'আহ্বান' গল্পের অনাত্মীয় দরিদ্র মানুষের মধ্যকার মানবিক ও অকৃত্রিম বাৎসল্য স্নেহের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
'আহ্বান' গল্পে দেখা যায়, বৃদ্ধা বুড়ি এবং লেখক গোপালের মধ্যে কোনো রক্ত বা পারিবারিক সম্পর্ক ছিল না, এমনকি তাদের ধর্মও ছিল ভিন্ন। তবুও নিঃসঙ্গ বুড়ি তার মাতৃহৃদয়ের সমস্ত ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছিল গোপালের প্রতি। বুড়ির কাছে গোপাল ছিল তার নিজের সন্তানের মতো পরম আদরের।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, দরিদ্র কৃষক মোবারক ও ফরিদা কোনো রক্তসম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও এক কুড়িয়ে পাওয়া রুগ্ন শিশুকে পরম স্নেহে আপন করে নেয় এবং 'রহমত' নাম দিয়ে সন্তানের মর্যাদায় লালন-পালন করতে থাকে। সুতরাং, রক্তের সম্পর্কের বাইরে গিয়ে নিঃস্বার্থ মানবিক স্নেহ-ভালোবাসায় অন্যকে আপন করে নেওয়ার যে দিকটি 'আহ্বান' গল্পে রয়েছে, উদ্দীপকের মোবারক দম্পতির আচরণে ঠিক সেই দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও 'আহ্বান' গল্পের মূল বক্তব্য একই সূত্রে গাঁথা—মন্তব্যটি যথার্থ ও সুপ্রমাণিত।
'আহ্বান' গল্পের মূল সুর হলো ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও রক্তসম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে গড়ে ওঠা চিরন্তন ও নিঃস্বার্থ মানবপ্রেম। গল্পে এক নিঃস্ব ও বৃদ্ধা নারীর সঙ্গে শহরের শিক্ষিত নাগরিক যুবকের স্নেহ-মমতার এক স্বর্গীয় বন্ধন রচিত হয়েছিল। বৃদ্ধা বুড়ি রক্তের বন্ধনহীন অচেনা যুবককে পুত্রস্নেহে জড়িয়েছিল, আর লেখকও তাকে নিজের মায়ের মতো স্থান দিয়েছিলেন অন্তরে।
উদ্দীপকে নিঃসন্তান মোবারক ও ফরিদা দম্পতি বাগানে কুড়িয়ে পাওয়া এক অচেনা, রুগ্ন শিশুকে নিঃসঙ্কোচে নিজেদের শূন্য ঘরের আলো হিসেবে বরণ করে নেয়। রক্তের কোনো পরিচয় না জেনেও তারা শিশুটিকে বুকভরা অপত্য স্নেহে লালন-পালন করতে থাকে। এখানেও জাত-পরিচয় বা রক্তের বন্ধনের চেয়ে মানবিক মমতা ও ভালোবাসাই মুখ্য হয়ে উঠেছে।
উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বাহ্যিক পার্থিব পরিচয় বা রক্তসম্পর্ক মানব হৃদয়ের আসল টান নয়; বরং মানুষের প্রতি মানুষের অকৃত্রিম মমতা, ভালোবাসা ও আত্মিক বন্ধনই জীবনের শ্রেষ্ঠ দিক। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চেতনা এবং 'আহ্বান' গল্পের মূল বক্তব্য এক ও অভিন্ন সূত্রে গ্রথিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও