অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জিতু নবম শ্রেণি থেকেই উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত। তার পুঁজি কম ছিল তাই আত্মীয়-স্বজন, গ্রাম্য মহাজন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে। খামারের আয়তন বৃদ্ধি পাওয়ায় তাকে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। বর্তমানে সে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তার কৃষি খামারে ৩০০ শ্রমিক কাজ করে। গরু, ছাগল, মুরগি, মাছ, হ্যাচারি এবং খাদ্যশস্যসহ নানা ধরনের খাদ্যবীজ উৎপাদন হয়। এখানে উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করা হয় যা উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে।

  1. ক)

    কৃষি কাঠামো কী?

    (1)
  2. খ)

    শস্য বহুমুখীকরণ কি খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জিতুর ঋণ গ্রহণের উৎসসমূহ উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জিতুর উৎপাদন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কী ভূমিকা পালন করে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষি কাঠামো বলতে সাধারণত কোনো দেশের কৃষিজমির মালিকানা স্বত্ব, ফসলের বণ্টন ব্যবস্থা, উৎপাদনের ধরন এবং চাষাবাদের সাথে জড়িত বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের সামগ্রিক রূপকে বোঝায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, শস্য বহুমুখীকরণ খাদ্য ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    একই জমিতে কেবল একটি নির্দিষ্ট ফসল বা শস্য বারবার চাষ না করে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য, শাকসবজি ও ডালজাতীয় ফসল উৎপাদন করাই হলো শস্য বহুমুখীকরণ। এর ফলে জমির উর্বরতা বজায় থাকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি কমে এবং সারা বছর খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত থাকে। ফলস্বরূপ পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক খাদ্য ঘাটতি পূরণ হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের জিতুর ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় উৎসের সম্পৃক্ততা দেখা যায়।

    কৃষি ঋণের উৎস মূলত দুই প্রকার: অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎস। যেসব উৎস কোনো রাষ্ট্রীয় বা আর্থিক আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়, যেমন- আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, গ্রাম্য মহাজন, ব্যবসায়ী ইত্যাদি হলো অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস। অন্যদিকে যেসব উৎস সরকারি বা রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতির অধীনে পরিচালিত হয়, যেমন- বাণিজ্যিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বিভিন্ন এনজিও ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি হলো প্রাতিষ্ঠানিক উৎস।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জিতু শুরুতে পুঁজির প্রয়োজনে আত্মীয়-স্বজন, গ্রাম্য মহাজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিল, যা কৃষি ঋণের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস। পরবর্তীতে খামারের পরিধি বড় হওয়ায় সে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হয় এবং বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করে, যা কৃষি ঋণের প্রাতিষ্ঠানিক উৎসের প্রতিফলন। সুতরাং, জিতু তার কৃষি খামার পরিচালনার জন্য প্রথমে অপ্রাতিষ্ঠানিক এবং পরবর্তী সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জিতুর বহুমুখী কৃষি উৎপাদন ও বাণিজ্যিক খামার দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

    কৃষি প্রধান দেশে আধুনিক খামার প্রতিষ্ঠা খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, পুষ্টির জোগান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জিতু একটি আধুনিক ও সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছে, যেখানে গরু, ছাগল, মুরগি, মাছ, হ্যাচারি এবং উন্নত খাদ্যবীজ উৎপাদিত হয়। এর অর্থনৈতিক গুরুত্বগুলো নিম্নরূপ:
    ১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: খামারে ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকায় তা প্রত্যক্ষভাবে গ্রামীণ বেকারত্ব হ্রাস ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অবদান রাখছে।
    ২. খাদ্য ও পুষ্টির জোগান: উৎপাদিত খাদ্যশস্য, মাছ, মাংস ও ডিম দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
    ৩. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: খামারের উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়ে দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
    ৪. কৃষি আধুনিকায়ন: উন্নত খাদ্যবীজ ও হ্যাচারি উৎপাদনের মাধ্যমে সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

    অতএব, জিতুর খামারটি বেকারত্ব দূরীকরণ, পুষ্টির স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ ও গতিশীল করতে জোরালো ভূমিকা রাখছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন