বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

মথুরাপুর গ্রামের তরুণ সমাজ একত্র হয়ে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। এরমধ্যে রয়েছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিনামূল্যে দুস্থদের চিকিৎসা সেবা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানকর্মসূচি। এর ফলে একদিকে যেমন মানুষকে মরতে হচ্ছে না চিকিৎসা ও রক্তের অভাবে,অন্যদিকে এলাকার বেকার ও অলস জীবনযাপনকারী ছেলেমেয়েদের জীবন বদলে গেছে।সেবার মহান ব্রত নিয়ে গোটা সমাজটাকে পাল্টে ফেলার চেষ্টা করছে তারা। আর তরুণপ্রজন্মের এমন কার্যক্রমে স্বস্তি ফিরে এসেছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

  1. ক)

    ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

    (1)
  2. খ)

    ‘এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।’- উক্তিটির অর্থ কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তরুণদের কার্যক্রমের মাঝে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকটি ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার আংশিক ভাব ধারণ করেছে।”- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘ছাড়পত্র’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে’- উক্তিটির মাধ্যমে কবি তরুণ প্রজন্মের দেশপ্রেম, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনা ও কল্যাণকর শক্তিকে জাতির সার্বিক মুক্তির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রত্যাশা করেছেন।

    আঠারো বছর বয়স ইতিবাচক চেতনা, আত্মত্যাগ এবং সমস্ত ভীরুতা ও বাধা অতিক্রম করার অদম্য শক্তিতে বলীয়ান। কবি চান, জরাগ্রস্ত, পরাধীন বা অন্যায়ে নিমজ্জিত সমাজে এই তারুণ্যের উদ্দীপনা, তেজ এবং আত্মত্যাগের মহিমা নেমে আসুক, যাতে সমাজ ও দেশের সর্বস্তরের স্থবিরতা ও অন্যায় দূরীভূত হয়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তরুণদের কার্যক্রমের মাঝে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার তরুণ সমাজের নিঃস্বার্থ সেবা, সামাজিক কল্যাণসাধন এবং ইতিবাচক রূপান্তরের দিকটি ফুটে উঠেছে।

    ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি উল্লেখ করেছেন যে, তারুণ্য কেবল দুর্যোগের মোকাবিলাই করে না, বরং তা মানবকল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতেও জানে। এ বয়স সমাজ সংস্কারের শপথ নেয় এবং অন্যায় ও অকল্যাণকে রুখে দিতে সচেষ্ট থাকে।

    উদ্দীপকের মথুরাপুর গ্রামের তরুণেরাও একত্রিত হয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, দুস্থদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানের মতো সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাদের নিঃস্বার্থ সেবামূলক মনোভাবের মাধ্যমে যেমন মানুষের জীবন রক্ষা পাচ্ছে, তেমনি অলস তরুণ সমাজও কর্মমুখর হয়ে গোটা সমাজকে বদলে দিচ্ছে। তারুণ্যের এই মানবকল্যাণকামী ও সমাজ পরিবর্তনের বলিষ্ঠ ভূমিকাই ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার ইতিবাচক দিকটিকে সার্থকভাবে ধারণ করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকটি ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার আংশিক ভাব ধারণ করেছে।”— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় তারুণ্যের বহুবিধ ও বহুমুখী বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। এ বয়সে একদিকে যেমন থাকে সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ, বিদ্রোহ, বাধা-বিপত্তিকে দুমড়ে-মুচড়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় এবং আত্মত্যাগের নির্ভীক প্রেরণা, অন্যদিকে থাকে তীব্র দ্বিধাদ্বন্দ্ব, ভুল পথে চলার আশঙ্কা, দুর্যোগ আর বেদনার ঝুঁকি। কবি এ বয়সের সমস্ত জটিলতা, বিদ্রোহ, শৃঙ্খল ভাঙার গান এবং একই সাথে কল্যাণকামী দিকের সামগ্রিক মূল্যায়ন করেছেন।

    অন্যদিকে উদ্দীপকে কেবল তারুণ্যের ইতিবাচক ও গঠনমূলক সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড— যেমন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং রক্তদান কর্মসূচিকে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে আঠারো বছর বয়সের পরার্থপরতা, ঐক্যবদ্ধ শক্তি এবং জনকল্যাণমূলক দিকটি প্রকাশিত হলেও কবিতার অন্যান্য মুখ্য দিক, বিশেষত তারুণ্যের দ্রোহ, রক্তদানের তীব্র ঝুঁকি, বিপ্লবী মনোভাব এবং প্রচলিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রচণ্ড অভিঘাতের দিকটি উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

    সুতরাং, উদ্দীপকটি ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার সার্বিক বৈশিষ্ট্যকে নয়, বরং তারুণ্যের সেবামূলক ও ইতিবাচক দিকটির আংশিক ভাবকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। তাই আলোচ্য মন্তব্যটি যথাযথ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন