‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'X' নামক রাষ্ট্রটি প্রায় দুইশত বছর বিদেশি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা শাসিত হয়েছে। প্রথম থেকে উক্ত রাষ্ট্রে টিকে থাকার জন্য বিদেশি শাসকগোষ্ঠী নানাবিধ কূটকৌশল অবলম্বন করতে থাকে। জনগণকে খুশি করার জন্য বিভিন্ন সময় শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন আইন তৈরি করে। কিন্তু কোনো আইনই উত্ত রাষ্ট্রের জনগণকে খুশি করতে পারেনি। অবশেষে বিদেশি শাসকগোষ্ঠী একটি আইন তৈরি করে 'X' নামক রাষ্ট্রটিকে বিভক্ত করে দুটি পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দিয়ে নিজ দেশে চলে যায়।

  1. ক)

    দ্বিজাতি তত্ত্ব কী?

    (1)
  2. খ)

    ভাগ কর' ও 'শাসন কর' নীতি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো ১৯৩৯-১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক প্রচারিত একটি রাজনৈতিক মতবাদ, যেখানে ভারতকে হিন্দু ও মুসলিম—এই দুটি প্রধান জাতিতে বিভক্ত এবং তাদের জন্য পৃথক আবাসভূমির কথা বলা হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule) নীতি বলতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের এমন এক কৌশলকে বোঝায়, যার মাধ্যমে তারা শাসিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয়, জাতিগত ও সামাজিক ভেদাভেদ উসকে দিয়ে পারস্পরিক বিভাজন সৃষ্টি করত, যাতে ঐক্যবদ্ধ কোনো প্রতিরোধ গড়ে উঠতে না পারে এবং তাদের শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়। ভারতে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য এবং দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে ব্রিটিশরা প্রায় দুইশত বছর এই নীতির মাধ্যমেই ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজন ও ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের (Indian Independence Act 1947) মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, 'X' রাষ্ট্রটি প্রায় দুইশত বছর ধরে বিদেশি শাসকগোষ্ঠীর অধীনে ছিল এবং নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন কৌশল ও আইন প্রণয়ন করে। অনুরূপভাবে, ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় দুইশত বছর (১৭৫৭-১৯৪৭) শাসন চালায় এবং বিভিন্ন সময়ে ভারত শাসন আইন প্রণয়ন করে। কিন্তু ভারতীয় জনগণের স্বাধিকার আন্দোলনের মুখে অবশেষে ব্রিটিশরা ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন পাসের মাধ্যমে অবিভক্ত ভারতকে বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। উদ্দীপকে 'X' রাষ্ট্রের বিভক্তি ও দুটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের ঘটনাটি ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক ভারত বিভাগের প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটি হলো ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন' (Indian Independence Act, 1947)। উপমহাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এ আইনের গুরুত্ব অপরিসীম।

    প্রথমত, এই আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে এবং ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি সার্বভৌম ও স্বাধীন ডোমিনিয়ন বা রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

    দ্বিতীয়ত, এ আইনের ফলে দেশীয় রাজ্যগুলোর ওপর ব্রিটিশ সরকারের সার্বভৌমিকতার বিলুপ্তি ঘটে এবং তারা ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার অথবা স্বাধীন থাকার স্বাধীনতা লাভ করে।

    তৃতীয়ত, আইন অনুযায়ী উভয় রাষ্ট্রের জন্য পৃথক গণপরিষদ গঠন করা হয়, যা নিজ নিজ দেশের জন্য স্বাধীন সংবিধান রচনার দায়িত্ব পায়। যতদিন পর্যন্ত নতুন সংবিধান কার্যকর না হয়, ততদিন পর্যন্ত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী শাসনকাজ পরিচালনার বিধান রাখা হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, এই আইনের মধ্য দিয়েই দীর্ঘ প্রায় দুই শতাব্দীর ব্রিটিশ পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তানের জনগণ আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার লাভ করে। সুতরাং রাজনৈতিক মুক্তির দলিল হিসেবে এ আইনের গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন