বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ ছিল ইতিহাসের অন্যতম রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধ। একদিকে সম্মিলিত মুসলিম বাহিনী, অন্যদিকে মারাঠারা। ইব্রাহিম কার্দি ও জোহরা বেগম স্বামী-স্ত্রী হয়েও যথাক্রমে মারাঠা ও মুসলিম শিবিরের পক্ষে সেনাপতি হিসেবে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। জোহরা বেগম স্বামী ইব্রাহিম কার্দিকে মুসলিম শিবিরে যোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু ইব্রাহিম কার্দি স্পষ্ট জানিয়ে দেন-"যে ফিরে যাবে সে আমি হব না। সে হবে বিশ্বাসঘাতক। সে হবে ইব্রাহিম কার্দির লাশ। আমার সংকটের দিনে যারা আমাকে আশ্রয় দিয়েছে, কর্মে নিযুক্ত করেছে, ঐশ্বর্য দান করেছে সে মারাঠােেদর বিপদের দিনে আমি চুপ করে বসে থাকবো? পদত্যাগ করবো? সে হয় না, জোহরা।"
- ক)(1)
পলাশির যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
'ফিরে এসেছি রাজধানীতে স্বাধীনতা বজায় রাখার শেষ চেষ্টা করব বলে।'-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দির সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রধান সেনাপতি মিরজাফর চরিত্রের বৈসাদৃশ্য বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
"সেনাপতি ও অমাত্যরা উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দির মতো অনুগত্য ও বিশ্বস্ততার পরিচয় দিলে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের পরিণতি অন্যরকম হতে পারত।"-মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পলাশির যুদ্ধ ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি নবাব সিরাজউদ্দৌলার, যা তিনি পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের পর দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার শেষ প্রদীপ রক্ষা করার লক্ষ্যে ব্যক্ত করেছিলেন।
পলাশির প্রান্তরে প্রধান সেনাপতি মিরজাফরের চরম বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের সুনিশ্চিত জয় পরাজয়ে রূপান্তরিত হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে উঠলে নবাব রাজধানী মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল রাজধানীতে ফিরে এসে অবশিষ্ট সৈন্যবল ও অর্থসম্পদ দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বাংলার স্বাধীনতা বজায় রাখা। সেই তীব্র দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি কথাটি বলেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দির সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রধান সেনাপতি মিরজাফর চরিত্রের বৈসাদৃশ্য মূলত বিশ্বস্ততা বনাম বিশ্বাসঘাতকতার দিক থেকে সুস্পষ্ট।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ইব্রাহিম কার্দিকে তাঁর স্ত্রী জোহরা বেগম মারাঠাদের পক্ষ ত্যাগ করে মুসলিম শিবিরে যোগ দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ইব্রাহিম কার্দি যে দল তাঁকে আশ্রয়, সম্মান ও ঐশ্বর্য দিয়েছে, বিপদের দিনে তাদের ত্যাগ করতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানান। তিনি কোনো অবস্থাতেই বিশ্বাসঘাতক হতে চাননি। তিনি নিষ্ঠা, কৃতজ্ঞতাবোধ ও কর্তব্যের প্রতি অবিচল আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
অন্যদিকে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাবের প্রধান সেনাপতি মিরজাফর নবাবের অশেষ অনুগ্রহ, সম্মান ও উচ্চপদ লাভ করা সত্ত্বেও পদে পদে নবাবের সাথে বেইমানি করেছেন। পবিত্র কুরআন স্পর্শ করে আনুগত্যের শপথ নিয়েও তিনি ইংরেজদের সাথে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে সিংহাসনের লোভে যুদ্ধক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় থেকেছেন। এভাবে ইব্রাহিম কার্দি যেখানে চরম মুহূর্তেও প্রভুর প্রতি বিশ্বস্ততার পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন, সেখানে মিরজাফর লোভ ও স্বার্থের বশবর্তী হয়ে দেশ ও নবাবের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এখানেই দুজনের চরিত্রের প্রধান বৈসাদৃশ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। সেনাপতি ও অমাত্যরা উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দির মতো অনুগত ও দেশপ্রেমিক হলে বাংলার স্বাধীন সূর্য অস্তমিত হতো না এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের পরিণতিও এত বিয়োগান্তক হতো না।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, প্রধান সেনাপতি মিরজাফর, অমাত্য রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ প্রমুখের সীমাহীন উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পলাশির যুদ্ধে নবাবের নিশ্চিত বিজয় পরাজয়ে পর্যবসিত হয়। মীর মদন ও মোহনলালের বীরত্ব সত্ত্বেও মিরজাফরের চক্রান্তের ফাঁদে পড়ে বাংলা তার স্বাধীনতা হারায় এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে করুণ পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়।
উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দি ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়েও আশ্রয়দাতার প্রতি আনুগত্য ও পেশাগত সততাকে বড় করে দেখেছেন। প্রলোভন ও অনুরোধ উপেক্ষা করে তিনি মারাঠাদের পক্ষে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন। নবাবের দরবারের অমাত্য ও সেনাপতিরা যদি ইব্রাহিম কার্দির মতো এই ধরনের কৃতজ্ঞতাবোধ, সততা এবং কর্তব্যের প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রাখতেন, তবে বিদেশি ইংরেজরা কখনই দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীদের কাঁধে ভর করে বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করতে পারত না। নবাবকে নিঃসঙ্গ অবস্থায় পরাজয় মেনে নিয়ে ঘাতকের হাতে প্রাণ দিতে হতো না।
অতএব, সেনাপতি ও পারিষদরা যদি ইব্রাহিম কার্দির মতো আত্মমর্যাদাবোধ ও বিশ্বস্ততার পরিচয় দিতেন, তবে পলাশির যুদ্ধসহ গোটা বাংলার ইতিহাস এবং নাটকের ট্র্যাজেডিপূর্ণ পরিণতি নিশ্চিতভাবেই ইতিবাচক ও অন্যরকম হতে পারত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও