যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১ : বৃষ্টির পর মাটি ভিজে যে গন্ধটা হয় তা চৈতালীর খুব ভালো লাগে। টিনের চালে বৃষ্টির টাপুর-টুপুর শব্দে তার মন ভরে যায়। তার মা তাকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেন না। তাই তার খুব দুঃখ হয়।দৃশ্যপট-২: হাতি শুঁড় নাড়ালে পৃথিবী ঘোরে।
- ক)(1)
ব্যাখ্যা কাকে বলে?
- খ)(2)
'লৌকিক ব্যাখ্যা মনগড়া' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
দৃশ্যপট-১-এ দাগযুক্ত শব্দগুলো ব্যাখ্যার কোন বিষয়টি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যপট-২ ও দৃশ্যপট-৩-এর মধ্যে ব্যাখ্যাগত পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দুর্বোধ্য, অস্পষ্ট ও জটিল বিষয়কে সহজ, প্রাঞ্জল ও বোধগম্য করে প্রকাশ করাকে ব্যাখ্যা (Explanation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লৌকিক ব্যাখ্যা মনগড়া' বলতে বোঝায়—কোনো ঘটনার কার্যকারণ বা বৈজ্ঞানিক নিয়ম অনুসন্ধান না করে অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার কিংবা অলৌকিক শক্তির কাল্পনিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা প্রদান করা।
সাধারণ মানুষ কোনো প্রাকৃতিক বা জাগতিক ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ আবিষ্কার করতে পারে না বলে নিজেদের মতো করে অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃতিক কারণ কল্পনা করে নেয়। এই ধরনের ব্যাখ্যার কোনো বস্তুনিষ্ঠ সত্যতা বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, বরং তা পুরোপুরি ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও কাল্পনিক অনুমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই লৌকিক ব্যাখ্যাকে মনগড়া বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-১-এ উল্লিখিত গন্ধ, শব্দ বা অনুভূতির মতো মানসিক বিষয়গুলো 'ব্যাখ্যার সীমা' (Limits of Explanation)-কে নির্দেশ করে।
যুক্তিবিদ্যায় সকল বিষয়ের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। যেসব বিষয়ের কোনো সার্বিক বা সাধারণ নিয়ম নেই কিংবা যেসব ঘটনা অন্য কোনো নিয়মের সাথে সংযুক্ত করা যায় না, তাদের ব্যাখ্যা প্রদান করা যায় না। এগুলোকেই ব্যাখ্যার সীমা বলা হয়। যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের মতে, মনের মৌলিক চেতনা বা অনুভূতিসমূহ (যেমন—আনন্দ, দুঃখ, গন্ধ, রূপ, স্বাদ ইত্যাদি) কোনো যৌগিক বিষয় নয়; এগুলো মানুষের একান্ত নিজস্ব ও অবিভাজ্য মানসিক অবস্থা।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১-এ চৈতালীর মাটির গন্ধ ভালো লাগা, বৃষ্টির টাপুর-টুপুর শব্দে মন ভরে যাওয়া বা বৃষ্টিতে ভিজতে না পারায় দুঃখ পাওয়ার মতো মানসিক অনুভূতির কথা বলা হয়েছে। আনন্দ, দুঃখ বা ইন্দ্রিয়ানুভূতির এই মৌলিক রূপগুলোকে কোনো সার্বিক বৈজ্ঞানিক নিয়মের অধীনে এনে বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। ফলে এ জাতীয় মৌলিক চেতনা বা মানসিক অবস্থা ব্যাখ্যার সীমার বহির্ভূত বিষয়কে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২-এ 'লৌকিক ব্যাখ্যা' এবং দৃশ্যপট-৩-এ 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' নির্দেশিত হয়েছে। নিম্নে এদের মধ্যে ব্যাখ্যাগত পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: যে ব্যাখ্যায় কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় না করে অলৌকিক বা কাল্পনিক কারণের আশ্রয় নেওয়া হয়, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। অন্যদিকে, যে ব্যাখ্যায় প্রাকৃতিক নিয়ম ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে কোনো জটিল বিষয়কে সরল করা হয়, তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে। দৃশ্যপট-২-এ পৃথিবী ঘোরার মতো একটি প্রাকৃতিক ঘটনার কারণ হিসেবে হাতির শুঁড় নাড়ানোকে দায়ী করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও লৌকিক ব্যাখ্যা। পক্ষান্তরে, দৃশ্যপট-৩-এ ভাপা পিঠার উপাদানগুলোকে (চালের গুঁড়ি, গুড়, নারিকেল, দুধ, লবণ) আলাদা করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্যতম রূপ বা বিশ্লেষণ পদ্ধতিকে প্রকাশ করে।
২. কার্যকারণ সম্পর্কের উপস্থিতি: দৃশ্যপট-২-এর ব্যাখ্যায় কোনো বাস্তব কার্যকারণ সম্পর্ক নেই; এটি একটি মনগড়া বিশ্বাস। কিন্তু দৃশ্যপট-৩-এ সামগ্রিক বস্তুটির ভেতরের উপাদানগুলোর বাস্তব ও প্রত্যক্ষ বিশ্লেষণ রয়েছে।
৩. যাচাইযোগ্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা: দৃশ্যপট-২-এর বক্তব্য কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত বা পরীক্ষণযোগ্য নয়। এটি ব্যক্তিনির্ভর এবং কুসংস্কারপ্রসূত। অপরপক্ষে, দৃশ্যপট-৩-এর বক্তব্য সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ, বাস্তবসম্মত ও যাচাইযোগ্য।
৪. পদ্ধতিগত ভিন্নতা: দৃশ্যপট-২-এ বাহ্যিক সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে অতিপ্রাকৃতিক কারণ আরোপ করা হয়েছে। আর দৃশ্যপট-৩-এ বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ পদ্ধতির সাহায্যে একটি মিশ্র বস্তুর স্বতন্ত্র অংশগুলোকে পৃথক করে কার্যকারণ সম্পর্ক স্পষ্ট করা হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, দৃশ্যপট-২ কুসংস্কারভিত্তিক অবৈজ্ঞানিক লৌকিক ব্যাখ্যাকে নির্দেশ করে, আর দৃশ্যপট-৩ বস্তুনিষ্ঠ ও বিজ্ঞানসম্মত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকে উপস্থাপন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও