বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

শিক্ষিত মেয়ে রাশেদা বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িতে এসে দেখতে পায় গ্রামের লোকেরা নানা কু-সংস্কারে আচ্ছন্ন। অশিক্ষিত ও সরল ধর্মপ্রাণ মানুষগুলো নানাভাবে সিরাজ মাতব্বরের শোষণের শিকার। পূর্বপুরুষের একটি কবরকে মাজার ঘোষণা দিয়ে ভয় দেখিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষদের শোষণ করে। নারীর স্বাধীনতা কেড়ে নেয় এবং নারীকে ঘরেবন্দি থাকতে বাধ্য করে। এ সব দেখে রাশেদা প্রতিবাদী হয়ে উঠে। একদিন সিরাজ এক নিরীহ নারীকে অপবাদ দিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে রাশেদা তারও বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। তার সাহস আর দৃঢ়তায় গ্রামের মানুষজন একত্রিত হয় এবং সিরাজের ভণ্ডামি ও ষড়যন্ত্রের মুখোশ খুলে দেয়।

  1. ক)

    কে মহব্বতনগর গ্রামে স্কুল খুলতে চায়?

    (1)
  2. খ)

    "খোদার এলেমে বুক ভরেনা তলায় পেট শূন্য বলে" কেন বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রাশেদা 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের সাথে তুলনীয়? তুলনার কারণ আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে মহব্বতনগর গ্রামের সমাজচিত্র অনেকখানি প্রতিফলিত হয়েছে" উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মোদেচ্ছের মিঞার ছেলে আক্কাস মহব্বতনগর গ্রামে স্কুল খুলতে চায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "খোদার এলেমে বুক ভরেনা তলায় পেট শূন্য বলে"-উক্তিটির মাধ্যমে মানুষের ক্ষুধার বাস্তব সত্য এবং জীবিকার প্রয়োজনে আধ্যাত্মিকতার চেয়ে অন্নের অপরিহার্যতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, পাহাড়ি শস্যহীন অঞ্চলের মানুষ ধর্মীয় অনুশাসনে অভ্যস্ত থাকলেও ক্ষুধা তাদের বাস্তব সংকট ছিল। শুধু ধর্মচর্চা বা খোদার জ্ঞানে ক্ষুধা নিবৃত্ত হয় না; বেঁচে থাকার জন্য সবার আগে প্রয়োজন অন্ন বা খাদ্য। ক্ষুধার্ত পেটের সেই তীব্র যন্ত্রণার কথাই উপন্যাসে এই বাস্তবসম্মত মন্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রাশেদা 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা চরিত্রের সাথে তুলনীয়।

    'লালসালু' উপন্যাসে জমিলা ছিল কিশোরী ও মুক্তচিন্তার এক চরিত্র। মজিদের ভণ্ড ধর্মীয় অনুশাসন, কঠোর পর্দা এবং অন্ধ আনুগত্য মেনে নিতে তার স্বাভাবিক সত্তা বিদ্রোহ করত। মজিদের আধিপত্য ও মাজারকেন্দ্রিক ভয়ভীতিকে জমিলা মনেপ্রাণে তোয়াক্কা করেনি, এমনকি মজিদের মুখে থুথু নিক্ষেপ করে নিজের নীরব কিন্তু তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করেছিল।

    উদ্দীপকের রাশেদাও শিক্ষিত ও সচেতন এক নারী, যে সিরাজ মাতব্বরের মাজারকেন্দ্রিক শোষণ, নারীর বন্দিদশা এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে। তবে জমিলা অপ্রকাশ্য ও ব্যক্তিগতভাবে মজিদের অপশক্তির বিরুদ্ধে অনমনীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, আর রাশেদা সংঘবদ্ধভাবে সামাজিকভাবে এর মোকাবিলা করেছে। অন্যায় ও ধর্মীয় শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন নারী চরিত্র হিসেবে রাশেদা লালসালুর জমিলার প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গেই তুলনীয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকে মহব্বতনগর গ্রামের সমাজচিত্র অনেকখানি প্রতিফলিত হয়েছে"-উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    'লালসালু' উপন্যাসে মহব্বতনগর গ্রামের পটভূমিতে গ্রামীণ সমাজের অজ্ঞতা, অশিক্ষা, অন্ধবিশ্বাস এবং ধর্মভিত্তিক শোষণের নির্মম চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মজিদ নামের এক চতুর ব্যক্তি একটি পরিত্যক্ত কবরকে 'মোদাচ্ছের পীরের মাজার' বানিয়ে সাধারণ ও সরল গ্রামবাসীকে পাপ ও আখেরাতের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘকাল শোষণ করেছে এবং নারীদের ওপর সামাজিক বিধিনিষেধ চাপিয়ে পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

    উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটেও একই সমাজবাস্তবতা দেখা যায়। সেখানে সিরাজ মাতব্বর গ্রামের অশিক্ষিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষকে পূর্বপুরুষের একটি কবরকে মাজার বানিয়ে ভয়ের মাধ্যমে শোষণ করেছে। নারীর স্বাধীনতা হরণ ও নারীকে ঘরে বন্দি রাখার মাধ্যমে মহব্বতনগরের মতোই ধর্মীয় ও পিতৃতান্ত্রিক আধিপত্য কায়েম রাখা হয়েছিল। উপরন্তু, নিরীহ নারীর ওপর অপবাদ দিয়ে সমাজে আধিপত্য বজায় রাখার অপচেষ্টাও লালসালু উপন্যাসের রহিমা-জমিলা বা আমেনা বিবির লাঞ্ছনার বাস্তব সমাজচিত্রকে প্রতিফলিত করে।

    যদিও উপন্যাসে মজিদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত সমষ্টিগত প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি এবং উদ্দীপকে রাশেদার নেতৃত্বে সিরাজের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে, তবুও শোষণের কৌশল, অন্ধবিশ্বাস এবং গ্রামীণ কাঠামোর দিক থেকে উদ্দীপকে মহব্বতনগর গ্রামের অন্ধ সমাজচিত্রের গভীর প্রতিফলন ঘটেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন