‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

খ' একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। রাষ্ট্র পূর্ব ও পশ্চিম দুই অংশে বিভক্ত ছিল। রাষ্ট্রটির অধিকাংশ শাসকগোষ্ঠী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ পশ্চিম অংশে বসবাস করতেন। তারা নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে রাষ্ট্রটির সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা ও সংস্কৃতি বাদ দিয়ে সংখ্যালঘিষ্ঠের ভাষা ও সংস্কৃতিকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে শেষ পর্যন্ত শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রতিবাদ ও আত্মত্যাগের কারণে নিজেদের সিন্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়।

  1. ক)

    ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    বারাসাত বিদ্রোহ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উপরের উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উস্ত্র আন্দোলন পরবর্তীতে ঐ ভাষাভাষী মানুষকে অন্যান্য আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান গণপরিষদের একজন সদস্য এবং পূর্ব বাংলার প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, যিনি ১৯৪৮ সালে গণপরিষদে প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার ঐতিহাসিক দাবি উত্থাপন করেছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বারাসাত বিদ্রোহ বলতে ১৮৩১ সালে ব্রিটিশ নীলকর এবং স্থানীয় অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত সশস্ত্র কৃষক আন্দোলনকে বোঝায়। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার বারাসাত সংলগ্ন অঞ্চলে তিনি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, যা ইতিহাসে বারাসাত বিদ্রোহ নামে খ্যাত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৫২ সালের মহান 'ভাষা আন্দোলন'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, দুটি অংশে বিভক্ত একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে অবজ্ঞা করে সংখ্যালঘিষ্ঠের ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ আন্দোলন ও আত্মত্যাগ করে নিজেদের দাবি আদায় করে।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর দেশটির ৫৬.৪% মানুষের মাতৃভাষা ছিল বাংলা। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের দাবিকে উপেক্ষা করে মাত্র শতকরা ৭ ভাগের ভাষা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র করে। এর প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বরকত, রফিক, সালাম, জব্বার প্রমুখের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা আদায়ে বাধ্য করে। উদ্দীপকের ঘটনাটি ভাষা আন্দোলনের এই ঐতিহাসিক পটভূমির সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি এবং এটিই পরবর্তীতে এ অঞ্চলের মানুষকে সব গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছিল—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।

    ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালি প্রথম উপলব্ধি করেছিল যে পশ্চিম পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী শুধু ভাষার ওপর নয়, বাঙালির সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক অধিকারের ওপরও আঘাত হানছে। ফলে ভাষা আন্দোলনই দ্বিজাতিতত্ত্বের কৃত্রিম বাঁধন ভেঙে ধর্মভিত্তিক পরিচয়ের পরিবর্তে বাঙালিকে ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে একতাবদ্ধ করে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়।

    এই ভাষা আন্দোলনের চেতনার ধারাবাহিকতাতেই ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের চরম পরাজয় ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়।

    সর্বোপরি, এই আন্দোলনের অনুপ্রেরণাতেই ১৯৭১ সালে বীর বাঙালি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। সুতরাং, ভাষা আন্দোলনই ছিল পরবর্তী সমস্ত আন্দোলনের মূল প্রেরণা ও চালিকাশক্তি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন