অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

নিম্নে বাংলাদেশের জনসংখ্যার পরিমাণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তুলে ধরা হলো:

  1. ক)

    কাম্য জনসংখ্যা বলতে কী বোঝ?

    (1)
  2. খ)

    জনসংখ্যা ঘনত্বের ওপর জন্মহারের প্রভাব কীরূপ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের গতিধারা আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দেশের প্রাকৃতিক ও অন্যান্য সম্পদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যে পরিমাণ জনসংখ্যার ক্ষেত্রে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা (Optimum Population) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনসংখ্যার ঘনত্বের ওপর জন্মহারের প্রভাব অত্যন্ত প্রত্যক্ষ ও ইতিবাচক (সরাসরি)।

    কোনো দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটারে যতজন লোক বাস করে, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে। অন্যান্য অবস্থা (যেমন—মৃত্যুহার ও নিট অভিবাসন) অপরিবর্তিত থাকলে জন্মহার বৃদ্ধি পেলে মোট জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। যেহেতু দেশের ভৌগোলিক আয়তন নির্দিষ্ট থাকে, তাই বর্ধিত জনসংখ্যার কারণে নির্দিষ্ট আয়তনে লোকের সংখ্যা বাড়ে এবং স্বাভাবিকভাবেই জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। বিপরীতভাবে জন্মহার হ্রাস পেলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধির গতি মন্থর হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ১৯৭১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের গতিধারা উপস্থাপন করা হয়েছে, যা মূলত একটি ক্রমহ্রাসমান ধারা নির্দেশ করে।

    সারণি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
    ১. ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২.৪৮%।
    ২. ১৯৮১ সালে তা হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় ২.৩৫%-এ।
    ৩. ১৯৯১ সালে বৃদ্ধির হার আরও কমে হয় ২.১৭%।
    ৪. ২০০১ সালে তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে ১.৫৯%-এ নেমে আসে।
    ৫. ২০১১ সালে বৃদ্ধির হার ছিল ১.৫৭% এবং সর্বশেষ ২০২১ সালে তা আরও হ্রাস পেয়ে ১.৩৭%-এ এসে দাঁড়িয়েছে।

    অতএব, উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী ১৯৭১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০ বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধারাবাহিক ও ক্রমাগতভাবে হ্রাস পেয়েছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম গ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে এই নিম্নমুখী গতিধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সারণিতে দেখা যায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭.৬৪ কোটি, যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২১ সালে ১৬.৮২ কোটিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.৪৮% থেকে ক্রমাগত হ্রাস পেয়ে ১.৩৭%-এ নেমে এসেছে। এটি আপাতদৃষ্টিতে বিপরীতমুখী মনে হলেও এর পেছনে সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও জনমিতিক কারণ রয়েছে।

    প্রথমত, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পাওয়ার অর্থ হলো জনসংখ্যা আগের মতো দ্রুত হারে বাড়ছে না, কিন্তু বৃদ্ধির হার এখনো ধনাত্মক (Positive)। বৃদ্ধির হার শূন্য বা ঋণাত্মক না হওয়া পর্যন্ত প্রতি বছরই নতুন জনসংখ্যা পূর্বের মোট জনসংখ্যার সাথে যুক্ত হতে থাকে। যেহেতু বাংলাদেশের প্রাথমিক জনসংখ্যার ভিত্তি (Base Population) অনেক বড়, তাই তুলনামূলক কম হারে বাড়লেও প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ মোট জনসংখ্যায় যোগ হচ্ছে।

    দ্বিতীয়ত, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:
    ১. শিক্ষার প্রসার ও সচেতনতা: বিশেষ করে নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসারের ফলে বাল্যবিয়ে হ্রাস পেয়েছে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
    ২. পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম: সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সহজলভ্যতা ও পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ।
    ৩. নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান: অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ফলে সন্তান গ্রহণের প্রবণতা কমেছে।
    ৪. চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন: শিশুমৃত্যুর হার কমে যাওয়ায় অধিক সন্তান জন্মদানের মানসিকতা পরিবর্তিত হয়েছে।

    সুতরাং, জন্মহার নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমাগত হ্রাস পেলেও পূর্বে বিদ্যমান বিশাল জনসংখ্যার ভিত্তির কারণে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন