গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ কাকে বলে?
- খ)(2)
টেস্টিং সল্ট মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর— বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে A চিহ্নিত স্থানে যে রাসায়নিক দ্রব্যকে বোঝানো হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে A ও B চিহ্নিত দ্রব্যগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতা আবশ্যক— উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবাণুযুক্ত বা দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে মানবদেহে যেসব সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটে, সেগুলোকে খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
টেস্টিং সল্ট বা মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (MSG) খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হলেও এটি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট গ্রহণে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, মাথাব্যথা, বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা এবং স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে এটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং মস্তিষ্কের ক্ষতিসাধন করে। তাই টেস্টিং সল্ট মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত স্থানে ফল পাকাতে এবং শাকসবজি সতেজ রাখতে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য হিসেবে কার্বাইড (ক্যালসিয়াম কার্বাইড) বা ইথিলিন/হরমোনজাতীয় ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যকে নির্দেশ করা হয়েছে।
অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচা ফল দ্রুত পাকাতে এবং শাকসবজি দীর্ঘক্ষণ তাজা ও সতেজ দেখানোর জন্য ক্যালসিয়াম কার্বাইডসহ বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করে। ক্যালসিয়াম কার্বাইড আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে অ্যাসিটিলিন গ্যাস উৎপন্ন করে, যা ফলকে দ্রুত কৃত্রিমভাবে পাকায়। এসব রাসায়নিকের সাথে আর্সেনিক ও ফসফরাসের মতো বিপজ্জনক উপাদান মিশ্রিত থাকে। এর ফলে খাদ্য বিষাক্ত হয়ে পড়ে। ফল ও শাকসবজিতে এই জাতীয় রাসায়নিকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ, কারণ তা পাকস্থলীর প্রদাহ, লিভার ও কিডনির ক্ষতি এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'A' হলো ফল পাকাতে ও শাকসবজি সতেজ রাখতে ব্যবহৃত কার্বাইডজাতীয় রাসায়নিক এবং 'B' হলো ফল ও মাছ সংরক্ষণে ব্যবহৃত ফরমালিন। এসব রাসায়নিক দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতা আবশ্যক—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
ফরমালিন ও কার্বাইডের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত খাদ্য গ্রহণের ফলে মানবদেহে পেটের পীড়া, আলসার, লিভার সিরোসিস, কিডনি বিকল হওয়া, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি হতে পারে। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে এর কুফল আরও মারাত্মক।
আইন প্রয়োগ ও সরকারি নজরদারির পাশাপাশি এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে জনসচেতনতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। ভোক্তাসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে মানুষ কৃত্রিমভাবে চকচকে বা অস্বাভাবিকভাবে পাকা ফলমূল ও বিষাক্ত খাদ্যদ্রব্য কেনা থেকে বিরত থাকবে। একই সাথে ফল ও শাকসবজি খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধোয়া, লবণ-পানিতে ভিজিয়ে রাখা ইত্যাদি নিয়ম মেনে চললে বিষাক্ততার ঝুঁকি কিছুটা হ্রাস পায়। এছাড়া ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে নৈতিকতাবোধ ও এসব রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে তারা খাদ্যে ভেজাল মেশানো থেকে বিরত থাকবে। সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার ও এর ক্ষতিকর প্রভাব কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও