ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

COVID-19 এর কারণে দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় এ খাতে বিনিয়োগ কমে যায়। বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোতে অলস অর্থের পরিমাণ বাড়তে থাকে। বর্তমানে লকডাউনের সময় বিভিন্ন পেশার মানুষ কৃষকদের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য চাষে মনোনিবেশ করছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে স্বল্প সুদে কৃষি ও মৎস্য খাতে ৫০% ঋণ দেওয়ার জন্য নির্দেশনা জারি করে।

  1. ক)

    ব্যাংক ব্যবস্থায় তারল্য কী?

    (1)
  2. খ)

    আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার পূর্বসূরি কারা?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপটি ঋণ নিয়ন্ত্রণের কোন পদ্ধতির সাথে সম্পৃক্ত ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ও মৎস্য খাতে ঋণ প্রদানের নির্দেশনাটির যৌক্তিকতা উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রাহকের চাহিবামাত্র আমানতের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ব্যাংকের নগদ অর্থ বা সহজে রূপান্তরযোগ্য সম্পদে ধারণ করার সামর্থ্যকে ব্যাংক ব্যবস্থায় তারল্য (Liquidity) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মধ্যযুগের স্বর্ণকার, মহাজন ও ব্যবসায়ী শ্রেণি—এই তিন শ্রেণিকে আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার পূর্বসূরি বলা হয়।

    প্রাচীন ও মধ্যযুগে নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষ স্বর্ণকারদের কাছে সোনা-রুপা ও অর্থ জমা রাখত এবং স্বর্ণকাররা তার বিপরীতে রসিদ দিত, যা পরবর্তীতে কাগজি মুদ্রার রূপ নেয়। এছাড়া মহাজনদের সুদে ঋণ প্রদান এবং ব্যবসায়ীদের দূরদূরান্তে অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া থেকেই আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপটি ঋণ নিয়ন্ত্রণের গুণগত বা নির্বাচনী পদ্ধতির 'ঋণের রেশনিং' (Credit Rationing) পদ্ধতির সাথে সম্পৃক্ত।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কল্যাণে বিভিন্ন খাতে ঋণের সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন কোটা নির্ধারণ করে দেয় অথবা নির্দিষ্ট অগ্রাধিকারমূলক খাতে নির্দিষ্ট হারে ঋণ বিতরণের নির্দেশ দেয়, তাকে ঋণের রেশনিং বা বরাদ্দকরণ পদ্ধতি বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, করোনা মহামারির সময়ে দেশের ব্যবসায় স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় অলস অর্থ দূর করতে এবং খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের ৫০% স্বল্প সুদে কৃষি ও মৎস্য খাতে দেওয়ার নির্দেশনা জারি করে। নির্দিষ্ট এই দুটি উৎপাদনশীল খাতে ঋণের হার নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কারণে এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের গুণগত পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত ঋণের রেশনিংকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে কৃষি ও মৎস্য খাতে ঋণ প্রদানের নির্দেশনাটি অত্যন্ত বাস্তবমুখী, দূরদর্শী ও সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

    COVID-19 মহামারির কারণে যখন দেশের শিল্প-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছিল এবং বিনিয়োগ হ্রাস পেয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বিপুল অলস অর্থ জমে যাচ্ছিল, তখন উৎপাদনশীল খাতে সেই অর্থ স্থানান্তর করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। অন্যদিকে লকডাউনের প্রেক্ষাপটে মানুষ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও বেকারত্ব এড়াতে কৃষি ও মৎস্য চাষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আত্মনিয়োগ করছিল।

    এমতাবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫০% স্বল্প সুদে ঋণ নির্দেশনার কারণে নিম্নোক্ত ইতিবাচক প্রভাব পড়ে:
    ১. অলস অর্থের সদ্ব্যবহার: ব্যাংকের অলস অর্থ লাভজনক ও উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
    ২. খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান: কৃষি ও মৎস্য খাতে মূলধন সরবরাহের মাধ্যমে দেশের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত হয় এবং নতুন কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকে।
    ৩. অর্থনৈতিক স্থবিরতা দূরীকরণ: গ্রামীণ ও প্রাথমিক অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি সচল রেখে মন্দাভাব কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়।

    সুতরাং, দেশের তৎকালীন অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও বাস্তব চাহিদার নিরিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন