বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

এই পবিত্র বাংলাদেশবাঙালির আমাদেরদিয়া প্রহারেণ ধনঞ্জয়তাড়াব আমরা, করি না ভয়যত পরদেশি দস্যু ডাকাতরামাদের গামাদেরবাংলা বাঙালির হোক; বাংলার জয় হোকবাঙালির জয় হোক।

  1. ক)

    মিরজাফরের মনোবাসনা কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    ইংরেজরা ডাচ ও ফরাসিদের সাহায্য চেয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের পরদেশি দস্যু ডাকাত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে যাদের উন্মোচন করে তাদের পরিচয় তুলে ধর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলার জয় সম্ভব হয়নি মূলত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের বিচক্ষণতার অভাবে"-উক্তিটির যথার্থতা বিচার কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মিরজাফরের মনোবাসনা ছিল যেকোনো মূল্যে বাংলার সিংহাসন বা নবাবির মসনদ লাভ করা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব সিরাজউদ্দৌলার সম্ভাব্য আক্রমণ ও ক্রোধ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ইংরেজরা ডাচ ও ফরাসিদের সাহায্য চেয়েছিল।

    নবাব সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে আরোহণ করার পর ইংরেজরা তাঁর আনুগত্য স্বীকার না করে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে, বাংলায় দুর্গ নির্মাণ চালিয়ে যায় এবং নবাবের নির্দেশ অমান্য করে। নবাব যখন তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কলকাতা আক্রমণের প্রস্তুতি নেন, তখন ইংরেজরা ভীত হয়ে পড়ে। তারা তাদের বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ ইউরোপীয় শক্তি হিসেবে ডাচ ও ফরাসিদের একতাবদ্ধ করে নবাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তাদের সাহায্য চেয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'পরদেশি দস্যু ডাকাত' কথাটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে লর্ড ক্লাইভ, ওয়াটস, ড্রেকসহ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দখলদার ও লুটেরা চরিত্রগুলোকে উন্মোচন করে।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, ইংরেজরা বাংলায় এসেছিল মূলত বাণিজ্য করার অজুহাতে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে তারা এদেশের ধনসম্পদ লুণ্ঠন, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিনা শুল্কে বাণিজ্য এবং অবৈধ সামরিক আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে। তারা কেবল শোষকই ছিল না, বরং স্থানীয় কুচক্রীদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে দেশের স্বাধীনতা হরণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। তাদের এই আগ্রাসী, ধূর্ত ও লুণ্ঠনমূলক স্বভাব উদ্দীপকের 'পরদেশি দস্যু ডাকাত' অভিধার সাথে হুবহু মিলে যায়, যারা নিজেদের লাভের জন্য যেকোনো জঘন্য পথ অবলম্বন করতে দ্বিধাবোধ করত না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলার জয় সম্ভব হয়নি মূলত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের বিচক্ষণতার অভাবে"—মন্তব্যটি পুরোপুরি সত্য নয়, বরং আংশিক সত্য।

    উদ্দীপকে দেশপ্রেমিক ঐক্য ও শক্তি দিয়ে পরদেশি আক্রমণকারীদের বিতাড়িত করে বাংলা ও বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়ের আকঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে। কিন্তু 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে সেই জয় অর্জিত হয়নি। এর পেছনে নবাবের রাজনৈতিক ও রণনৈতিক কিছু সিদ্ধান্তহীনতা নিঃসন্দেহে ছিল। তিনি বারবার বিশ্বাসভঙ্গকারী মিরজাফরকে কোরআন স্পর্শ করিয়ে ক্ষমা করেছিলেন এবং সেনাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেননি। পলাশীর যুদ্ধে চূড়ান্ত মুহূর্তে মিরজাফরের পরামর্শে যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়া ছিল এক মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত, যা তাঁর অতিমাত্রার আবেগপ্রবণতা ও দূরদর্শিতার অভাবকেই নির্দেশ করে।

    তবে এই ব্যর্থতার একক দায় কেবল সিরাজের বিচক্ষণতার অভাবের ওপর চাপানো সমীচীন নয়। বাংলার স্বাধীনতা হারানোর মূল কারণ ছিল এদেশের উচ্চাভিলাষী ও স্বার্থান্বেষী অমাত্য-বণিক চক্র—মিরজাফর, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ ও ঘসেটি বেগমদের চরম বিশ্বাসঘাতকতা। সিরাজ একা দেশপ্রেমের আদর্শ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও পুরো দরবার ভেতর থেকেই পচে গিয়েছিল। সামগ্রিক ষড়যন্ত্রের জাল এতোটাই বিস্তৃত ছিল যে, নবাবের পক্ষে তা একা ছিন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

    অতএব, সিরাজের বিচক্ষণতার কিছুটা ঘাটতি ও অতি-উদারতা পরাজয়কে ত্বরান্বিত করলেও, মূলত অভ্যন্তরীণ চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের কারণেই উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলার জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন