বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ইবসেনের 'ডলস হাউস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র নোরা। সে গৃহে প্রতিনিয়ত স্বামীর অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্বামীর ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। নোরা স্বামীর ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সময় সশব্দে দরোজাটি বাইরে থেকে বন্ধ করেছিল। এই শব্দেই যেন ইউরোপে নারীর জাগরণ শুরু হয়।
- ক)(1)
'নিরাক পড়া' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
"গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ"-ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের নোরা 'লালসালু' উপন্যাসের যে চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের মর্মকথা এবং 'লালসালু' উপন্যাসের অত্যাচার থেকে নারী মুক্তির প্রত্যাশা অভিন্ন"-মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'নিরাক পড়া' শব্দের অর্থ হলো গুমোট বা বাতাসহীন অবস্থা (অনাবৃষ্টির সময় প্রচণ্ড গরম ও নিশ্চল আবহাওয়া)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ" বলতে মজিদের প্রতি গ্রামের সাধারণ মানুষের অন্ধ আনুগত্য, মোহগ্রস্ততা ও নীরব ভীতিকে বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে রহিমা যেমন মজিদকে পরম ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভয় করত এবং তার প্রতিটি নির্দেশ বিনা প্রশ্নে মেনে চলত, তেমনি মহব্বতনগর গ্রামের সাধারণ মানুষেরাও মজিদের তৈরি করা ধর্মীয় ভীতি ও কুসংস্কারের খাঁচায় বন্দি ছিল। তারা নিজের বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে মজিদের ভণ্ডামির প্রতিবাদ না করে রহিমার মতোই নীরব ও আজ্ঞাবহ জীবনযাপন করত। এ কারণেই লেখক গ্রামের মানুষদের রহিমারই অন্য সংস্করণ বলে অভিহিত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নোরা 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'লালসালু' উপন্যাসে জমিলা মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে প্রবেশ করে। সে ছিল প্রাণচঞ্চল, স্বাধীনচেতা ও সংস্কারমুক্ত এক কিশোরী। মজিদের ভণ্ড ধর্মীয় অনুশাসন, চাপিয়ে দেওয়া বিধিনিষেধ কিংবা ভীতি প্রদর্শন—কোনো কিছুই জমিলার ভেতরের সহজাত প্রতিবাদী চেতনাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। মজিদের আরোপিত কৃত্রিম শৃঙ্খলকে সে বারবার অস্বীকার করেছে এবং এমনকি মজিদের মুখে থুথু ছিটিয়ে অবাধ্যতার চরম প্রকাশ ঘটিয়েছে।
উদ্দীপকে ইবসেনের 'ডলস হাউস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র নোরা স্বামীর অন্যায় অত্যাচার ও অধীনতা মেনে না নিয়ে সশব্দে ঘরের দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে আসে, যা নারীর আত্মমর্যাদাবোধ ও মুক্তির প্রতীক। ঠিক একইভাবে 'লালসালু' উপন্যাসে জমিলাও মজিদের অন্যায় আধিপত্যের বিরুদ্ধে নীরব অথচ অনমনীয় প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাই মজিদের কর্তৃত্ববাদী আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দিক থেকে নোরা জমিলারই প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের মর্মকথা এবং 'লালসালু' উপন্যাসের অত্যাচার থেকে নারী মুক্তির প্রত্যাশা অভিন্ন"—উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকের পটভূমি ইউরোপীয় সমাজের এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক দাম্পত্য জীবন নিয়ে, যেখানে নোরা স্বামীর নির্যাতন ও পুতুলসুলভ অবস্থান থেকে মুক্তি পেতে ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজের মুক্তির পথ বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে 'লালসালু' উপন্যাসের পটভূমি আবহমান গ্রামবাংলার ধর্মীয় কুসংস্কার ও পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক ব্যবস্থা, যেখানে ধর্মব্যবসায়ী মজিদের শাসনের শিকার রহিমা ও জমিলা।
উপন্যাসে রহিমা মজিদের ধর্মীয় আধিপত্য ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নীরব শিকার; সে নিপীড়ন সহ্য করেও কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। তবে জমিলার মাধ্যমে এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে চরম প্রতিরোধের রূপ উন্মোচিত হয়। জমিলা মজিদের মিথ্যা ধর্মীয় অনুশাসন ও আধিপত্য মেনে নেয়নি। মাজারের অন্ধকারে নিথর ও একা পড়ে থাকা সত্ত্বেও জমিলার শক্ত অবস্থান এবং মজিদের মুখে থুতু নিক্ষেপ ছিল পুরুষতান্ত্রিক ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে এক চিরন্তন বিদ্রোহ। নোরার সশব্দে দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে যাওয়া যেমন নারীর আত্মজাগরণ সূচিত করেছিল, জমিলার এই বিদ্রোহও কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামীণ সমাজে নারীর আত্মমর্যাদার জাগরণ নির্দেশ করে।
সুতরাং দেখা যায়, দেশকাল ও সমাজভেদে পটভূমি আলাদা হলেও পুরুষতান্ত্রিক অত্যাচার ও বঞ্চনার শৃঙ্খল ভেঙে নারীর স্বাধিকার ও মুক্তি অর্জনের প্রত্যাশার দিক থেকে উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের মূল সুর এক ও অভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও