অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
রতনের শিক্ষক উপরের ছবির মাধ্যমে ক্লাসে একটি জনসংখ্যা তত্ত্ব ব্যাখ্যা করছিলেন। সে তখন বুঝতে পারে যে তার দেশ অতি জনবহুল। তাই সে চাকরির চিন্তা না করে পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে হাঁস, মুরগি ও মাছের খামার এবং একটি নার্সারি গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে সে আরো পাঁচজনের কর্মসংস্থান করতে সক্ষম হয়।

- ক)(1)
বেকারত্ব কি?
- খ)(2)
জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টির সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্পর্ক কিরূপ? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
প্রদত্ত চিত্র থেকে a ও c বিন্দুতে অসামঞ্জস্য মান নির্ণয় কর এবং এর ভিত্তিতে নিম্ন জনসংখ্যা চিহ্নিত করো।
- ঘ)(4)
রতনের মতো কর্মসংস্থানের জন্য তোমার করনীয় কি? আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রচলিত মজুরিতে কাজ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তি যদি উপযুক্ত কাজ না পায়, তবে সেই অবস্থাকে বেকারত্ব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টির সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রত্যক্ষ ও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান উপাদান হলো শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, সুস্বাস্থ্য এবং পুষ্টি। একজন সুস্থ ও পুষ্টিকর খাবার পাওয়া নাগরিক মানসিকভাবে সজাগ ও শারীরিকভাবে কর্মক্ষম থাকে, যা তার উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে। অপরপক্ষে, অপুষ্টি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং কার্যক্ষমতা হ্রাস করে। ফলে স্বাস্থ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তা দিলে শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং মানবসম্পদের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রদত্ত চিত্রে কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব প্রতিফলিত হয়েছে। ডাল্টনের মতে, অসামঞ্জস্যের পরিমাপ (Degree of Maladjustment) নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:
এখানে,
= অসামঞ্জস্যের সূচক বা মান
= প্রকৃত জনসংখ্যা (Actual Population)
= কাম্য জনসংখ্যা (Optimum Population)চিত্রে দেখা যায়, বিন্দুতে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ (৪০০), ফলে কাম্য জনসংখ্যা কোটি।
বিন্দুতে অসামঞ্জস্য মান:
বিন্দুতে প্রকৃত জনসংখ্যা কোটি এবং কোটি।
অতএব,বিন্দুতে অসামঞ্জস্য মান:
বিন্দুতে প্রকৃত জনসংখ্যা কোটি এবং কোটি।
অতএব,নিম্ন জনসংখ্যা চিহ্নিতকরণ:
আমরা জানি, -এর মান ঋণাত্মক () হলে তা নিম্ন জনসংখ্যা (Under-population) নির্দেশ করে। যেহেতু বিন্দুতে অসামঞ্জস্যের মান ঋণাত্মক (), তাই বিন্দুটি নিম্ন জনসংখ্যা নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রতন গতানুগতিক চাকরির পেছনে না ছুটে স্বকর্মসংস্থানের পথ বেছে নিয়ে হাঁস-মুরগি, মাছের খামার ও নার্সারি স্থাপন করেছে এবং অন্যদেরও কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। রতনের মতো আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আমার করণীয় পদক্ষেপসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. উপযুক্ত বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্যচাষ, পশুপালন, উদ্যানপালন অথবা তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কোনো বিষয়ে ব্যবহারিক ও আধুনিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করব।
২. সম্ভাব্য ক্ষেত্র ও বাজার যাচাই: স্থানীয় বাজার ও চাহিদার বিশ্লেষণ করে লাভজনক খাত (যেমন—অর্গানিক কৃষিপণ্য, পোল্ট্রি বা ডেইরি ফার্ম) নির্বাচন করব।
৩. পরিকল্পনা প্রণয়ন ও মূলধন সংগ্রহ: একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করব এবং নিজস্ব সঞ্চয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কিংবা স্বল্প সুদে কৃষি/ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় মূলধন জোগাড় করব।
৪. ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: আত্মকর্মসংস্থানে ঝুঁকি মোকাবিলার সাহস ও ধৈর্য থাকা অপরিহার্য। পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক পদ্ধতি ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সুযোগ কাজে লাগাব।
৫. অন্যদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি: উদ্যোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় বেকার তরুণদের কাজে যুক্ত করে বেকারত্ব হ্রাসে ভূমিকা রাখব।
অতএব, চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্ব-উদ্যোগী মানসিকতা গড়ে তোলা এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে রতনের মতো কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও