পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ভারতবর্ষের শাসনতান্ত্রিক জটিলতার নিরসনকল্পে ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। ১৯১৯ সালে প্রাদেশিক শাসন সংক্রান্ত বিষয়কে দু'ভাগে বিভক্ত করে পরিচালনা করে। এখানে প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ছিল মূলত গভর্নরের হাতে ১৯৩৫ সালে আবার তা বাতিল করে প্রদেশের নিজস্ব শাসন ব্যবস্থাপ্রবর্তন করা হয়। এ আইনে প্রাদেশিক আইনসভার সর্বময় কর্তৃত্বের কথা বলা হলেও বাস্তবে গভর্নর জেনারেল, ভারত সচিব এবং প্রাদেশিক গভর্নরের প্রাধান্য বিদ্যমান ছিল।
- ক)(1)
কত সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়?
- খ)(2)
খাদ্যে ভেজাল বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথমাংশে ইঙ্গিতকৃত ব্যবস্থাটি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
তত্ত্বগতভাবে উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলেও বাস্তবে তা কতটুকু কার্যকরী ছিল বলে তুমি মনে কর? যুক্তিসহ লিখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্যদ্রব্যে কোনো ক্ষতিকর বা নিম্নমানের পদার্থ মেশানো কিংবা খাদ্যের প্রাকৃতিক গুণাগুণ নষ্ট করাকে খাদ্যে ভেজাল বলা হয়। অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা খাদ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, রঙ, ফরমালিন ইত্যাদি মিশ্রিত করে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথমাংশে ইঙ্গিতকৃত ব্যবস্থাটি হলো ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে প্রবর্তিত 'দ্বৈতশাসন' (Dyarchy) ব্যবস্থা।
১৯১৯ সালের মন্টেগু-চেমনফোর্ড সংস্কার আইনে প্রদেশগুলোতে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করা হয়। এর মাধ্যমে প্রাদেশিক সরকারের বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়— 'হস্তান্তরিত' (Transferred) এবং 'সংরক্ষিত' (Reserved)। কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন— স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি হস্তান্তরিত বিষয় হিসেবে ভারতীয় মন্ত্রীদের অধীনে রাখা হয়। পক্ষান্তরে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষমতাযুক্ত বিষয় যেমন— অর্থ, পুলিশ, রাজস্ব, বিচার বিভাগ ইত্যাদি সংরক্ষিত বিষয় হিসেবে গভর্নরের নিজস্ব নির্বাহী পরিষদের হাতে ন্যস্ত করা হয়। গভর্নর যেকোনো বিষয়ে ভেটো প্রয়োগ করতে পারতেন। ফলে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের নামমাত্র কাঠামো তৈরি হলেও প্রকৃত ক্ষমতা গভর্নরের হাতেই কুক্ষিগত ছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষাংশে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের 'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন' (Provincial Autonomy)-এর কথা বলা হয়েছে। তত্ত্বগতভাবে এই আইনে প্রদেশগুলোকে স্বায়ত্তশাসন প্রদান ও প্রাদেশিক আইনসভার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর ছিল না।
১৯৩৫ সালের আইনে তত্ত্বগতভাবে দ্বৈতশাসন বিলুপ্ত করে প্রদেশগুলোতে মন্ত্রীদের হাতে শাসনভার অর্পণ করা হয় এবং তারা আইনসভার নিকট দায়বদ্ধ ছিলেন। কিন্তু আইনের বিভিন্ন বিধানে গভর্নরকে ব্যাপক বিশেষ দায়িত্ব (Special Responsibilities) এবং স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Powers) দেওয়া হয়েছিল।
বাস্তবে গভর্নর চাইলে মন্ত্রীদের পরামর্শ উপেক্ষা করতে পারতেন, মন্ত্রিসভা ভেঙে দিতে পারতেন এবং জরুরি অবস্থা জারি করে প্রদেশের সমস্ত ক্ষমতা নিজ হাতে তুলে নিতে পারতেন। এছাড়া গভর্নর জেনারেল এবং ভারত সচিবের নিয়ন্ত্রণ প্রাদেশিক প্রশাসনের ওপর বজায় ছিল। সুতরাং, কাগজে-কলমে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও গভর্নরদের একচ্ছত্র আধিপত্য ও হস্তক্ষেপের কারণে বাস্তবে তা ছিল একটি ক্ষমতাহীন ও প্রহসনমূলক ব্যবস্থা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও